ময়মনসিংহের ভালুকা উপজেলায় ধর্ম অবমাননার অভিযোগ তুলে এক হিন্দু যুবককে নৃশংসভাবে গণপিটুনি দিয়ে অর্ধমৃত অবস্থায় রেখে তার শরীরে আগুন লাগিয়ে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। ঘটনাটি ঘটেছে বৃহস্পতিবার (১৮ ডিসেম্বর ২০২৫) রাতের দিকে ভালুকা উপজেলার হবিরবাড়ি ইউনিয়নের স্কয়ার মাস্টার বাড়ি পাইনিয়ার অফিসের সামনে।
প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, দীপু নামে এক ব্যক্তি (পরিচয় যাচাইাধীন) সামাজিক মাধ্যমে বা প্রকাশ্যে ধর্মীয় কটূক্তি করেছেন—এমন অভিযোগ তুলে স্থানীয় একদল মানুষ হঠাৎ তাকে ঘিরে ধরে। অভিযোগ ওঠার সঙ্গে সঙ্গেই উত্তেজিত জনতা তার ওপর হামলা চালায়। প্রথমে তাকে মারধর করা হয়, পরে গাছের সঙ্গে বেঁধে পুনরায় গণপিটুনি দেওয়া হয়।
অভিযোগ অনুযায়ী, মারধরের একপর্যায়ে ওই ব্যক্তি গুরুতর আহত হয়ে নিস্তেজ হয়ে পড়েন। কিন্তু সেখানেই থেমে থাকেনি সহিংসতা। প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, গাছের সঙ্গে বাঁধা অবস্থাতেই তার শরীরে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়। এতে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে প্রশাসনের পক্ষ থেকে এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে মৃত্যুর কারণ ও পরিচয় নিশ্চিত করা হয়নি।
ঘটনার পর পুরো এলাকায় চরম আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। বিশেষ করে হবিরবাড়ি ইউনিয়নসহ আশপাশের এলাকায় বসবাসরত হিন্দু সম্প্রদায়ের মধ্যে নিরাপত্তাহীনতা ও ভয় ব্যাপকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। অনেক পরিবার তাদের নারী ও শিশুদের নিয়ে উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছে বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন।
এ বিষয়ে স্থানীয় প্রশাসন ও পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। ভালুকা থানার একটি সূত্র জানিয়েছে, ঘটনার তদন্ত শুরু হয়েছে এবং সহিংসতায় জড়িতদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার প্রক্রিয়া চলছে। তবে এ প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত কাউকে আটক বা গ্রেপ্তারের বিষয়ে নিশ্চিত তথ্য পাওয়া যায়নি।
মানবাধিকারকর্মীরা এ ঘটনাকে আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়ার ভয়াবহ উদাহরণ হিসেবে উল্লেখ করে তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন। তাদের মতে, ধর্মীয় অনুভূতির অজুহাতে এমন বর্বরতা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয় এবং এটি সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের নিরাপত্তার প্রশ্নকে আরও গভীর সংকটে ফেলছে।
স্থানীয় হিন্দু সম্প্রদায়ের নেতারা অবিলম্বে ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত, দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি এবং ক্ষতিগ্রস্ত সংখ্যালঘু জনগোষ্ঠীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য সরকারের প্রতি জোর দাবি জানিয়েছেন।
মতামত