রোববার (১৫ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে হাতিয়া উপজেলার সোনাদিয়া ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ড রিয়াজ মার্কেট এলাকায় এ মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। এতে অর্ধশতাধিক ভুক্তভোগী অংশ নিয়ে নির্বাচন পরবর্তী সহিংসতায় তাদের ক্ষয়ক্ষতির বর্ণনা দেন এবং দোষীদের বিচারের দাবি জানান।
মানববন্ধনে বক্তারা অভিযোগ করেন, ভোটের দিন থেকে শুরু করে ফল ঘোষণা পরবর্তী সময় পর্যন্ত ওই এলাকায় এনসিপির সমর্থকরা সোনাদিয়া বাংলাবাজার ও রিয়াজ মার্কেট এলাকায় ভীতিকর পরিস্থিতি সৃষ্টি করে। ফলাফল ঘোষণার পর অন্তত ১০টি বাড়িতে হামলা ও ভাঙচুর চালানো হয়। ঘরের ভেতরে ঢুকে গালিগালাজ, লুটপাট এবং গবাদিপশুর ওপর হামলার ঘটনাও ঘটে। এমনকি ভোট শেষের তিন দিন পরও ভুক্তভোগীদের যেখানেই পাওয়া যাচ্ছে, সেখানেই মারধর করা হচ্ছে বলে অভিযোগ ওঠে।
মানববন্ধনে বক্তব্য দেন দীপক চন্দ্র দাস, দুর্জয় ধন দাস, প্রিয়াঙ্কা বালা দাস, কাকন চন্দ্র দাস, সহদেব দাস, এমরান, মজনু ও শাহেনাসহ অনেকে।
তারা চলমান পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এনে দোষীদের বিরুদ্ধে দ্রুত প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান। একই সঙ্গে তারা নির্বাচিত সংসদ সদস্য আব্দুল হান্নান মাসুদ ও প্রশাসনে হস্তক্ষেপ কামনা করেন।
দীপক চন্দ্র দাস বলেন, “ভোটের পরদিন রাতে বাজারে এনসিপির লোকজন আমাকে ও আমার ছেলেকে মারধর করে। তারা বলে—আগে আওয়ামী লীগ করছ, এখন ধানের শীষে ভোট দিয়েছ কেন।”
দুর্জয় ধন দাসের স্ত্রী অভিযোগ করেন, হামলাকারীরা তাদের গবাদিপশু পিটিয়ে আহত করে এবং বাড়ি ছেড়ে যাওয়ার হুমকি দেয়।
কাকন চন্দ্র দাস জানান, বাজারে তাকে হাতুড়ি দিয়ে আঘাত করে পকেট থেকে টাকা ছিনিয়ে নেওয়া হয়।

ভুক্তভোগীদের দাবি, এসব ঘটনায় এনায়েত হোসেন, মহিউদ্দিন, হান্নান ডুবাই, ওছমান ও জহিরুল ইসলামের নেতৃত্বে একটি সংঘবদ্ধ অপরাধচক্র জড়িত। তাদের সহযোগী হিসেবে নাইম, কাওছার, জুয়েল, শাকিব, শুভ, হাসান, সম্পদ, নিশান ও জিটনের নামও উল্লেখ করেন তারা।
এদিকে বুড়িরচর ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ডে গৌর হরি মাঝি বাড়ির মৃদুল চন্দ্র দাসের বাড়িতে হামলা ও ভাঙচুরের অভিযোগ পাওয়া গেছে। তিনি জানান, ভোটকেন্দ্রের পাশে বাড়ি হওয়ায় নৌবাহিনীর সদস্যদের কাছে অভিযোগ জানালেও তৎক্ষণাৎ কোনো কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।
মৃদুল চন্দ্র দাস ও তার স্ত্রী বলেন, ভোটেরদিন একদল অস্রধারী লোক হঠাৎ তাদের ঘরের সামনে এসে বলে- তোদের ঘরে ধানের শীষের লোক আছে। এই বলে ঘরের চারদিকে রামদা দিয়ে কোপাতে থাকে। লাথি দিয়ে দরজা ভেঙে ফেলে। আমাদের বিয়ের উপযুক্ত তিনটি মেয়ে থাকায় তাদেরকে রেখে ঘর ছেড়ে চলেও যেতে পারিনি।

মতামত