দেশে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন যতই ঘনিয়ে আসছে, ততই সাম্প্রদায়িক সহিংসতা উদ্বেগজনক হারে বৃদ্ধি পাচ্ছে। বাংলাদেশ হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের দাবি, সাম্প্রতিক সময়ে সংখ্যালঘু জনগোষ্ঠীকে লক্ষ্য করে ধারাবাহিকভাবে সংঘটিত সহিংসতা দেশের সামগ্রিক নিরাপত্তা ও গণতান্ত্রিক পরিবেশকে মারাত্মকভাবে প্রশ্নবিদ্ধ করছে। এসব ঘটনায় সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের মানুষের মধ্যে চরম আতঙ্ক ও অনিশ্চয়তা সৃষ্টি হয়েছে।
ঐক্য পরিষদের প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালের ডিসেম্বর মাসেই সারা দেশে অন্তত ৫১টি সাম্প্রদায়িক সহিংসতার ঘটনা ঘটেছে। এর মধ্যে ১০টি হত্যাকাণ্ড, ১০টি চুরি ও ডাকাতি, বাড়িঘর, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান, মন্দির ও জমিজমা দখল, লুটপাট ও অগ্নিসংযোগের মতো ঘটনা রয়েছে ২৩টি। পাশাপাশি ধর্মীয় অবমাননা ও ‘র’-এর দালালের মতো মিথ্যা অভিযোগে আটক ও নির্যাতনের ঘটনা ঘটেছে ৪টি, ধর্ষণচেষ্টার ঘটনা ১টি এবং শারীরিক নির্যাতনের ঘটনা ৩টি।

৪ জানুয়ারি এক স্বর্ণ ব্যবসায়ী শুভপোদ্দারকে মুখ বেঁধে তার দোকান থেকে প্রায় ৩০ ভরি স্বর্ণালংকার লুট করা হয়। একই দিনে ঝিনাইদহের কালীগঞ্জে এক হিন্দু বিধবা নারীকে ধর্ষণ করে গাছের সঙ্গে বেঁধে চুল কেটে নির্যাতনের ঘটনা দেশজুড়ে ব্যাপক ক্ষোভের জন্ম দেয়। কুড়িগ্রামে জেলা প্রশাসক ও রিটার্নিং অফিসার হিসেবে দায়িত্ব পালন করায় অন্নপূর্ণা দেবনাথের বিরুদ্ধে সাম্প্রদায়িক বিদ্বেষমূলক অপপ্রচার চালিয়ে তাকে দায়িত্ব থেকে অপসারণের দাবি তোলা হয়, যা প্রশাসনের নিরপেক্ষতা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছে।
গত ৫ জানুয়ারি যশোরের মনিরামপুরে বরফকল ব্যবসায়ী রানা প্রতাপ বৈরাগীকে প্রকাশ্যে গুলি ও গলা কেটে হত্যা করা হয়। একই দিন নরসিংদীর পলাশে মুদিদোকানি মণি চক্রবর্তীকে ছুরিকাঘাতে হত্যা করা হয়।

বাংলাদেশ হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের কেন্দ্রীয় কমিটি এক বিবৃতিতে এসব ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে বলেছে, সাম্প্রদায়িক সহিংসতার এই লাগামহীন প্রবণতায় সংখ্যালঘু জনগোষ্ঠী ভবিষ্যৎ নিয়ে গভীর শঙ্কায় দিন কাটাচ্ছে। বিশেষ করে আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তারা নির্ভয়ে ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারবে কিনা, তা নিয়ে চরম উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
ঐক্য পরিষদের অভিযোগ, একটি সংঘবদ্ধ সাম্প্রদায়িক দুর্বৃত্তচক্র পরিকল্পিতভাবে সংখ্যালঘুদের ভয়ভীতি দেখিয়ে নির্বাচনে অংশগ্রহণ থেকে বিরত রাখতে এসব ঘৃণ্য কর্মকাণ্ড চালিয়ে যাচ্ছে। সংগঠনটি অবিলম্বে এসব সহিংসতা বন্ধে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ, দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করা এবং সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তা ও ভোটাধিকার রক্ষায় সরকার ও নির্বাচন কমিশনের জরুরি হস্তক্ষেপ দাবি করেছে।
প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক মনীন্দ্র কুমার নাথ বলেন, “ধর্ম যার যার, রাষ্ট্র সবার—এই চেতনায় বিশ্বাসী হয়ে আমরা একটি ধর্মনিরপেক্ষ বাংলাদেশ চাই। সাম্প্রদায়িক সহিংসতা বন্ধ না হলে গণতন্ত্র ও মানবাধিকার চরমভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে।”

মতামত