শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০ আশ্বিন ১৪৩৩
হিন্দুস নিউজ
Hindus News Voice of Hinduism
আপনার পণ্য ও প্রতিষ্ঠানের বিজ্ঞাপন দিন Hindus News এ।

শতবর্ষী ঐতিহ্য ধরে রাখল ‘জগন্নাথের মিষ্টান্ন মেলা’



শতবর্ষী ঐতিহ্য ধরে রাখল ‘জগন্নাথের মিষ্টান্ন মেলা’
Hindus News Voice of Hinduism
আপনার পণ্য ও প্রতিষ্ঠানের বিজ্ঞাপন দিন Hindus News এ।

দিরাই উপজেলায় শতবর্ষী ঐতিহ্যবাহী মিষ্টান্ন মেলা—স্থানীয়ভাবে পরিচিত ‘জগন্নাথের মেলা’—ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্য ও উৎসবমুখর পরিবেশে অনুষ্ঠিত হয়েছে। মঙ্গলবার দিনব্যাপী দিরাই পৌরসভার মজলিশপুর এলাকায় হারনপুর ও মজলিশপুর গ্রামের সনাতন ধর্মাবলম্বীদের আয়োজনে এ মেলা বসে।

জগন্নাথ দেবের পূজাকে কেন্দ্র করে প্রতিবছর পৌষ মাসের ১৫ তারিখের পর প্রথম মঙ্গলবার এ মেলার আয়োজন করা হয়। প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে চলে আসা এই আয়োজন স্থানীয় সনাতন ধর্মাবলম্বীদের ধর্মীয় বিশ্বাসের পাশাপাশি এলাকার সামাজিক ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের অংশ হয়ে উঠেছে।

মেলা উপলক্ষে বিভিন্ন গোত্র পৃথক স্থানে মিষ্টান্ন রান্নার আয়োজন করে। পূজায় কীর্তন, আগরবাতি, ফল-ফসারি ও অন্যান্য উপাচারের মাধ্যমে ভোগ নিবেদন করা হয়। পরে বড় ড্রামে বিশেষ পদ্ধতিতে রান্না করা মিষ্টান্ন প্রসাদ হিসেবে বিতরণ করা হয়, যা গ্রহণ করতে আশপাশের এলাকা থেকে শতশত ভক্ত মেলায় অংশ নেন।

Hindus News Voice of Hinduism
আপনার পণ্য ও প্রতিষ্ঠানের বিজ্ঞাপন দিন Hindus News এ।

মেলার ইতিহাস সম্পর্কে স্থানীয় গোপাল দে, সুধাংশু ধর ও ধনঞ্জয় নন্দী জানান, শতাধিক বছর আগে হারনপুর ও মজলিশপুর গ্রামে কলেরা মহামারিতে মৃত্যুর ঘটনা বাড়তে থাকে। সে সময় এক সাধু সন্ন্যাসীর পরামর্শে উপবাস থেকে মিষ্টান্ন রান্না করে জগন্নাথ দেবের কাছে ভোগ নিবেদন করা হয়। স্থানীয়দের বিশ্বাস, এরপরই মহামারি কমে আসে এবং সেই ঘটনাকে ঘিরেই মেলার সূচনা হয়। ওই সাধু সন্ন্যাসীকে অনেকে ‘বাবা শাহ’ নামেও চিনতেন।

রঞ্জন দাস বলেন, “পূর্বপুরুষদের ধর্মীয় বিশ্বাস ও সামাজিক চেতনা থেকেই এই মেলার শুরু। আমরা সেই ধারাবাহিকতা বজায় রাখছি।”

কটু দেবনাথ বলেন, “শৈশব থেকেই দেখে আসছি—মেলাকে ঘিরে পুরো এলাকায় আনন্দের আবহ তৈরি হয়।”

দর্শনার্থী রনি তালুকদার বলেন, “এখানকার মিষ্টান্নের স্বাদ আলাদা। প্রতিবছর বন্ধুদের নিয়ে আসি। এটি আমাদের কাছে শুধু মেলা নয়, একটি উৎসব।”

0.0%
0.0%
0.0%
0.0%

মতামত

হিন্দুস নিউজ

শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬


শতবর্ষী ঐতিহ্য ধরে রাখল ‘জগন্নাথের মিষ্টান্ন মেলা’

প্রকাশের তারিখ : ০৬ জানুয়ারি ২০২৬

featured Image

দিরাই উপজেলায় শতবর্ষী ঐতিহ্যবাহী মিষ্টান্ন মেলা—স্থানীয়ভাবে পরিচিত ‘জগন্নাথের মেলা’—ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্য ও উৎসবমুখর পরিবেশে অনুষ্ঠিত হয়েছে। মঙ্গলবার দিনব্যাপী দিরাই পৌরসভার মজলিশপুর এলাকায় হারনপুর ও মজলিশপুর গ্রামের সনাতন ধর্মাবলম্বীদের আয়োজনে এ মেলা বসে।

জগন্নাথ দেবের পূজাকে কেন্দ্র করে প্রতিবছর পৌষ মাসের ১৫ তারিখের পর প্রথম মঙ্গলবার এ মেলার আয়োজন করা হয়। প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে চলে আসা এই আয়োজন স্থানীয় সনাতন ধর্মাবলম্বীদের ধর্মীয় বিশ্বাসের পাশাপাশি এলাকার সামাজিক ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের অংশ হয়ে উঠেছে।

মেলা উপলক্ষে বিভিন্ন গোত্র পৃথক স্থানে মিষ্টান্ন রান্নার আয়োজন করে। পূজায় কীর্তন, আগরবাতি, ফল-ফসারি ও অন্যান্য উপাচারের মাধ্যমে ভোগ নিবেদন করা হয়। পরে বড় ড্রামে বিশেষ পদ্ধতিতে রান্না করা মিষ্টান্ন প্রসাদ হিসেবে বিতরণ করা হয়, যা গ্রহণ করতে আশপাশের এলাকা থেকে শতশত ভক্ত মেলায় অংশ নেন।

মেলার ইতিহাস সম্পর্কে স্থানীয় গোপাল দে, সুধাংশু ধর ও ধনঞ্জয় নন্দী জানান, শতাধিক বছর আগে হারনপুর ও মজলিশপুর গ্রামে কলেরা মহামারিতে মৃত্যুর ঘটনা বাড়তে থাকে। সে সময় এক সাধু সন্ন্যাসীর পরামর্শে উপবাস থেকে মিষ্টান্ন রান্না করে জগন্নাথ দেবের কাছে ভোগ নিবেদন করা হয়। স্থানীয়দের বিশ্বাস, এরপরই মহামারি কমে আসে এবং সেই ঘটনাকে ঘিরেই মেলার সূচনা হয়। ওই সাধু সন্ন্যাসীকে অনেকে ‘বাবা শাহ’ নামেও চিনতেন।

রঞ্জন দাস বলেন, “পূর্বপুরুষদের ধর্মীয় বিশ্বাস ও সামাজিক চেতনা থেকেই এই মেলার শুরু। আমরা সেই ধারাবাহিকতা বজায় রাখছি।”

কটু দেবনাথ বলেন, “শৈশব থেকেই দেখে আসছি—মেলাকে ঘিরে পুরো এলাকায় আনন্দের আবহ তৈরি হয়।”

দর্শনার্থী রনি তালুকদার বলেন, “এখানকার মিষ্টান্নের স্বাদ আলাদা। প্রতিবছর বন্ধুদের নিয়ে আসি। এটি আমাদের কাছে শুধু মেলা নয়, একটি উৎসব।”


হিন্দুস নিউজ

প্রকাশক & সম্পাদক: শুভ চন্দ্র দে
HINDUS NEWS মিডিয়া লিমিটেডের পক্ষে প্রকাশক কর্তৃক ঢাকা থেকে প্রকাশিত

প্রকাশক & সম্পাদক: শুভ চন্দ্র দে,🔴HINDUS NEWS মিডিয়া লিমিটেডের পক্ষে প্রকাশক কর্তৃক ঢাকা থেকে প্রকাশিত।🔴যোগাযোগ: +88 01890890920🔴 ই-মেইল: news@hindus.news 🔴 বিজ্ঞাপন: ads@hindus.news
শতবর্ষী ঐতিহ্য ধরে রাখল ‘জগন্নাথের মিষ্টান্ন মেলা’
0:00 0:00
1.0x