সম্প্রতি ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মের ওপর চালানো এক পর্যবেক্ষণে উঠে এসেছে এক বিড়ম্বনাময় চিত্র। দেখা গেছে, তথাকথিত প্রগতিশীলতার দোহাই দিয়ে যে তরুণ সমাজ হিন্দুত্বের জয়গান গাইতে কুণ্ঠাবোধ করে, তারাই আবার ভিনধর্মী কোনো পরব এলে উৎসবে ফেটে পড়ে। রামনবমীর পুণ্য তিথিতে ফেসবুকে একটা সামান্য শুভেচ্ছা বার্তা দিতেও যাদের অনীহা, তারাই অন্য ধর্মের অনুষ্ঠানে আবেগঘন দীর্ঘ পোস্ট এবং রঙিন ছবি আপলোড করতে সিদ্ধহস্ত। নিজের শেকড়কে ভুলে যাওয়ার এই প্রবণতা সাংস্কৃতিক দেউলিয়াপনা বলেই মনে করছেন সচেতন মহল।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এই মানসিকতার মূলে রয়েছে দীর্ঘদিনের মগজধোলাই এবং ছদ্ম-ধর্মনিরপেক্ষতার বিষবাষ্প। নিজের সংস্কৃতিকে 'ব্যাকডেটেড' বা অনুন্নত মনে করা আর অন্যের উৎসবকে 'কুল' বা আধুনিক ভাবার এই বিকৃত মানসিকতা হিন্দু সমাজকে ভেতর থেকে দুর্বল করে দিচ্ছে। উৎসবের দিনেও যখন হিন্দুদের টাইমলাইন মরুভূমির মতো খাঁ খাঁ করে, তখন প্রশ্ন ওঠে—এ কি নিছকই বিস্মৃতি, নাকি সুপরিকল্পিত কোনো অবজ্ঞা?
হিন্দুত্ববাদী চিন্তাবিদদের দাবি, এই অতি-আবেগ এবং আত্মবিস্মৃতি আগামী দিনে বড় বিপদ ডেকে আনবে। নিজের ঐতিহ্যকে সম্মান দিতে না পারা এই প্রজন্মকে এখনই সচেতন না করলে সনাতন ধর্মের অস্তিত্ব সংকটে পড়বে। পরধর্মের প্রতি অতি-আবেগ দেখাতে গিয়ে নিজের ঘরের দেবতাকে অবজ্ঞা করার এই ধারা বন্ধ হওয়া জরুরি। সময় এসেছে এই যুবক-যুবতীদের মনে করিয়ে দেওয়ার যে, রাম ছাড়া ভারতের কোনো অস্তিত্ব নেই এবং নিজের ধর্মকে অস্বীকার করার মাঝে কোনো আভিজাত্য নেই।
মতামত