শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০ আশ্বিন ১৪৩৩
হিন্দুস নিউজ
Hindus News Voice of Hinduism
আপনার পণ্য ও প্রতিষ্ঠানের বিজ্ঞাপন দিন Hindus News এ।

ঢাকায় একাধিক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে সরস্বতী পূজার অনুমতি না দেওয়ার অভিযোগ


| প্রিন্ট সংস্করণ

ঢাকায় একাধিক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে সরস্বতী পূজার অনুমতি না দেওয়ার অভিযোগ
Hindus News Voice of Hinduism
আপনার পণ্য ও প্রতিষ্ঠানের বিজ্ঞাপন দিন Hindus News এ।

ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে আসন্ন সরস্বতী পূজার আয়োজন নিয়ে চরম অনিশ্চয়তা ও ক্ষোভ তৈরি হয়েছে। নটরডেম কলেজ ও আমেরিকান ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি–বাংলাদেশ (AIUB) কর্তৃপক্ষ ক্যাম্পাসে সরস্বতী পূজার অনুমতি না দেওয়ায় এবছর সেখানে পূজার আয়োজন সম্ভব হচ্ছে না বলে আয়োজক কমিটিকে জানানো হয়েছে।

আয়োজকদের দাবি, আসন্ন নির্বাচন, সেমিস্টার ব্রেক এবং সাপ্তাহিক ছুটির অজুহাতে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন পূজার অনুমতি দেয়নি। 

আয়োজক কমিটির পক্ষ থেকে সর্বোচ্চ চেষ্টা করা হলেও কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্তে অনড় থাকায় শিক্ষার্থীদের আবেগ ও অনুভূতির সঙ্গে একাত্মতা প্রকাশ করেই পূজার আয়োজন বাতিল করতে বাধ্য হয়েছেন তারা।

Hindus News Voice of Hinduism
আপনার পণ্য ও প্রতিষ্ঠানের বিজ্ঞাপন দিন Hindus News এ।

সনাতনী শিক্ষার্থীদের ভাষ্য অনুযায়ী, সরস্বতী পূজা কেবল একটি ধর্মীয় উৎসব নয়, এটি তাদের বিশ্বাস, আবেগ ও সাংস্কৃতিক পরিচয়ের অংশ। কিন্তু নিজের দেশেই, নিজের শিক্ষাঙ্গনে এই পূজা আয়োজন করতে গিয়ে বারবার বাধার মুখে পড়তে হচ্ছে—যা গভীর উদ্বেগজনক। তাদের প্রশ্ন, তথাকথিত ‘প্রশাসনিক কারণ’ বা ‘ছুটির’ অজুহাত কি ধর্মীয় অধিকারের ঊর্ধ্বে চলে গেছে?

নটরডেম ও AIUB–এর পর গ্রীণ রোডের ইউনিভার্সিটি অব এশিয়া প্যাসিফিক (UAP)–এও পূজার অনুমতি না দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। একই সঙ্গে সাউথ-ইস্ট ইউনিভার্সিটিতে ক্যাম্পাসে জায়গা না পাওয়ায় দূরের একটি স্কুল মাঠে পূজা আয়োজন করতে হচ্ছে বলে জানা গেছে। এছাড়া শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (SUST)–এও গ্রাউন্ডে সরস্বতী পূজা করতে বাধা দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ সনাতনী শিক্ষার্থীদের।

শিক্ষার্থীরা বলছেন, গত কয়েক বছর ধরেই নানা অজুহাতে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে স্বরস্বতী  পূজা আয়োজন সীমিত বা বন্ধ করার প্রবণতা বাড়ছে। নির্বাচন, দেশের পরিস্থিতি বা ছুটির দোহাই দিয়ে বারবার একই সিদ্ধান্ত নেওয়া হলেও এর পেছনে আরও গভীর কোনো উদ্দেশ্য বা সাম্প্রদায়িক মানসিকতা কাজ করছে কি না—সে প্রশ্নও উঠছে।

এই পরিস্থিতিতে ক্ষুব্ধ সনাতনী শিক্ষার্থীরা বলছেন, “এই দেশ কি আর আমাদের নয়? আমরা কি এদেশের সন্তান নই?” শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো ধীরে ধীরে সাম্প্রদায়িকতার দিকে ঝুঁকছে কি না, তা নিয়েও তারা শঙ্কা প্রকাশ করছেন।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সরস্বতী পূজার অনুমতি না পাওয়ার ঘটনায় তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন সনাতনী শিক্ষার্থীরা। ফেসবুকসহ বিভিন্ন প্ল্যাটফর্মে তারা লিখেছেন, সরস্বতী পূজা কেবল একটি ধর্মীয় অনুষ্ঠান নয়, এটি তাদের বিশ্বাস, সংস্কৃতি ও পরিচয়ের অবিচ্ছেদ্য অংশ। কিন্তু বারবার প্রশাসনিক অজুহাতে ক্যাম্পাসে পূজা আয়োজন বন্ধ করে দেওয়া হলে তা সরাসরি ধর্মীয় অধিকারে হস্তক্ষেপের শামিল।

অনেক শিক্ষার্থী মন্তব্য করেছেন, নির্বাচন, সেমিস্টার ব্রেক কিংবা সাপ্তাহিক ছুটির মতো কারণ কখনোই পূজা বন্ধের যৌক্তিক ব্যাখ্যা হতে পারে না। তাদের অভিযোগ, একই অজুহাতে বছরের পর বছর সনাতনী শিক্ষার্থীদের আবেগ ও অধিকার উপেক্ষা করা হচ্ছে। কেউ কেউ এটিকে পরিকল্পিত বৈষম্য ও সাম্প্রদায়িক মানসিকতার বহিঃপ্রকাশ বলেও আখ্যা দিয়েছেন।

0.0%
0.0%
0.0%
0.0%

মতামত

হিন্দুস নিউজ

শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬


ঢাকায় একাধিক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে সরস্বতী পূজার অনুমতি না দেওয়ার অভিযোগ

প্রকাশের তারিখ : ২০ জানুয়ারি ২০২৬

featured Image

ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে আসন্ন সরস্বতী পূজার আয়োজন নিয়ে চরম অনিশ্চয়তা ও ক্ষোভ তৈরি হয়েছে। নটরডেম কলেজ ও আমেরিকান ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি–বাংলাদেশ (AIUB) কর্তৃপক্ষ ক্যাম্পাসে সরস্বতী পূজার অনুমতি না দেওয়ায় এবছর সেখানে পূজার আয়োজন সম্ভব হচ্ছে না বলে আয়োজক কমিটিকে জানানো হয়েছে।

আয়োজকদের দাবি, আসন্ন নির্বাচন, সেমিস্টার ব্রেক এবং সাপ্তাহিক ছুটির অজুহাতে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন পূজার অনুমতি দেয়নি। 

আয়োজক কমিটির পক্ষ থেকে সর্বোচ্চ চেষ্টা করা হলেও কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্তে অনড় থাকায় শিক্ষার্থীদের আবেগ ও অনুভূতির সঙ্গে একাত্মতা প্রকাশ করেই পূজার আয়োজন বাতিল করতে বাধ্য হয়েছেন তারা।

সনাতনী শিক্ষার্থীদের ভাষ্য অনুযায়ী, সরস্বতী পূজা কেবল একটি ধর্মীয় উৎসব নয়, এটি তাদের বিশ্বাস, আবেগ ও সাংস্কৃতিক পরিচয়ের অংশ। কিন্তু নিজের দেশেই, নিজের শিক্ষাঙ্গনে এই পূজা আয়োজন করতে গিয়ে বারবার বাধার মুখে পড়তে হচ্ছে—যা গভীর উদ্বেগজনক। তাদের প্রশ্ন, তথাকথিত ‘প্রশাসনিক কারণ’ বা ‘ছুটির’ অজুহাত কি ধর্মীয় অধিকারের ঊর্ধ্বে চলে গেছে?

নটরডেম ও AIUB–এর পর গ্রীণ রোডের ইউনিভার্সিটি অব এশিয়া প্যাসিফিক (UAP)–এও পূজার অনুমতি না দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। একই সঙ্গে সাউথ-ইস্ট ইউনিভার্সিটিতে ক্যাম্পাসে জায়গা না পাওয়ায় দূরের একটি স্কুল মাঠে পূজা আয়োজন করতে হচ্ছে বলে জানা গেছে। এছাড়া শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (SUST)–এও গ্রাউন্ডে সরস্বতী পূজা করতে বাধা দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ সনাতনী শিক্ষার্থীদের।

শিক্ষার্থীরা বলছেন, গত কয়েক বছর ধরেই নানা অজুহাতে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে স্বরস্বতী  পূজা আয়োজন সীমিত বা বন্ধ করার প্রবণতা বাড়ছে। নির্বাচন, দেশের পরিস্থিতি বা ছুটির দোহাই দিয়ে বারবার একই সিদ্ধান্ত নেওয়া হলেও এর পেছনে আরও গভীর কোনো উদ্দেশ্য বা সাম্প্রদায়িক মানসিকতা কাজ করছে কি না—সে প্রশ্নও উঠছে।

এই পরিস্থিতিতে ক্ষুব্ধ সনাতনী শিক্ষার্থীরা বলছেন, “এই দেশ কি আর আমাদের নয়? আমরা কি এদেশের সন্তান নই?” শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো ধীরে ধীরে সাম্প্রদায়িকতার দিকে ঝুঁকছে কি না, তা নিয়েও তারা শঙ্কা প্রকাশ করছেন।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সরস্বতী পূজার অনুমতি না পাওয়ার ঘটনায় তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন সনাতনী শিক্ষার্থীরা। ফেসবুকসহ বিভিন্ন প্ল্যাটফর্মে তারা লিখেছেন, সরস্বতী পূজা কেবল একটি ধর্মীয় অনুষ্ঠান নয়, এটি তাদের বিশ্বাস, সংস্কৃতি ও পরিচয়ের অবিচ্ছেদ্য অংশ। কিন্তু বারবার প্রশাসনিক অজুহাতে ক্যাম্পাসে পূজা আয়োজন বন্ধ করে দেওয়া হলে তা সরাসরি ধর্মীয় অধিকারে হস্তক্ষেপের শামিল।

অনেক শিক্ষার্থী মন্তব্য করেছেন, নির্বাচন, সেমিস্টার ব্রেক কিংবা সাপ্তাহিক ছুটির মতো কারণ কখনোই পূজা বন্ধের যৌক্তিক ব্যাখ্যা হতে পারে না। তাদের অভিযোগ, একই অজুহাতে বছরের পর বছর সনাতনী শিক্ষার্থীদের আবেগ ও অধিকার উপেক্ষা করা হচ্ছে। কেউ কেউ এটিকে পরিকল্পিত বৈষম্য ও সাম্প্রদায়িক মানসিকতার বহিঃপ্রকাশ বলেও আখ্যা দিয়েছেন।


হিন্দুস নিউজ

প্রকাশক & সম্পাদক: শুভ চন্দ্র দে
HINDUS NEWS মিডিয়া লিমিটেডের পক্ষে প্রকাশক কর্তৃক ঢাকা থেকে প্রকাশিত

প্রকাশক & সম্পাদক: শুভ চন্দ্র দে,🔴HINDUS NEWS মিডিয়া লিমিটেডের পক্ষে প্রকাশক কর্তৃক ঢাকা থেকে প্রকাশিত।🔴যোগাযোগ: +88 01890890920🔴 ই-মেইল: news@hindus.news 🔴 বিজ্ঞাপন: ads@hindus.news
ঢাকায় একাধিক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে সরস্বতী পূজার অনুমতি না দেওয়ার অভিযোগ
0:00 0:00
1.0x