দেশের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের সবচেয়ে বড় স্নানোৎসবে পুন্যার্থীদের যাতায়াতে এবার চরম দুর্ভোগ হতে পারে। দুর্ভোগ এড়াতে দ্রুত ব্যবস্থা নেবার দাবি জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
তাহিরপুর উপজেলার যাদুকাটা নদীর রাজারগাঁও এলাকায় শ্রী শ্রী অদ্বৈত মন্দিরের পাশে এই স্নানোৎসব হয়। এবার ১৭ মার্চ (২রা চৈত্র) ভোর থেকে স্নানোৎসব শুরু হবে।
শ্রী শ্রী অদ্বৈত জন্মধাম পণাতীর্থে গঙ্গাস্নান ও মেলা এবং শাহ আরফিন (র:) এর ওরস উপলক্ষে বুধবার জেলার তাহিরপুর ও বিশ্বম্ভপুর উপজেলায় প্রস্তুতি কমিটির সভায়ও যাতায়াত দুর্ভোগের আশঙ্কার কথা জানানো হয়েছে।
প্রতি বছর চৈত্র মাসে তাহিরপুর উপজেলার বাদাঘাট ইউনিয়নের যাদুকাটা নদীর রাজারগাঁও সংলগ্ন স্থানে গঙ্গাস্নান অনুষ্ঠিত হয়। ভক্তরা এখানে পিতৃপুরুষের উদ্দেশ্যে তর্পণও করেন। এ উপলক্ষে এখানে লক্ষ লক্ষ ভক্তের সমাগম হয় এবং মেলা বসে। বহুকাল আগে থেকেই তাহিরপুর সীমান্তের রাজারগাঁওয়ের পাশের যাদুকাটা নদীতে লাখো পুন্যার্থী সমবেত হন। এবার স্নানের সময় ১৭ মার্চ (২রা চৈত্র) মঙ্গলবার ভোর পাঁচটা ৫৩ মিনিট থেকে চলবে আটটা ৩৭ মিনিট পর্যন্ত। এই সময়ের মধ্যেই ওখানে পৌঁছে স্নান সারার চেষ্টা করবেন সারাদেশের পুন্যার্থীরা। বেশিরভাগ পুন্যার্থী আগের দিন রাতে রাজারগাঁওয়ের শ্রী শ্রী অদ্বৈত জন্মধামে গিয়ে এই উপলক্ষে আয়োজিত উৎসবে রাত কাটান। এবার সড়কে উন্নয়ন কাজ চলমান থাকায় উৎসবে যাতায়াতকারী দুর্ভোগে পড়তে পারেন বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
অদ্বৈত জন্মধাম পরিচালনা কমিটির সভাপতি করুণা সিন্ধু চৌধুরী বাবুল ও সাধারণ সম্পাদক কানন বন্ধু রায় জানালেন, ‘লাখো পুন্যার্থীর নির্বিঘ্ন যাতায়াত নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দুয়ারে দুয়ারে ঘুরছেন তারা। বুধবার উৎসব অঙ্গন লাগোয়া দুই উপজেলায় প্রস্তুতি কমিটির সভায়ও একই আশঙ্কার কথা জানিয়ে সড়কের উন্নয়ন কর্তৃপক্ষকে (এলজিইডিকে) দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণের কথা বলা হয়েছে।
স্থানীয়রা জানিয়েছেন, সারাদেশ থেকে আসা পুণ্যার্থীরা স্নানোৎসবে যাতায়াতে এবার পথ নির্ধারণ হয়েছে দুটি। একমুখী সড়কে সুনামগঞ্জের আব্দুজ জহুর সেতু থেকে চালবন পয়েন্ট, পলাশ বাজার, কারেন্টের বাজার, ধনপুর বাজার, মোমেন বাজার, আনন্দবাজার, পুরানগাঁও-বিন্নাকুলি হয়ে পণতীর্থ। আবার স্নান সেরে আসার পথে লাউড়েরগড়, মাছিমপুর, চিনাকান্দি, মুজিববাজার, বাঘবেড় ও চালবন হয়ে আব্দুজ জহুর সেতু। এই পথের অনেক স্থানেই এবার উন্নয়ন কাজ হচ্ছে, আবার কোথাও কোথাও ভাঙাচোরা-খানাখন্দে ভরা সড়ক।
পলাশ থেকে ধনপুর বাজার পর্যন্ত যান চলাচলের অনুপযোগী সড়ক। খানা-খন্দ তিন কিলোমিটার জুড়ে। মোমেন বাজার থেকে পুটিয়া সেতু পর্যন্ত সড়ক ভাঙাচোরা। এখানে দুই কিলোমিটার এলাকায় তিনটি সেতুর কাজ হচ্ছে। সেতুর পাশে চলাচলের জন্য বিকল্প সড়ক আছে নামে মাত্র। সরু এবং মাটির বিকল্প সড়কে সামান্য বৃষ্টি হলে যানবাহন চলবে না। বৃষ্টি না হলেও এখানে যানজট তৈরি হতে পারে। দুর্ভোগে পড়তে পারেন তীর্থযাত্রীরা।
কারেন্টের বাজার থেকে কাটাখালী বাজার পর্যন্ত চার কিলোমিটার সড়কেরও নাজুক অবস্থা। ওখানকার প্রায় চার কিলোমিটার অংশ জানান দিচ্ছে ‘ওইখানে এক সময় পাকা সড়ক ছিল’।
অদ্বৈত জন্মধাম পরিচালনা কমিটির সহসভাপতি অদ্বৈত রায় বললেন,‘বিকল্প ডাইভারসন রোড ইট-কংক্রিট দিয়ে তৈরি না করা হলেও তীর্থ যাত্রীরা চরম দুর্ভোগে পড়বে।’
অদ্বৈত জন্মধাম পরিচালনা কমিটির সভাপতি করুণা সিন্ধু চৌধুরী বাবুল ও সাধারণ সম্পাদক কানন বন্ধু রায়ও একই আশঙ্কার কথা জানালেন। একইসঙ্গে যাদুকাটা নদীর স্নানের ঘাট থেকে বালু উত্তোলনের কারণেও নদী গভীর হয়েছে জানিয়ে বললেন, ওখানেও আরেক বিপদ তৈরি করা হয়েছে। সকলকে সতর্কভাবে স্নান সারতে হবে বলে মন্তব্য করলেন তারা।
তাহিরপুরের ইউএনও মেহেদী হাসান মানিক ও বিশ্বম্ভরপুরের ইউএনও আব্দুল মতিন খান বললেন, দুই উপজেলায় বুধবার স্নানোৎসবের প্রস্তুতি সভায় যাতায়াত পথ নিয়ে কথা হয়েছে। এলজিইডিকে তাগাদা দেওয়া হয়েছে দ্রুততম সময়ে পথকে যাতায়াত উপযোগী করে দেবার জন্য।
এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী আনোয়ার হোসেন বললেন, জেলা ও দুই উপজেলার প্রস্তুতি সভা থেকে স্নানোৎসবের বিষয়টি জানানো হয়েছে। তিনি সরেজমিনে মঙ্গলবার দেখে এসে ঠিকাদারকে বলে দিয়েছেন, দশ লাখ মানুষ স্নানোৎসবে এই পথ দিয়ে যাতায়াত করবেন, ঠিকাদার যেন দ্রুততম সময়ে এই পথকে চলাচল উপযোগী করে দেয়। তিনি জানালেন, ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানও কথা দিয়েছে, তারা সেটি দ্রুতই চলাচল উপযোগী করে দেবে।
মতামত