এই মন্দিরের উৎপত্তির সঙ্গে জড়িয়ে আছে রাজা প্রতাপাদিত্য ও রাজা কৃষ্ণচন্দ্র রায়ের মতো ঐতিহাসিক ব্যক্তিত্বদের নাম। কথিত আছে, রাজা কৃষ্ণচন্দ্র রায় নৌবিহারের সময় স্বপ্নাদেশ পেয়ে জঙ্গলঘেরা এক ভগ্নপ্রায় মন্দিরে দেবীর অস্তিত্ব খুঁজে পান এবং পরবর্তীতে গ্রামবাসীর সহযোগিতায় মন্দিরটি পুনর্নির্মাণ করেন। তবে অনেক ঐতিহাসিকের মতে, এই মন্দিরের আদি ভিত্তি স্থাপন করেছিলেন রাজা প্রতাপাদিত্য। এমনকি ‘সংগ্রামপুর’ নামটির পেছনেও মুঘল সম্রাট আকবরের বাহিনীর সঙ্গে প্রতাপাদিত্যের লড়াইয়ের ইতিহাসের ইঙ্গিত পাওয়া যায়।
মন্দির সংলগ্ন জনৈক ব্যক্তির নিয়ে আসা একটি অলৌকিক ঘটকে কেন্দ্র করেই এই উপাসনার সূচনা বলে অনেকে বিশ্বাস করেন। লোকবিশ্বাস এতটাই প্রবল যে, মন্দির প্রাঙ্গণের এক মাইলের মধ্যে অন্য কোনো কালীপুজো করার নিয়ম নেই। জনশ্রুতি আছে, অতীতের এক ব্যবসায়ী এই প্রথা অমান্য করে সর্বস্বান্ত হয়েছিলেন। আজও এখানে প্রাচীন রীতি মেনে চিংড়ি মাছ, কচু শাক ও পাঁঠা বলির মাধ্যমে দেবীর আরাধনা করা হয়। প্রায় ছয় শতাব্দী ধরে চলে আসা এই বলি প্রথা গ্রামবাসীর অমঙ্গল আশঙ্কায় আজও অম্লান।
রাজা কৃষ্ণচন্দ্রের সময় থেকে আজ অবধি চক্রবর্তী পরিবারের বংশধররাই পালাক্রমে মায়ের সেবা করে আসছেন। বর্তমানে মানিক চক্রবর্তী, সদানন্দ চক্রবর্তী ও শিবু চক্রবর্তীসহ আটজন শরিক সদস্য নিষ্ঠার সঙ্গে দেবীর নিত্যপূজা ও ভোগ নিবেদন করেন। প্রতিদিন ভোরে ধূপ-ধুনোর গন্ধে এবং ভক্তদের ‘জয় মা কালী’ ধ্বনিতে মুখরিত হয়ে ওঠে এই প্রাঙ্গণ। আধ্যাত্মিকতা ও ইতিহাসের এমন মেলবন্ধন সংগ্রামপুর কালীবাড়িকে বাংলার এক অন্যতম শ্রেষ্ঠ তীর্থক্ষেত্রে পরিণত করেছে।
মতামত