মনোনয়নপত্রের সাথে জমা দেওয়া হলফনামা বিশ্লেষণ করলে দেখা যাচ্ছে, গত পাঁচ বছরে শুভেন্দু অধিকারীর সম্পত্তির ভারসাম্যে বেশ কিছু তাৎপর্যপূর্ণ রদবদল ঘটেছে। ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনের তুলনায় ২০২৬ সালে এসে তাঁর মোট সম্পত্তির পরিমাণ বেড়েছে প্রায় ১৯.৬৫ লক্ষ টাকা। বর্তমানে তাঁর হাতে নগদ রয়েছে ১২ হাজার টাকা। হলফনামার তথ্য অনুযায়ী, তাঁর অস্থাবর সম্পত্তির পরিমাণ এবার দাঁড়িয়েছে ২৪,৫৭,৬০০ টাকায়, যা গত পাঁচ বছরের তুলনায় প্রায় ৩৪.৭৪ লক্ষ টাকা হ্রাস পেয়েছে। তবে বিপরীতে বৃদ্ধি পেয়েছে স্থাবর সম্পত্তির পরিমাণ। বর্তমানে ৬১,৩০,০০০ টাকার স্থাবর সম্পত্তির অধিকারী তিনি, যা ২০২১ সালের তুলনায় ১৫.০৮ লক্ষ টাকা বেশি। সব মিলিয়ে তাঁর বর্তমান মোট সম্পদের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৮৫,৮৭,৬০০ টাকা। শিক্ষাগত যোগ্যতার নিরিখে তিনি রবীন্দ্রভারতী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ২০১১ সালে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি লাভ করেছেন।
তবে গত পাঁচ বছরে শুভেন্দু অধিকারীর বিরুদ্ধে আইনি মামলার সংখ্যায় ব্যাপক পরিবর্তন লক্ষ্য করা গেছে। ২০২১ সালে যেখানে তাঁর বিরুদ্ধে কোনো মামলা ছিল না, সেখানে বর্তমানে তাঁর নামে মোট ২৯টি মামলা রুজু হয়েছে। রাজনৈতিক মহলের একাংশের দাবি, রাজনৈতিক প্রতিহিংসার বশবর্তী হয়েই গড়বেতা, খড়্গপুর, লালগড়, ঝাড়গ্রাম এবং কলকাতার বৌবাজার ও হেয়ার স্ট্রিটের মতো গুরুত্বপূর্ণ থানায় এই মামলাগুলো নথিভুক্ত করা হয়েছে। যদিও অধিকাংশ ক্ষেত্রেই এখনও পর্যন্ত চার্জ গঠন করা সম্ভব হয়নি।
রাজনীতির লড়াই এবার আরও তীব্র হচ্ছে কারণ ২০২১ সালের নন্দীগ্রাম আন্দোলনের নায়ক শুভেন্দু অধিকারী এবারও নিজের জেতা আসন নন্দীগ্রামের পাশাপাশি মমতার খাসতালুক ভবানীপুর থেকেও লড়াই করবেন। নন্দীগ্রামে প্রথম দফার ভোট ২৩ এপ্রিল এবং ২৯ এপ্রিল ভবানীপুরে ভোট গ্রহণ করা হবে। বিগত নির্বাচনে খোদ মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে নন্দীগ্রামে পরাজিত করে সারা দেশে হইচই ফেলে দিয়েছিলেন শুভেন্দু। ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনেও বাংলার মাটিতে পদ্ম শিবিরের এই সেনাপতি ফের একবার মুখ্যমন্ত্রীর মুখোমুখি হয়ে রাজ্যের রাজনীতিতে নতুন এক অধ্যায়ের সূচনা করতে চলেছেন। ভবানীপুরের এই লড়াইয়ে শুভেন্দুর সমর্থনে যেভাবে হিন্দুত্বের জোয়ার ও কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের উপস্থিতি দেখা যাচ্ছে, তাতে ফের একবার ‘নন্দীগ্রাম ট্র্যাজেডি’র পুনরাবৃত্তি ঘটার প্রবল সম্ভাবনা দেখছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।
মতামত