ভারতের রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘের (আরএসএস) প্রধান মোহন ভাগবত বলেছেন, বাংলাদেশে বসবাসকারী হিন্দুরা যদি নিজেদের অধিকার আদায়ে সংগঠিত হয়ে আন্দোলনে নামেন, তবে বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে থাকা হিন্দু সমাজ তাদের পাশে দাঁড়াবে।
তিনি মনে করেন, ঐক্যবদ্ধ ও সংগঠিত শক্তিই যেকোনো জনগোষ্ঠীর সবচেয়ে বড় ভরসা।
রোববার মুম্বাইয়ের ওয়ারলির নেহরু সেন্টারে অনুষ্ঠিত দুই দিনব্যাপী ‘ব্যাখ্যানমালা’ বক্তৃতা সিরিজের দ্বিতীয় দিনে দেওয়া বক্তব্যে তিনি এ মন্তব্য করেন। ‘সংঘের ১০০ বছরের যাত্রা: নতুন দিগন্ত’ শীর্ষক এই আয়োজনের মধ্য দিয়ে আরএসএস তাদের শতবর্ষ উদ্যাপন করছে।
মোহন ভাগবত বলেন, বাংলাদেশে প্রায় এক কোটি পঁচিশ লাখ হিন্দু বসবাস করেন। তারা যদি নিজেদের অধিকার ও নিরাপত্তা রক্ষায় দৃঢ়ভাবে দাঁড়ান, তাহলে শুধু প্রতিবেশী দেশ নয়, বিশ্বের যেখানেই হিন্দুরা বসবাস করেন, সবাই তাদের সহায়তায় এগিয়ে আসবে। তিনি দাবি করেন, সাম্প্রতিক সময়ে বাংলাদেশে সংখ্যালঘুদের ওপর, বিশেষ করে হিন্দুদের বিরুদ্ধে সহিংসতার অভিযোগ বেড়েছে, যা উদ্বেগজনক।
ভারতের অভ্যন্তরীণ প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, অতীতে ভারতের সরকারগুলো জনসংখ্যা পরিবর্তন ও অবৈধ অভিবাসনের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো যথাযথ গুরুত্ব দেয়নি। জন্মহার বৃদ্ধি ও সীমান্তবর্তী অঞ্চলে অবৈধ অনুপ্রবেশকে তিনি বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে উল্লেখ করেন। তবে বর্তমান সরকার এ বিষয়ে উদ্যোগ নিতে শুরু করেছে এবং সফল হবে বলেও আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।
আরএসএস প্রধান আরও বলেন, ভারতকে দুর্বল করার যেকোনো চেষ্টা ব্যর্থ হবে। যারা দেশকে ভাঙতে চায়, শেষ পর্যন্ত তারাই ভেঙে পড়বে।
সংগঠনের অর্থের উৎস নিয়ে নানা প্রশ্নের জবাবে মোহন ভাগবত বলেন, আরএসএস কোনো করপোরেট প্রতিষ্ঠান বা বড় দাতার ওপর নির্ভরশীল নয়। সংগঠনটি মূলত স্বয়ংসেবকদের কাছ থেকে সংগৃহীত অনুদানের মাধ্যমে পরিচালিত হয়। তিনি জানান, সফরের সময় আরএসএস নেতারা হোটেলে না থেকে স্বয়ংসেবকদের বাড়িতেই থাকেন এবং সাদাসিধে জীবনযাপন করেন।
জাত ও নেতৃত্ব প্রসঙ্গে তিনি বলেন, আরএসএসে কোনো জাতিগত বৈষম্য নেই। যে কেউ যোগ্যতা ও নিষ্ঠার ভিত্তিতে সংগঠনের সর্বোচ্চ দায়িত্বে পৌঁছাতে পারেন। তফসিলি জাতি, উপজাতি কিংবা ব্রাহ্মণ—কোনোটিই এখানে যোগ্যতার একমাত্র মানদণ্ড নয়।
মুসলিম-অধ্যুষিত এলাকায় কাজ করার কৌশল প্রসঙ্গে মোহন ভাগবত বলেন, সংঘর্ষ এড়িয়ে চলাই আরএসএসের নীতি। উসকানিমূলক আচরণে প্রতিক্রিয়া না দেখিয়ে শান্ত থাকার মাধ্যমে পরিস্থিতি সামাল দেওয়া হয়, যাতে উত্তেজনা না বাড়ে।
এর আগের দিন তিনি বলেন, আরএসএস কারও বিরুদ্ধে নয় এবং ক্ষমতা দখলের লক্ষ্যও তাদের নেই। সংগঠনের একমাত্র উদ্দেশ্য হলো সমাজকে ঐক্যবদ্ধ করা। ১৯২৫ সালে ড. কেশব বলিরাম হেডগেওয়ার সমাজে ঐক্যের অভাব অনুভব করেই আরএসএস প্রতিষ্ঠা করেছিলেন—এই ইতিহাসও স্মরণ করিয়ে দেন তিনি।
মতামত