প্রায় ১২ দিন কারাভোগের পর জামিনে মুক্তি পেয়েছেন ধামরাইয়ের গৃহবধূ তপসা বিশ্বাস।
সোমবার বিকেল সাড়ে তিনটার দিকে গাজীপুরের কাশিমপুর কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে মুক্ত হয়ে তিনি ফিরে পান তার দেড় বছরের ছেলে প্রণয় বিশ্বাসকে। দীর্ঘদিন মায়ের সান্নিধ্য থেকে বিচ্ছিন্ন থাকার পর শিশুটি বিকেলে মাকে কোলে নেওয়ার সুযোগ পায়।
পরিবার সূত্রে জানা গেছে, রোববার আদালতে তপসা বিশ্বাসের জামিন মঞ্জুর হয়। পরদিন সোমবার আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়া শেষে তাকে কারাগার থেকে মুক্তি দেওয়া হয়। তার মুক্তির খবরে পরিবার ও স্বজনদের মধ্যে স্বস্তি ফিরে আসে।
প্রণয়ের ফুফাতো ভাই শেখর মণ্ডল জানান, রোববার প্রথমে আইনজীবীর কাছ থেকে জানানো হয়েছিল সেদিন জামিন শুনানি হবে না। এতে পরিবার হতাশ হয়ে বাড়ির পথে রওনা দিলেও পরে ফোনে জানানো হয়, তপসা বিশ্বাসের জামিন মঞ্জুর হয়েছে। সোমবার বিকেলে কারামুক্ত হওয়ার পর ১২ দিন পর মা–ছেলের পুনর্মিলন ঘটে।
তিনি আরও জানান, মায়ের অনুপস্থিতিতে প্রণয় শারীরিকভাবে দুর্বল হয়ে পড়েছিল। ঠিকমতো খাওয়া-দাওয়া ও ঘুম হতো না, ঠান্ডাজনিত সমস্যাও দেখা দিয়েছিল।
ঘটনার সূত্রপাত গাজীপুরের কালিয়াকৈর থানার একটি চুরির মামলাকে কেন্দ্র করে। ওই মামলার দণ্ডপ্রাপ্ত আসামিকে গ্রেপ্তারের উদ্দেশ্যে গত ২৩ জানুয়ারি ধামরাই উপজেলার বাইশাকান্দা ইউনিয়নের বেরশ গ্রামে অভিযান চালায় পুলিশ। অভিযানের সময় পুলিশের ওপর হামলার অভিযোগ ওঠে। এ ঘটনায় পুলিশের কাজে বাধা ও মারধরের অভিযোগে মামলা দায়ের করা হয়।
ওই মামলায় দুই নারীসহ চারজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তারদের মধ্যে ছিলেন তপসা বিশ্বাস। অপর আসামিরা হলেন কিরণ মালা, বাদল চন্দ্র সরকার ও দুলাল চন্দ্র সরকার। পরদিন ২৪ জানুয়ারি তাদের আদালতে হাজির করে পুলিশ সাত দিনের রিমান্ড আবেদন করে। ঢাকার সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট তাজুল ইসলাম সোহাগ দুই নারী আসামির রিমান্ড ও জামিন আবেদন নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন। অপর দুই আসামিকে এক দিনের রিমান্ডে পাঠানো হয়।
মায়ের মুক্তির আশায় ওই সময় থেকে আদালত প্রাঙ্গণে দিন কাটাতে দেখা যায় ছোট্ট প্রণয়কে। খালা সরলা বিশ্বাসের সঙ্গে সে নিয়মিত আদালতে আসত। এই মানবিক অপেক্ষার বিষয়টি গণমাধ্যমে প্রকাশিত হলে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি হয়।
শেষ পর্যন্ত রোববার ঢাকার সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আফরোজা সুলতানা সুইটির আদালতে তপসা বিশ্বাস ও কিরণ মালার পক্ষে আইনজীবী ইরশাদুল হক জামিন আবেদন করেন। শুনানি শেষে আদালত দুজনেরই জামিন মঞ্জুর করেন।
মামলার বাদী ধামরাই থানার এসআই সুবোধ চন্দ্র বর্মন জানান, অভিযানের সময় বাড়ির লোকজন পুলিশের ওপর হামলা চালায়। পুলিশের দাবি অনুযায়ী, তপসা বিশ্বাস ও তার ছেলে সৌরভ বিশ্বাস হামলায় সক্রিয় ভূমিকা রাখেন। এ মামলায় তপসা বিশ্বাসের স্বামী হরিলাল বিশ্বাস ও ছেলে সৌরভ বিশ্বাসও আসামি। তবে অভিযানের সময় মূল দণ্ডপ্রাপ্ত আসামিকে ওই বাড়িতে পাওয়া যায়নি বলে জানিয়েছে পুলিশ।
মতামত