পৌরাণিক কাহিনী অনুসারে, দেবী পার্বতী মহাদেবকে পতি হিসেবে লাভ করার জন্য কঠোর তপস্যা শুরু করেন। বছরের পর বছর রোদ, জল ও ঝড়ের মধ্যে তপস্যা করায় তাঁর দেহ কৃষ্ণবর্ণ হয়ে গিয়েছিল। মহাদেব যখন তাঁর তপস্যায় তুষ্ট হন, তখন তিনি গঙ্গার পবিত্র জল দিয়ে দেবীর দেহ ধুইয়ে দেন। গঙ্গার পবিত্র স্পর্শে দেবী পুনরায় পূর্ণিমার চাঁদের মতো উজ্জ্বল ও লাবণ্যময়ী হয়ে ওঠেন। দেবীর এই অপরূপ জ্যোতির্ময় রূপটিই হলো 'মহাগৌরী'।
বাসন্তী পূজার মহাষ্টমীর ভোরে মণ্ডপে মণ্ডপে ভক্তদের ভিড় উপচে পড়ছে দেবীর চরণে পুষ্পাঞ্জলি দেওয়ার জন্য। শাস্ত্রীয় বিধান অনুযায়ী, মহাগৌরীর পূজায় শ্বেত চন্দন, সাদা ফুল ও মিষ্টান্ন নিবেদন করা হয়।
আজকের দিনের অন্যতম প্রধান আকর্ষণ হলো 'সন্ধিপূজা'। মহাষ্টমীর শেষ ২৪ মিনিট এবং মহানবমীর শুরুর ২৪ মিনিট—এই মোট ৪৮ মিনিটের মাহেন্দ্রক্ষণে সন্ধিপূজা অনুষ্ঠিত হয়। এই সন্ধি মুহূর্তেই দেবী দুর্গা 'চামুণ্ডা' রূপ ধারণ করে অসুর বিনাশ করেছিলেন। সন্ধিপূজায় ১০৮টি মাটির প্রদীপ প্রজ্বলন এবং ১০৮টি পদ্মফুল অর্পণ করা একটি আবশ্যিক ও ভক্তিপূর্ণ রীতি।
বাসন্তী দুর্গোৎসবের অষ্টমীতে অনেক স্থানে ছোট কন্যাশিশুদের দেবীর প্রতিচ্ছবি হিসেবে 'কুমারী পূজা' করা হয়। নারীর মর্যাদা ও আদি শক্তির মাতৃরূপের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করতেই এই পূজা অনুষ্ঠিত হয়। উলুধ্বনি, শঙ্খনাদ আর ঢাকের বাদ্যিতে প্রতিটি পূজা প্রাঙ্গণ এখন মুখরিত।
বসন্তের এই স্নিগ্ধ সময়ে মহাগৌরীর চরণে ভক্তরা প্রার্থনা জানাচ্ছেন যেন জগত থেকে সকল অশুভ শক্তি বিনাশ পায় এবং পৃথিবীতে শান্তি ও সমৃদ্ধি বিরাজ করে।
মতামত