হিন্দুস নিউজ

ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলনের অমর বীর বিপ্লবী মাস্টারদা সূর্যসেনের জন্মদিন আজ


| প্রিন্ট সংস্করণ

ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলনের অমর বীর বিপ্লবী মাস্টারদা সূর্যসেনের জন্মদিন আজ
Hindus News Voice of Hinduism
আপনার পণ্য ও প্রতিষ্ঠানের বিজ্ঞাপন দিন Hindus News এ।

আজ ২২ মার্চ, ব্রিটিশবিরোধী স্বাধীনতা আন্দোলনের অন্যতম কিংবদন্তি বিপ্লবী, চট্টগ্রামের গর্ব, বাঙালির বীর সন্তান মাস্টারদা সূর্যসেনের জন্মদিন। ১৮৯৪ সালের এই দিনে তৎকালীন অবিভক্ত বাংলার চট্টগ্রাম জেলার রাউজান উপজেলার নোয়াপাড়ায় জন্মগ্রহণ করেন তিনি। শিক্ষকতা পেশায় যুক্ত থাকার কারণে তিনি মানুষের কাছে “মাস্টারদা” নামেই অধিক পরিচিত হয়ে ওঠেন। কিন্তু সাধারণ একজন শিক্ষক হয়েও তিনি হয়ে উঠেছিলেন ব্রিটিশ সাম্রাজ্যবাদের বিরুদ্ধে সশস্ত্র সংগ্রামের এক অনন্য প্রতীক। তাঁর নেতৃত্ব, সাহস, সংগঠনশক্তি এবং আত্মত্যাগ আজও স্বাধীনতার ইতিহাসে উজ্জ্বল অক্ষরে লেখা আছে। সূর্যসেনের জন্মতারিখ ২২ মার্চ ১৮৯৪ এবং তিনি ১৯৩০ সালের চট্টগ্রাম অস্ত্রাগার লুণ্ঠন অভিযানের প্রধান নেতা হিসেবে ইতিহাসে সর্বাধিক পরিচিত। �

Wikipedia +1

মাস্টারদা সূর্যসেনের জন্ম এক সাধারণ মধ্যবিত্ত পরিবারে হলেও তাঁর চিন্তা, চেতনা ও সাহস ছিল অসাধারণ। তাঁর পিতা রমণীরঞ্জন সেন ছিলেন একজন শিক্ষক। ছোটবেলা থেকেই সূর্যসেন ছিলেন মেধাবী, দেশপ্রেমিক ও দৃঢ়চেতা। শিক্ষাজীবনে তিনি বিপ্লবী চেতনার সংস্পর্শে আসেন এবং খুব অল্প বয়সেই উপলব্ধি করেন যে, ব্রিটিশ শাসনের শৃঙ্খল ভেঙে স্বাধীনতা অর্জন না করা পর্যন্ত এই দেশের মানুষের মুক্তি সম্ভব নয়। ছাত্রাবস্থায়ই তিনি বিপ্লবী সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত হন এবং পরবর্তীতে চট্টগ্রামে ফিরে শিক্ষকতার পাশাপাশি গোপনে স্বাধীনতা আন্দোলনের সাংগঠনিক কাজ শুরু করেন। তিনি জাতীয়তাবাদী রাজনীতি, বিপ্লবী আদর্শ এবং যুবসমাজকে সংগঠিত করার কাজে নিজেকে সম্পূর্ণভাবে নিয়োজিত করেন। �

Hindus News Voice of Hinduism
আপনার পণ্য ও প্রতিষ্ঠানের বিজ্ঞাপন দিন Hindus News এ।

Wikipedia

চট্টগ্রামের একটি জাতীয় বিদ্যালয়ে শিক্ষকতা করার সময় তিনি তরুণ সমাজের কাছে দ্রুত জনপ্রিয় হয়ে ওঠেন। তাঁর ছাত্র, সহকর্মী ও অনুসারীরা তাঁকে শুধু শিক্ষক হিসেবে নয়, একজন পথপ্রদর্শক, একজন অনুপ্রেরণাদাতা এবং একজন সংগ্রামী নেতারূপে দেখতে শুরু করেন। এখান থেকেই “মাস্টারদা” নামটি তাঁর সঙ্গে অমর হয়ে যায়। তিনি বিশ্বাস করতেন, কেবল বক্তৃতা বা আবেদন-নিবেদনের মাধ্যমে ব্রিটিশ সাম্রাজ্যবাদকে পরাজিত করা সম্ভব নয়; প্রয়োজন সুসংগঠিত প্রতিরোধ, ত্যাগ এবং সশস্ত্র প্রস্তুতি। এই বিশ্বাস থেকেই তিনি চট্টগ্রামের তরুণ বিপ্লবীদের একত্রিত করেন এবং ধীরে ধীরে গড়ে তোলেন এক দুর্ধর্ষ বিপ্লবী নেটওয়ার্ক। �

Wikipedia

ভারতের স্বাধীনতা সংগ্রামের ইতিহাসে মাস্টারদা সূর্যসেনের নাম সবচেয়ে বেশি উচ্চারিত হয় ১৯৩০ সালের ১৮ এপ্রিলের ঐতিহাসিক চট্টগ্রাম অস্ত্রাগার লুণ্ঠন অভিযানের জন্য। এই অভিযান ছিল ব্রিটিশ শাসনের বিরুদ্ধে পূর্ববাংলায় সংঘটিত সবচেয়ে সাহসী, সুপরিকল্পিত এবং যুগান্তকারী সশস্ত্র আঘাতগুলোর একটি। সূর্যসেনের নেতৃত্বে বিপ্লবীরা চট্টগ্রামের পুলিশ অস্ত্রাগার, অক্সিলিয়ারি ফোর্সের অস্ত্রাগার, টেলিগ্রাফ ও টেলিফোন সংযোগ এবং রেল যোগাযোগ ব্যবস্থা বিচ্ছিন্ন করার পরিকল্পনা গ্রহণ করেন। উদ্দেশ্য ছিল ব্রিটিশ প্রশাসনকে সাময়িকভাবে অচল করে চট্টগ্রামকে বিচ্ছিন্ন করা এবং সেখানে একটি অস্থায়ী বিপ্লবী সরকার প্রতিষ্ঠার প্রতীকী ঘোষণা দেওয়া। �

Wikipedia

১৯৩০ সালের সেই অভিযানে বিপ্লবীরা দুঃসাহসিকভাবে অস্ত্রাগারে আক্রমণ চালিয়ে বহু অস্ত্র দখল করলেও পর্যাপ্ত গোলাবারুদ পুরোপুরি সংগ্রহ করতে পারেননি। তবুও এই অভিযান ব্রিটিশ প্রশাসনের ভিত কাঁপিয়ে দিয়েছিল। অস্ত্রাগার দখলের পর বিপ্লবীরা জাতীয় পতাকা উত্তোলন করেন এবং স্বাধীনতার ঘোষণার মাধ্যমে উপনিবেশিক শাসনের বিরুদ্ধে বাঙালির সশস্ত্র আত্মপ্রকাশের এক ঐতিহাসিক দৃষ্টান্ত স্থাপন করেন। ব্রিটিশদের কাছে এটি ছিল বিদ্রোহ, কিন্তু স্বাধীনতাকামী মানুষের কাছে এটি ছিল মুক্তির সংগ্রামের এক মহাকাব্যিক সূচনা। �

Wikipedia

অস্ত্রাগার লুণ্ঠনের পর বিপ্লবীরা জালালাবাদ পাহাড়ে অবস্থান নেন। এরপর ২২ এপ্রিল জালালাবাদ পাহাড়ে ব্রিটিশ বাহিনীর সঙ্গে বিপ্লবীদের তুমুল সংঘর্ষ হয়। এই যুদ্ধে বহু তরুণ বিপ্লবী শহীদ হন, কিন্তু তাঁদের আত্মত্যাগ বৃথা যায়নি। জালালাবাদের সেই রক্তাক্ত লড়াই প্রমাণ করে দেয়—বাংলার মাটিতে এমন এক প্রজন্ম জন্ম নিয়েছে যারা স্বাধীনতার জন্য জীবন দিতেও প্রস্তুত। সূর্যসেনের নেতৃত্বে চট্টগ্রামের এই বিপ্লবী আন্দোলন শুধু একটি সামরিক অভিযান ছিল না; এটি ছিল দাসত্ববিরোধী আত্মমর্যাদা, বীরত্ব ও আত্মোৎসর্গের এক অগ্নিগাথা। �

Wikipedia

চট্টগ্রাম অস্ত্রাগার লুণ্ঠনের পর দীর্ঘ সময় ধরে সূর্যসেন ব্রিটিশ পুলিশের চোখ ফাঁকি দিয়ে আত্মগোপনে থাকেন। তিনি ছদ্মবেশে বিভিন্ন স্থানে আশ্রয় নেন, গ্রামে-গঞ্জে ঘুরে সংগঠনকে সচল রাখেন এবং ব্রিটিশবিরোধী কার্যক্রম চালিয়ে যান। তাঁর নেতৃত্বের সবচেয়ে বড় শক্তি ছিল—তিনি তরুণদের হৃদয়ে স্বাধীনতার আগুন জ্বালিয়ে দিতে পারতেন। তিনি কখনো ব্যক্তিগত নিরাপত্তাকে গুরুত্ব দেননি; বরং দেশের স্বাধীনতাকেই জীবনের একমাত্র লক্ষ্য হিসেবে গ্রহণ করেছিলেন। �

Wikipedia

অবশেষে বিশ্বাসঘাতকতার শিকার হয়ে ১৯৩৩ সালের ১৬ ফেব্রুয়ারি মাস্টারদা সূর্যসেন ব্রিটিশদের হাতে গ্রেপ্তার হন। দীর্ঘ নির্যাতন, অমানবিক শারীরিক ও মানসিক অত্যাচারের পরও তিনি তাঁর সহযোদ্ধাদের নাম প্রকাশ করেননি, আদর্শ থেকে বিচ্যুত হননি, ভেঙে পড়েননি। ব্রিটিশ শাসকগোষ্ঠী তাঁকে বিচারের নামে প্রহসনের মাধ্যমে মৃত্যুদণ্ড দেয়। ১৯৩৪ সালের ১২ জানুয়ারি চট্টগ্রাম কেন্দ্রীয় কারাগারে তাঁকে ফাঁসিতে ঝুলিয়ে হত্যা করা হয়। তাঁর মৃত্যু ছিল না পরাজয়; বরং তা ছিল স্বাধীনতার জন্য আত্মোৎসর্গের এক চূড়ান্ত মহিমা। �

Wikipedia +1

মাস্টারদা সূর্যসেন শুধু একজন বিপ্লবী নেতা ছিলেন না, তিনি ছিলেন এক আদর্শ নির্মাতা। তাঁর চিন্তায় ছিল মানবতা, শৃঙ্খলা, সংগঠন এবং মুক্তির স্বপ্ন। তিনি বিশ্বাস করতেন, বিপ্লব কেবল অস্ত্রের লড়াই নয়; এটি মানুষের চেতনার জাগরণ। তাঁর বিখ্যাত শেষ বার্তায় তিনি স্বাধীন ভারতের স্বপ্নকে জীবনের সর্বোচ্চ উত্তরাধিকার হিসেবে রেখে যেতে চেয়েছিলেন। সেই স্বপ্ন ছিল শোষণমুক্ত, পরাধীনতামুক্ত, মর্যাদাবান এক স্বাধীন দেশের স্বপ্ন। তাঁর জীবন আজও প্রমাণ করে—একজন শিক্ষকও ইতিহাস বদলে দিতে পারেন, যদি তাঁর অন্তরে থাকে জাতির মুক্তির অদম্য অঙ্গীকার। �

Reddit

চট্টগ্রামের মাটি মাস্টারদা সূর্যসেনকে শুধু জন্ম দেয়নি, তাঁর নেতৃত্বে স্বাধীনতার সংগ্রামের এক ঐতিহাসিক অধ্যায়ের সাক্ষীও হয়েছে। তাই সূর্যসেন কেবল একটি নাম নন; তিনি চট্টগ্রামের অহংকার, বাঙালির সংগ্রামী চেতনার প্রতীক এবং উপমহাদেশের স্বাধীনতা আন্দোলনের এক উজ্জ্বল নক্ষত্র। তাঁর জন্মদিনে তাঁকে স্মরণ করা মানে কেবল অতীতকে স্মরণ করা নয়, বরং অন্যায়ের বিরুদ্ধে মাথা উঁচু করে দাঁড়ানোর সাহসকে পুনর্জাগরিত করা। �

Wikipedia

আজ তাঁর জন্মদিনে দেশ-বিদেশের অসংখ্য মানুষ গভীর শ্রদ্ধায় স্মরণ করছেন এই মহান বিপ্লবীকে। নতুন প্রজন্মের কাছে তাঁর জীবন ও সংগ্রাম আরও বেশি করে তুলে ধরা সময়ের দাবি। কারণ ইতিহাস ভুলে গেলে জাতি দুর্বল হয়, আর ইতিহাসকে ধারণ করলে জাতি শক্তি পায়। মাস্টারদা সূর্যসেন সেই শক্তিরই আরেক নাম—ত্যাগের শক্তি, সংগ্রামের শক্তি, স্বাধীনতার শক্তি।

0.0%
0.0%
0.0%
0.0%

মতামত

হিন্দুস নিউজ

রোববার, ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬


ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলনের অমর বীর বিপ্লবী মাস্টারদা সূর্যসেনের জন্মদিন আজ

প্রকাশের তারিখ : ২২ মার্চ ২০২৬

featured Image

আজ ২২ মার্চ, ব্রিটিশবিরোধী স্বাধীনতা আন্দোলনের অন্যতম কিংবদন্তি বিপ্লবী, চট্টগ্রামের গর্ব, বাঙালির বীর সন্তান মাস্টারদা সূর্যসেনের জন্মদিন। ১৮৯৪ সালের এই দিনে তৎকালীন অবিভক্ত বাংলার চট্টগ্রাম জেলার রাউজান উপজেলার নোয়াপাড়ায় জন্মগ্রহণ করেন তিনি। শিক্ষকতা পেশায় যুক্ত থাকার কারণে তিনি মানুষের কাছে “মাস্টারদা” নামেই অধিক পরিচিত হয়ে ওঠেন। কিন্তু সাধারণ একজন শিক্ষক হয়েও তিনি হয়ে উঠেছিলেন ব্রিটিশ সাম্রাজ্যবাদের বিরুদ্ধে সশস্ত্র সংগ্রামের এক অনন্য প্রতীক। তাঁর নেতৃত্ব, সাহস, সংগঠনশক্তি এবং আত্মত্যাগ আজও স্বাধীনতার ইতিহাসে উজ্জ্বল অক্ষরে লেখা আছে। সূর্যসেনের জন্মতারিখ ২২ মার্চ ১৮৯৪ এবং তিনি ১৯৩০ সালের চট্টগ্রাম অস্ত্রাগার লুণ্ঠন অভিযানের প্রধান নেতা হিসেবে ইতিহাসে সর্বাধিক পরিচিত। �

Wikipedia +1

মাস্টারদা সূর্যসেনের জন্ম এক সাধারণ মধ্যবিত্ত পরিবারে হলেও তাঁর চিন্তা, চেতনা ও সাহস ছিল অসাধারণ। তাঁর পিতা রমণীরঞ্জন সেন ছিলেন একজন শিক্ষক। ছোটবেলা থেকেই সূর্যসেন ছিলেন মেধাবী, দেশপ্রেমিক ও দৃঢ়চেতা। শিক্ষাজীবনে তিনি বিপ্লবী চেতনার সংস্পর্শে আসেন এবং খুব অল্প বয়সেই উপলব্ধি করেন যে, ব্রিটিশ শাসনের শৃঙ্খল ভেঙে স্বাধীনতা অর্জন না করা পর্যন্ত এই দেশের মানুষের মুক্তি সম্ভব নয়। ছাত্রাবস্থায়ই তিনি বিপ্লবী সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত হন এবং পরবর্তীতে চট্টগ্রামে ফিরে শিক্ষকতার পাশাপাশি গোপনে স্বাধীনতা আন্দোলনের সাংগঠনিক কাজ শুরু করেন। তিনি জাতীয়তাবাদী রাজনীতি, বিপ্লবী আদর্শ এবং যুবসমাজকে সংগঠিত করার কাজে নিজেকে সম্পূর্ণভাবে নিয়োজিত করেন। �

Wikipedia

চট্টগ্রামের একটি জাতীয় বিদ্যালয়ে শিক্ষকতা করার সময় তিনি তরুণ সমাজের কাছে দ্রুত জনপ্রিয় হয়ে ওঠেন। তাঁর ছাত্র, সহকর্মী ও অনুসারীরা তাঁকে শুধু শিক্ষক হিসেবে নয়, একজন পথপ্রদর্শক, একজন অনুপ্রেরণাদাতা এবং একজন সংগ্রামী নেতারূপে দেখতে শুরু করেন। এখান থেকেই “মাস্টারদা” নামটি তাঁর সঙ্গে অমর হয়ে যায়। তিনি বিশ্বাস করতেন, কেবল বক্তৃতা বা আবেদন-নিবেদনের মাধ্যমে ব্রিটিশ সাম্রাজ্যবাদকে পরাজিত করা সম্ভব নয়; প্রয়োজন সুসংগঠিত প্রতিরোধ, ত্যাগ এবং সশস্ত্র প্রস্তুতি। এই বিশ্বাস থেকেই তিনি চট্টগ্রামের তরুণ বিপ্লবীদের একত্রিত করেন এবং ধীরে ধীরে গড়ে তোলেন এক দুর্ধর্ষ বিপ্লবী নেটওয়ার্ক। �

Wikipedia

ভারতের স্বাধীনতা সংগ্রামের ইতিহাসে মাস্টারদা সূর্যসেনের নাম সবচেয়ে বেশি উচ্চারিত হয় ১৯৩০ সালের ১৮ এপ্রিলের ঐতিহাসিক চট্টগ্রাম অস্ত্রাগার লুণ্ঠন অভিযানের জন্য। এই অভিযান ছিল ব্রিটিশ শাসনের বিরুদ্ধে পূর্ববাংলায় সংঘটিত সবচেয়ে সাহসী, সুপরিকল্পিত এবং যুগান্তকারী সশস্ত্র আঘাতগুলোর একটি। সূর্যসেনের নেতৃত্বে বিপ্লবীরা চট্টগ্রামের পুলিশ অস্ত্রাগার, অক্সিলিয়ারি ফোর্সের অস্ত্রাগার, টেলিগ্রাফ ও টেলিফোন সংযোগ এবং রেল যোগাযোগ ব্যবস্থা বিচ্ছিন্ন করার পরিকল্পনা গ্রহণ করেন। উদ্দেশ্য ছিল ব্রিটিশ প্রশাসনকে সাময়িকভাবে অচল করে চট্টগ্রামকে বিচ্ছিন্ন করা এবং সেখানে একটি অস্থায়ী বিপ্লবী সরকার প্রতিষ্ঠার প্রতীকী ঘোষণা দেওয়া। �

Wikipedia

১৯৩০ সালের সেই অভিযানে বিপ্লবীরা দুঃসাহসিকভাবে অস্ত্রাগারে আক্রমণ চালিয়ে বহু অস্ত্র দখল করলেও পর্যাপ্ত গোলাবারুদ পুরোপুরি সংগ্রহ করতে পারেননি। তবুও এই অভিযান ব্রিটিশ প্রশাসনের ভিত কাঁপিয়ে দিয়েছিল। অস্ত্রাগার দখলের পর বিপ্লবীরা জাতীয় পতাকা উত্তোলন করেন এবং স্বাধীনতার ঘোষণার মাধ্যমে উপনিবেশিক শাসনের বিরুদ্ধে বাঙালির সশস্ত্র আত্মপ্রকাশের এক ঐতিহাসিক দৃষ্টান্ত স্থাপন করেন। ব্রিটিশদের কাছে এটি ছিল বিদ্রোহ, কিন্তু স্বাধীনতাকামী মানুষের কাছে এটি ছিল মুক্তির সংগ্রামের এক মহাকাব্যিক সূচনা। �

Wikipedia

অস্ত্রাগার লুণ্ঠনের পর বিপ্লবীরা জালালাবাদ পাহাড়ে অবস্থান নেন। এরপর ২২ এপ্রিল জালালাবাদ পাহাড়ে ব্রিটিশ বাহিনীর সঙ্গে বিপ্লবীদের তুমুল সংঘর্ষ হয়। এই যুদ্ধে বহু তরুণ বিপ্লবী শহীদ হন, কিন্তু তাঁদের আত্মত্যাগ বৃথা যায়নি। জালালাবাদের সেই রক্তাক্ত লড়াই প্রমাণ করে দেয়—বাংলার মাটিতে এমন এক প্রজন্ম জন্ম নিয়েছে যারা স্বাধীনতার জন্য জীবন দিতেও প্রস্তুত। সূর্যসেনের নেতৃত্বে চট্টগ্রামের এই বিপ্লবী আন্দোলন শুধু একটি সামরিক অভিযান ছিল না; এটি ছিল দাসত্ববিরোধী আত্মমর্যাদা, বীরত্ব ও আত্মোৎসর্গের এক অগ্নিগাথা। �

Wikipedia

চট্টগ্রাম অস্ত্রাগার লুণ্ঠনের পর দীর্ঘ সময় ধরে সূর্যসেন ব্রিটিশ পুলিশের চোখ ফাঁকি দিয়ে আত্মগোপনে থাকেন। তিনি ছদ্মবেশে বিভিন্ন স্থানে আশ্রয় নেন, গ্রামে-গঞ্জে ঘুরে সংগঠনকে সচল রাখেন এবং ব্রিটিশবিরোধী কার্যক্রম চালিয়ে যান। তাঁর নেতৃত্বের সবচেয়ে বড় শক্তি ছিল—তিনি তরুণদের হৃদয়ে স্বাধীনতার আগুন জ্বালিয়ে দিতে পারতেন। তিনি কখনো ব্যক্তিগত নিরাপত্তাকে গুরুত্ব দেননি; বরং দেশের স্বাধীনতাকেই জীবনের একমাত্র লক্ষ্য হিসেবে গ্রহণ করেছিলেন। �

Wikipedia

অবশেষে বিশ্বাসঘাতকতার শিকার হয়ে ১৯৩৩ সালের ১৬ ফেব্রুয়ারি মাস্টারদা সূর্যসেন ব্রিটিশদের হাতে গ্রেপ্তার হন। দীর্ঘ নির্যাতন, অমানবিক শারীরিক ও মানসিক অত্যাচারের পরও তিনি তাঁর সহযোদ্ধাদের নাম প্রকাশ করেননি, আদর্শ থেকে বিচ্যুত হননি, ভেঙে পড়েননি। ব্রিটিশ শাসকগোষ্ঠী তাঁকে বিচারের নামে প্রহসনের মাধ্যমে মৃত্যুদণ্ড দেয়। ১৯৩৪ সালের ১২ জানুয়ারি চট্টগ্রাম কেন্দ্রীয় কারাগারে তাঁকে ফাঁসিতে ঝুলিয়ে হত্যা করা হয়। তাঁর মৃত্যু ছিল না পরাজয়; বরং তা ছিল স্বাধীনতার জন্য আত্মোৎসর্গের এক চূড়ান্ত মহিমা। �

Wikipedia +1

মাস্টারদা সূর্যসেন শুধু একজন বিপ্লবী নেতা ছিলেন না, তিনি ছিলেন এক আদর্শ নির্মাতা। তাঁর চিন্তায় ছিল মানবতা, শৃঙ্খলা, সংগঠন এবং মুক্তির স্বপ্ন। তিনি বিশ্বাস করতেন, বিপ্লব কেবল অস্ত্রের লড়াই নয়; এটি মানুষের চেতনার জাগরণ। তাঁর বিখ্যাত শেষ বার্তায় তিনি স্বাধীন ভারতের স্বপ্নকে জীবনের সর্বোচ্চ উত্তরাধিকার হিসেবে রেখে যেতে চেয়েছিলেন। সেই স্বপ্ন ছিল শোষণমুক্ত, পরাধীনতামুক্ত, মর্যাদাবান এক স্বাধীন দেশের স্বপ্ন। তাঁর জীবন আজও প্রমাণ করে—একজন শিক্ষকও ইতিহাস বদলে দিতে পারেন, যদি তাঁর অন্তরে থাকে জাতির মুক্তির অদম্য অঙ্গীকার। �

Reddit

চট্টগ্রামের মাটি মাস্টারদা সূর্যসেনকে শুধু জন্ম দেয়নি, তাঁর নেতৃত্বে স্বাধীনতার সংগ্রামের এক ঐতিহাসিক অধ্যায়ের সাক্ষীও হয়েছে। তাই সূর্যসেন কেবল একটি নাম নন; তিনি চট্টগ্রামের অহংকার, বাঙালির সংগ্রামী চেতনার প্রতীক এবং উপমহাদেশের স্বাধীনতা আন্দোলনের এক উজ্জ্বল নক্ষত্র। তাঁর জন্মদিনে তাঁকে স্মরণ করা মানে কেবল অতীতকে স্মরণ করা নয়, বরং অন্যায়ের বিরুদ্ধে মাথা উঁচু করে দাঁড়ানোর সাহসকে পুনর্জাগরিত করা। �

Wikipedia

আজ তাঁর জন্মদিনে দেশ-বিদেশের অসংখ্য মানুষ গভীর শ্রদ্ধায় স্মরণ করছেন এই মহান বিপ্লবীকে। নতুন প্রজন্মের কাছে তাঁর জীবন ও সংগ্রাম আরও বেশি করে তুলে ধরা সময়ের দাবি। কারণ ইতিহাস ভুলে গেলে জাতি দুর্বল হয়, আর ইতিহাসকে ধারণ করলে জাতি শক্তি পায়। মাস্টারদা সূর্যসেন সেই শক্তিরই আরেক নাম—ত্যাগের শক্তি, সংগ্রামের শক্তি, স্বাধীনতার শক্তি।


হিন্দুস নিউজ

প্রকাশক & সম্পাদক: শুভ চন্দ্র দে
HINDUS NEWS মিডিয়া লিমিটেডের পক্ষে প্রকাশক কর্তৃক ঢাকা থেকে প্রকাশিত

প্রকাশক & সম্পাদক: শুভ চন্দ্র দে,🔴HINDUS NEWS মিডিয়া লিমিটেডের পক্ষে প্রকাশক কর্তৃক ঢাকা থেকে প্রকাশিত।🔴যোগাযোগ: +88 01890890920🔴 ই-মেইল: news@hindus.news 🔴 বিজ্ঞাপন: ads@hindus.news
ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলনের অমর বীর বিপ্লবী মাস্টারদা সূর্যসেনের জন্মদিন আজ
0:00 0:00
1.0x