হিন্দুস নিউজ

ধামরাইয়ে হিন্দুদের বিরুদ্ধে ধর্ষণের অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা, প্রকাশ পেল প্রকৃত ঘটনা


| প্রিন্ট সংস্করণ

ধামরাইয়ে হিন্দুদের বিরুদ্ধে ধর্ষণের অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা, প্রকাশ পেল প্রকৃত ঘটনা
Hindus News Voice of Hinduism
আপনার পণ্য ও প্রতিষ্ঠানের বিজ্ঞাপন দিন Hindus News এ।

ঢাকার ধামরাইয়ে হিন্দু যুবকদের বিরুদ্ধে দলবদ্ধ ধর্ষণের যে ভয়াবহ অভিযোগ সাম্প্রতিক সময়ে কয়েকটি গণমাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছিল, সরেজমিনে অনুসন্ধানে সেই অভিযোগের কোনও সত্যতা পাওয়া যায়নি।

 অনুসন্ধানী গণমাধ্যম দ্য ডিসেন্ট–এর তদন্ত, স্থানীয় বাসিন্দাদের বক্তব্য এবং পুলিশের প্রাথমিক তদন্তে স্পষ্ট হয়েছে—ঘটনাটি মূলত একটি ছিনতাই ও মারধরের ঘটনা হলেও ধর্ষণ বা যৌন নির্যাতনের কোনও প্রমাণ মেলেনি।

গত ১৭, ১৮ ও ১৯ জানুয়ারি দেশের কয়েকটি দৈনিক পত্রিকায় প্রায় অভিন্ন ভাষায় একটি প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়, যেখানে দাবি করা হয় যে ধামরাইয়ের বালিয়া ইউনিয়নের হিন্দু অধ্যুষিত রামরাবন গ্রামে এক মুসলিম গৃহবধূকে দলবদ্ধভাবে ধর্ষণ করা হয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়, স্বামীকে ঘরের খুঁটির সঙ্গে বেঁধে রেখে রাতভর ওই নারীকে নির্যাতন করা হয় এবং পরে তার কাছ থেকে টাকা ও স্বর্ণালংকার ছিনিয়ে নেওয়া হয়। এসব প্রতিবেদনে হিন্দু যুবকদের বিরুদ্ধে সরাসরি অভিযোগ তোলা হলেও কোথাও ভুক্তভোগী নারী বা তার স্বামীর সরাসরি বক্তব্য উদ্ধৃত করা হয়নি। বরাবরের মতোই নামহীন সূত্রের ওপর ভিত্তি করেই সংবাদগুলো প্রকাশ করা হয়।

Hindus News Voice of Hinduism
আপনার পণ্য ও প্রতিষ্ঠানের বিজ্ঞাপন দিন Hindus News এ।

সংবাদ প্রকাশের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। সাম্প্রদায়িক বিদ্বেষ উসকে দেওয়ার মতো ভাষা ও শিরোনাম পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তোলে। তবে এই ঘটনার বিষয়ে কোনও বড় গণমাধ্যমের পক্ষ থেকে নিরপেক্ষ ও অনুসন্ধানী প্রতিবেদন না আসায় বিষয়টি নিয়ে প্রশ্ন থেকেই যায়।

এই প্রেক্ষাপটে দ্য ডিসেন্ট–এর অনুসন্ধানী দল ঘটনাস্থলে গিয়ে স্থানীয় বাসিন্দা, জনপ্রতিনিধি, ঘটনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি এবং পুলিশের সঙ্গে কথা বলে ভিন্ন বাস্তবতার সন্ধান পায়। অনুসন্ধানে প্রথমেই যে বিষয়টি স্পষ্ট হয়ে ওঠে, তা হলো—ধর্ষণের কোনও ঘটনার কথা কেউ জানেন না। যাকে ভুক্তভোগী নারীর স্বামী হিসেবে পরিচয় দেওয়া হয়েছিল, সেই আব্দুর রাজ্জাক নিজেই জানিয়েছেন যে তার স্ত্রী ধর্ষণের শিকার হয়েছেন—এমন কোনও কথা তিনি জানেন না এবং তিনি কখনও এমন অভিযোগ করেননি।

আব্দুর রাজ্জাকের বক্তব্য অনুযায়ী, ঘটনার রাতে কয়েকজন অজ্ঞাত ব্যক্তি ঘরে ঢুকে তাকে মারধর করে এবং তার মানিব্যাগ ও মোবাইল ফোন নিয়ে নেয়। পরে তার সঙ্গে থাকা নারীকে বাইরে নিয়ে গিয়ে তার ব্যাগ, টাকা ও কিছু অলংকার ছিনিয়ে নেয়। কিছুক্ষণ পর হামলাকারীরা চলে গেলে তিনি বাইরে গিয়ে ওই নারীকে কান্নারত অবস্থায় পান। তবে ওই নারী শারীরিক বা যৌন নির্যাতনের কোনও অভিযোগ তখন করেননি।

ঘটনার পর প্রতিবেশীরা ঘটনাস্থলে উপস্থিত হলেও কেউ কাউকে খুঁটিতে বেঁধে রাখা বা ধর্ষণের কোনও আলামত দেখেননি। স্থানীয় বাসিন্দারা জানিয়েছেন, তারা শুধু লুটপাট ও মারধরের বিষয়েই জানতে পেরেছেন। ইউপি সদস্যসহ স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের কাছেও কেউ ধর্ষণের অভিযোগ করেননি বা বিচার চাননি।

আরও গুরুত্বপূর্ণ তথ্য হলো—যে নারীকে সংবাদমাধ্যমে আব্দুর রাজ্জাকের স্ত্রী হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছিল, তিনি প্রকৃতপক্ষে তার স্ত্রী নন। আব্দুর রাজ্জাকের আসল স্ত্রী মানিকগঞ্জের শিবালয় উপজেলার বাসিন্দা। তার সঙ্গে যোগাযোগ করলে তিনি জানান, ঘটনার দিন তিনি ধামরাইয়ে ছিলেন না এবং প্রকাশিত প্রতিবেদনে যে নারীর কথা বলা হচ্ছে, তিনি নিজে নন। বিষয়টি পুরো ঘটনার বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়ে আরও গুরুতর প্রশ্ন তোলে।

পুলিশের পক্ষ থেকেও ধর্ষণের অভিযোগের সত্যতা পাওয়া যায়নি। ধামরাই থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জানিয়েছেন, ঘটনাস্থল পরিদর্শন ও স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে তারা নিশ্চিত হয়েছেন—সেখানে কোনও ধর্ষণ বা যৌন নিপীড়নের ঘটনা ঘটেনি। লিখিত অভিযোগ না থাকায় পুলিশ কেবল একটি ছিনতাই ও মারধরের ঘটনাকেই প্রাথমিকভাবে বিবেচনা করছে।

সব মিলিয়ে অনুসন্ধান, প্রত্যক্ষদর্শীদের বক্তব্য এবং পুলিশের তথ্য বিশ্লেষণে পরিষ্কারভাবে প্রতীয়মান হয় যে ধামরাইয়ের রামরাবন এলাকায় ঘটে যাওয়া ঘটনাটিকে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে বিকৃত করে হিন্দু যুবকদের বিরুদ্ধে ভয়াবহ ধর্ষণের অভিযোগ হিসেবে উপস্থাপন করা হয়েছে। এই ধরনের ভিত্তিহীন সংবাদ শুধু সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির জন্য হুমকি নয়, বরং সাংবাদিকতার নৈতিকতার প্রতিও চরম অবমাননা।

0.0%
0.0%
0.0%
0.0%

মতামত

হিন্দুস নিউজ

রোববার, ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬


ধামরাইয়ে হিন্দুদের বিরুদ্ধে ধর্ষণের অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা, প্রকাশ পেল প্রকৃত ঘটনা

প্রকাশের তারিখ : ২১ জানুয়ারি ২০২৬

featured Image

ঢাকার ধামরাইয়ে হিন্দু যুবকদের বিরুদ্ধে দলবদ্ধ ধর্ষণের যে ভয়াবহ অভিযোগ সাম্প্রতিক সময়ে কয়েকটি গণমাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছিল, সরেজমিনে অনুসন্ধানে সেই অভিযোগের কোনও সত্যতা পাওয়া যায়নি।

 অনুসন্ধানী গণমাধ্যম দ্য ডিসেন্ট–এর তদন্ত, স্থানীয় বাসিন্দাদের বক্তব্য এবং পুলিশের প্রাথমিক তদন্তে স্পষ্ট হয়েছে—ঘটনাটি মূলত একটি ছিনতাই ও মারধরের ঘটনা হলেও ধর্ষণ বা যৌন নির্যাতনের কোনও প্রমাণ মেলেনি।

গত ১৭, ১৮ ও ১৯ জানুয়ারি দেশের কয়েকটি দৈনিক পত্রিকায় প্রায় অভিন্ন ভাষায় একটি প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়, যেখানে দাবি করা হয় যে ধামরাইয়ের বালিয়া ইউনিয়নের হিন্দু অধ্যুষিত রামরাবন গ্রামে এক মুসলিম গৃহবধূকে দলবদ্ধভাবে ধর্ষণ করা হয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়, স্বামীকে ঘরের খুঁটির সঙ্গে বেঁধে রেখে রাতভর ওই নারীকে নির্যাতন করা হয় এবং পরে তার কাছ থেকে টাকা ও স্বর্ণালংকার ছিনিয়ে নেওয়া হয়। এসব প্রতিবেদনে হিন্দু যুবকদের বিরুদ্ধে সরাসরি অভিযোগ তোলা হলেও কোথাও ভুক্তভোগী নারী বা তার স্বামীর সরাসরি বক্তব্য উদ্ধৃত করা হয়নি। বরাবরের মতোই নামহীন সূত্রের ওপর ভিত্তি করেই সংবাদগুলো প্রকাশ করা হয়।

সংবাদ প্রকাশের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। সাম্প্রদায়িক বিদ্বেষ উসকে দেওয়ার মতো ভাষা ও শিরোনাম পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তোলে। তবে এই ঘটনার বিষয়ে কোনও বড় গণমাধ্যমের পক্ষ থেকে নিরপেক্ষ ও অনুসন্ধানী প্রতিবেদন না আসায় বিষয়টি নিয়ে প্রশ্ন থেকেই যায়।

এই প্রেক্ষাপটে দ্য ডিসেন্ট–এর অনুসন্ধানী দল ঘটনাস্থলে গিয়ে স্থানীয় বাসিন্দা, জনপ্রতিনিধি, ঘটনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি এবং পুলিশের সঙ্গে কথা বলে ভিন্ন বাস্তবতার সন্ধান পায়। অনুসন্ধানে প্রথমেই যে বিষয়টি স্পষ্ট হয়ে ওঠে, তা হলো—ধর্ষণের কোনও ঘটনার কথা কেউ জানেন না। যাকে ভুক্তভোগী নারীর স্বামী হিসেবে পরিচয় দেওয়া হয়েছিল, সেই আব্দুর রাজ্জাক নিজেই জানিয়েছেন যে তার স্ত্রী ধর্ষণের শিকার হয়েছেন—এমন কোনও কথা তিনি জানেন না এবং তিনি কখনও এমন অভিযোগ করেননি।

আব্দুর রাজ্জাকের বক্তব্য অনুযায়ী, ঘটনার রাতে কয়েকজন অজ্ঞাত ব্যক্তি ঘরে ঢুকে তাকে মারধর করে এবং তার মানিব্যাগ ও মোবাইল ফোন নিয়ে নেয়। পরে তার সঙ্গে থাকা নারীকে বাইরে নিয়ে গিয়ে তার ব্যাগ, টাকা ও কিছু অলংকার ছিনিয়ে নেয়। কিছুক্ষণ পর হামলাকারীরা চলে গেলে তিনি বাইরে গিয়ে ওই নারীকে কান্নারত অবস্থায় পান। তবে ওই নারী শারীরিক বা যৌন নির্যাতনের কোনও অভিযোগ তখন করেননি।

ঘটনার পর প্রতিবেশীরা ঘটনাস্থলে উপস্থিত হলেও কেউ কাউকে খুঁটিতে বেঁধে রাখা বা ধর্ষণের কোনও আলামত দেখেননি। স্থানীয় বাসিন্দারা জানিয়েছেন, তারা শুধু লুটপাট ও মারধরের বিষয়েই জানতে পেরেছেন। ইউপি সদস্যসহ স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের কাছেও কেউ ধর্ষণের অভিযোগ করেননি বা বিচার চাননি।

আরও গুরুত্বপূর্ণ তথ্য হলো—যে নারীকে সংবাদমাধ্যমে আব্দুর রাজ্জাকের স্ত্রী হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছিল, তিনি প্রকৃতপক্ষে তার স্ত্রী নন। আব্দুর রাজ্জাকের আসল স্ত্রী মানিকগঞ্জের শিবালয় উপজেলার বাসিন্দা। তার সঙ্গে যোগাযোগ করলে তিনি জানান, ঘটনার দিন তিনি ধামরাইয়ে ছিলেন না এবং প্রকাশিত প্রতিবেদনে যে নারীর কথা বলা হচ্ছে, তিনি নিজে নন। বিষয়টি পুরো ঘটনার বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়ে আরও গুরুতর প্রশ্ন তোলে।

পুলিশের পক্ষ থেকেও ধর্ষণের অভিযোগের সত্যতা পাওয়া যায়নি। ধামরাই থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জানিয়েছেন, ঘটনাস্থল পরিদর্শন ও স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে তারা নিশ্চিত হয়েছেন—সেখানে কোনও ধর্ষণ বা যৌন নিপীড়নের ঘটনা ঘটেনি। লিখিত অভিযোগ না থাকায় পুলিশ কেবল একটি ছিনতাই ও মারধরের ঘটনাকেই প্রাথমিকভাবে বিবেচনা করছে।

সব মিলিয়ে অনুসন্ধান, প্রত্যক্ষদর্শীদের বক্তব্য এবং পুলিশের তথ্য বিশ্লেষণে পরিষ্কারভাবে প্রতীয়মান হয় যে ধামরাইয়ের রামরাবন এলাকায় ঘটে যাওয়া ঘটনাটিকে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে বিকৃত করে হিন্দু যুবকদের বিরুদ্ধে ভয়াবহ ধর্ষণের অভিযোগ হিসেবে উপস্থাপন করা হয়েছে। এই ধরনের ভিত্তিহীন সংবাদ শুধু সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির জন্য হুমকি নয়, বরং সাংবাদিকতার নৈতিকতার প্রতিও চরম অবমাননা।


হিন্দুস নিউজ

প্রকাশক & সম্পাদক: শুভ চন্দ্র দে
HINDUS NEWS মিডিয়া লিমিটেডের পক্ষে প্রকাশক কর্তৃক ঢাকা থেকে প্রকাশিত

প্রকাশক & সম্পাদক: শুভ চন্দ্র দে,🔴HINDUS NEWS মিডিয়া লিমিটেডের পক্ষে প্রকাশক কর্তৃক ঢাকা থেকে প্রকাশিত।🔴যোগাযোগ: +88 01890890920🔴 ই-মেইল: news@hindus.news 🔴 বিজ্ঞাপন: ads@hindus.news
ধামরাইয়ে হিন্দুদের বিরুদ্ধে ধর্ষণের অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা, প্রকাশ পেল প্রকৃত ঘটনা
0:00 0:00
1.0x