বরিশাল–৫ আসন থেকে বাংলাদেশ সমাজতান্ত্রিক দল (বাসদ) মনোনীত ও গণতান্ত্রিক যুক্তফ্রন্ট সমর্থিত প্রার্থী মনীষা চক্রবর্তী এক ব্যতিক্রমী আর্থিক কাঠামো নিয়ে নির্বাচনী মাঠে নেমেছেন। চিকিৎসক পেশায় যুক্ত এই বামপন্থী নেত্রী নিজের স্বল্প আয় ও সীমিত সম্পদের মধ্যেই গণমানুষের সহযোগিতা ও প্রবাসী স্বজনদের সহায়তায় ভোটের লড়াই চালাচ্ছেন।
নির্বাচন কমিশনে জমা দেওয়া হলফনামা অনুযায়ী, মনীষা চক্রবর্তীর বার্ষিক আয় মাত্র ৩ লাখ ২৯ হাজার ৩৭৩ টাকা। এর মধ্যে ব্যাংক আমানত থেকে আয় ৬৯ হাজার ৩৭৩ টাকা এবং চিকিৎসা পেশা থেকে আয় ২ লাখ ৬০ হাজার টাকা। তার ঘোষিত মোট সম্পদের পরিমাণ ৩১ লাখ ২৮ হাজার ৯৩২ টাকা। এর মধ্যে রয়েছে নগদ অর্থ ১২ লাখ ৬৪ হাজার ২৩৮ টাকা, ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানে জমা ৪ লাখ ৬৪ হাজার ৬৯৪ টাকা, ৫ লাখ টাকার সঞ্চয়পত্র এবং উপহার হিসেবে পাওয়া ৫ ভরি স্বর্ণ।
তবে উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, তার কোনো অস্থাবর সম্পত্তি নেই। এমনকি উত্তরাধিকার সূত্রেও কোনো জমি, ফ্ল্যাট বা স্থাবর সম্পত্তি পাওয়ার কথা তিনি হলফনামায় উল্লেখ করেননি।
আইনি বিষয়ে হলফনামায় বলা হয়েছে, একসময় তিনি দুটি মামলার আসামি ছিলেন। এর মধ্যে একটি বিশেষ ক্ষমতা আইনের মামলা উচ্চ আদালতের নির্দেশে স্থগিত রয়েছে এবং অপর একটি দণ্ডবিধির মামলায় তিনি অব্যাহতি পেয়েছেন।
আয়কর রিটার্ন অনুযায়ী, মনীষা চক্রবর্তীর ঘোষিত সম্পদের পরিমাণ ২২ লাখ ২৮ হাজার ৯৩২ টাকা এবং সর্বশেষ বছরে তিনি আয়কর দিয়েছেন ৪ হাজার ৬৪৬ টাকা।
বরিশাল সিটি করপোরেশন ও সদর উপজেলা নিয়ে গঠিত বরিশাল–৫ আসনে ভোটারপ্রতি ১০ টাকা ধরে সম্ভাব্য নির্বাচনী ব্যয় প্রায় ৫০ লাখ টাকা হলেও মনীষা চক্রবর্তীর নিজস্ব লক্ষ্য নির্ধারিত ব্যয় মাত্র ১১ লাখ টাকা। এই ব্যয়ের বড় অংশই আসবে প্রবাসী আত্মীয়স্বজন ও সাধারণ মানুষের গণচাঁদা থেকে।
হলফনামা অনুযায়ী, তিনি নিজের আয় থেকে ব্যয় করবেন মাত্র ৫০ হাজার টাকা। এছাড়া আমেরিকা প্রবাসী বোন দেবেন ৩ লাখ টাকা, জার্মানি প্রবাসী চাচাতো ভাই দেবেন ২ লাখ টাকা, বাবার কাছ থেকে ৫০ হাজার টাকা, রাশিয়া প্রবাসী ফুফাতো ভাই দেবেন ১ লাখ ৫০ হাজার টাকা, জার্মানি প্রবাসী এক চিকিৎসক বন্ধু দেবেন ১ লাখ টাকা। পাশাপাশি গণচাঁদা থেকে ২ লাখ টাকা এবং ‘মাটির ব্যাংক’ থেকে ১ লাখ টাকা নির্বাচনী ব্যয়ে যুক্ত করা হয়েছে।
মতামত