সনাতন ধর্মাবলম্বীদের প্রধান ধর্মীয় উৎসব শারদীয় দুর্গাপূজা নির্বিঘ্নে, শান্তিপূর্ণ ও আনন্দমুখর পরিবেশে উদযাপনের লক্ষ্যে ব্যাপক নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে পুলিশ প্রশাসন। সনাতনী জনগোষ্ঠীর সার্বিক নিরাপত্তা এবং প্রতিটি নাগরিকের ধর্মীয় স্বাধীনতা ও মানবাধিকার অক্ষুণ্ণ রাখতে পুলিশের পক্ষ থেকে এবার প্রাক-পূজা, পূজা চলাকালীন এবং প্রতিমা বিসর্জন ও পূজা পরবর্তী—এই তিন স্তরের বিশেষ সুরক্ষাবলয় গড়ে তোলা হয়েছে। রোববার দুপুরে পুলিশ হেডকোয়ার্টার্সের ‘হল অব প্রাইডে’ আয়োজিত এক আইনশৃঙ্খলা ও নিরাপত্তা সংক্রান্ত বিশেষ নীতি- নির্ধারণী সভায় সভাপতিত্বকালে এসব তথ্য জানান ইন্সপেক্টর জেনারেল অব পুলিশ (আইজিপি) মো: আলী হোসেন ফকির বিপিএম। সনাতনী সম্প্রদায়ের দীর্ঘদিনের উদ্বেগ-উৎকণ্ঠা নিরসন এবং ধর্মীয় অধিকার সুনিশ্চিত করতে পুলিশ ইতোমধ্যে তাদের পূজাকেন্দ্রিক নিরাপত্তা কার্যক্রম সক্রিয় করেছে।
আইজিপি তাঁর বক্তব্যে বলেন, পূজা ঘিরে কোনো দুষ্কৃতকারী বা স্বার্থান্বেষী মহল যাতে সামাজিক সম্প্রীতি বিনষ্ট করতে কিংবা সনাতনীদের উপর কোনো ধরনের অশুভ প্রভাব ফেলতে না পারে, সে বিষয়ে মাঠপর্যায়ের প্রশাসনকে কঠোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। কমিউনিটি ও বিট পুলিশিংয়ের মাধ্যমে স্থানীয় সাধারণ মানুষকে সম্পৃক্ত করে প্রতিটি পূজামণ্ডপে নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তা গড়ে তোলার তাগিদ দেওয়া হয়। (News copied from- 'হিন্দুস নিউজ') ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে প্রতিটি মানুষের মৌলিক মানবাধিকার ও ধর্মীয় আচার পালনের অধিকার রক্ষা করা রাষ্ট্রের প্রধান দায়িত্ব। পুলিশ প্রধান আশা প্রকাশ করেন যে, সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টা ও আন্তরিকতায় প্রতি বছরের ন্যায় এবারও সনাতন ধর্মাবলম্বীরা কোনো ধরনের ভয়ভীতি ছাড়া উৎসবমুখর ও আনন্দঘন পরিবেশে পূজা উদযাপিত করতে পারবেন।
চলতি বছর সারা দেশে প্রায় ৩৩ হাজার পূজামণ্ডপে সনাতনী ধর্মাবলম্বীরা তাঁদের আরাধনায় মগ্ন হবেন। বিশাল এই আয়োজন ঘিরে যাতে কোনো অশুভ শক্তি কিংবা চক্রান্তকারী কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটাতে না পারে, সে জন্য আধুনিক প্রযুক্তি ও সশস্ত্র বাহিনীকে প্রস্তুত রাখা হয়েছে। পূজা চলাকালীন অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি মোকাবেলায় পোশাকে ও সাদা পোশাকে দায়িত্ব পালনকারী পুলিশের পাশাপাশি সোয়াট, ক্রাইম রেসপন্স টিম (সিআরটি), কুইক রেসপন্স টিম (কিউআরটি), ক্রাইম সিন ভ্যান এবং বোম্ব ডিসপোজাল ইউনিট ২৪ ঘণ্টা সার্বক্ষণিক প্রস্তুত থাকবে। এ ছাড়া পুলিশ হেডকোয়ার্টার্সসহ দেশের অন্যান্য পুলিশ ইউনিটে খোলা হয়েছে সার্বক্ষণিক সেন্ট্রাল মনিটরিং সেল।
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বিভ্রান্তিমূলক পোস্ট, অপপ্রচার কিংবা গুজব ছড়িয়ে কোনো গোষ্ঠী যাতে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বিনষ্ট ও সনাতনীদের অধিকার খর্ব করতে না পারে, সে বিষয়ে পুলিশ কর্মকর্তাদের তাৎক্ষণিক কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার আদেশ দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে যেকোনো জরুরি মুহূর্তে সহায়তা পেতে জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯ অথবা নিকটস্থ থানায় যোগাযোগের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। সনাতনী সম্প্রদায়ের শীর্ষ নেতৃবৃন্দসহ বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদ ও ঐক্য পরিষদের নেতৃবৃন্দ এই নিরাপত্তা পরিকল্পনাকে স্বাগত জানিয়েছেন এবং আয়োজকদের পক্ষ থেকেও মণ্ডপগুলোতে সিসিটিভি সচল রাখা ও স্বেচ্ছাসেবক মোতায়েনের আশ্বাস দেওয়া হয়েছে।
মতামত