শারদীয় দুর্গোৎসবকে কেন্দ্র করে ঐতিহ্যের নগরী পুরান ঢাকার মন্দির ও মণ্ডপগুলোতে চলছে দেবী দুর্গার রূপদান এবং শারদীয় আবহের শেষ মুহূর্তের ব্যস্ততা। শাঁখারীবাজার, তাঁতীবাজার ও লক্ষ্মীবাজারের গলিগুলোতে শিল্পীদের রং-তুলির পরশে প্রাণবন্ত হয়ে উঠছে দেবী প্রতিমা। তবে সনাতনী সমাজের সবচেয়ে বড় এই ধর্মীয় উৎসবের দ্বারপ্রান্তে এসেও স্বস্তিতে নেই এখানকার ব্যবসায়ী ও সাধারণ ভক্তকুল। জ্বালানি তেল ও গ্যাসের মূল্যবৃদ্ধি, অতিরিক্ত পরিবহন খরচ এবং আমদানিতে বাড়তি শুল্ক আরোপের প্রভাবে পূজাসামগ্রী ও সাজসজ্জার পণ্যের বাজারে যেন এক চরম মন্দাভাব নেমে এসেছে।
মহা ষষ্ঠী ও মহালয়ার পুণ্যলগ্নে যখন ঢাকের কাঠি বাজার কথা, তখন বাজারে পূজাসামগ্রীর অস্বাভাবিক অগ্নিমূল্য ভক্তদের মধ্যে কপালে চিন্তার ভাঁজ ফেলেছে। ঐতিহ্যবাহী শাঁখারীবাজারের সাজসজ্জার দোকানগুলোতে দেখা যাচ্ছে এক বিষাদময় দৃশ্য, যেখানে দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির কারণে কেনাবেচা নেমে এসেছে অর্ধেকে। শাঁখারীবাজারের বিক্রেতারা জানান, প্রতিমার মুকুট, ক্লিপ, শাড়ির কাপড়, পুঁতির মালা এবং অলংকার থেকে শুরু করে দেবীর অস্ত্রের দামও বহুগুণ বৃদ্ধি পেয়েছে। ইন্ডিয়া থেকে আমদানিকৃত সামগ্রীতে অতিরিক্ত কর এবং অভ্যন্তরীণ জ্বালানি সংকটের মাশুল গুনতে হচ্ছে সাধারণ সনাতনী ক্রেতাদের। বিগত বছরে যে প্রতিমা তৈরিতে যে খরচ হতো, এবার সেই ব্যয় সাধারণ পূজা কমিটির বাজেটের বাইরে চলে গেছে। তবুও সীমিত সাধ্যের মধ্যেই শাঁখারীবাজার ও তাঁতীবাজারের ২২টি মণ্ডপসহ পুরো পুরান ঢাকা ঐতিহ্যের ঐতিহ্য বজায় রেখে সনাতনী সংস্কৃতি রক্ষায় বদ্ধপরিকর। (News copied from- 'হিন্দুস নিউজ')
সব প্রতিকূলতা ও আর্থিক সংকটকে পেছনে ফেলে সনাতনী সমাজ তাদের দেবীকে আবাহন জানানোর প্রস্তুতিতে কোনো খামতি রাখছে না। যদিও ব্যবসায়ীদের আয় বাড়েনি, তবুও তারা আশা করছেন উৎসবের শেষ মুহূর্তে ভক্তদের সমাগম বাড়বে এবং পুরান ঢাকার ঐতিহ্যময় শাঁখারীবাজার আবার তার চেনা উৎসব মুখর ও প্রানোচ্ছ্বল রূপে ফিরে আসবে।
মতামত