প্রকৃতির লীলাভূমি ও পার্বত্য জনপদ বান্দরবানের দুর্গম পাহাড়ী অঞ্চলে সনাতনী কৃষ্টি ও ধর্মের বাণী ছড়িয়ে দিতে অনন্য ভূমিকা পালন করছে লামা কেন্দ্রীয় গীতা শিক্ষা নিকেতন। দীর্ঘ দুই যুগেরও বেশি সময় ধরে লামা উপজেলার সনাতনী শিশুদের অন্তরে গীতার শাশ্বত জ্ঞান ও ধর্মীয় নৈতিকতার বীজ বপন করে চলেছে এই প্রতিষ্ঠানটি। ২০০০ সালের ১৪ এপ্রিল প্রতিষ্ঠিত হওয়ার পর থেকে আজ অবধি প্রতিষ্ঠানটি কেবল এই অঞ্চলের প্রথম ধর্মীয় শিক্ষা প্রতিষ্ঠান হিসেবেই নয়, বরং সনাতনী সংস্কৃতির এক অবিচ্ছেদ্য বাতিঘর হিসেবে নিজের অবস্থান সুসংহত করেছে।
বান্দরবান জেলার অত্যন্ত জনবহুল এলাকা হিসেবে পরিচিত লামা উপজেলার প্রধান ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান লামা কেন্দ্রীয় হরি মন্দির প্রাঙ্গণে এই গীতা নিকেতনের পথচলা শুরু হয়। বর্তমানে দুই শতাধিক শিক্ষার্থীকে নিয়ে প্রাণবন্ত এই পাঠশালায় অভিজ্ঞ ও ধর্মপ্রাণ শিক্ষকবৃন্দ নিরলস সেবা দিয়ে যাচ্ছেন। পাহাড়ের দুর্গম পথ পাড়ি দিয়ে দূর-দূরান্ত থেকে শিক্ষার্থীরা এখানে ছুটে আসে ভগবান শ্রীকৃষ্ণের মুখনিঃসৃত অমৃতবাণী শ্রবণের জন্য। প্রতিটি শিক্ষার্থীকে সমান যত্নে গীতা শিক্ষা প্রদানের পাশাপাশি প্রতিষ্ঠান থেকে প্রয়োজনীয় শিক্ষা উপকরণ ও নির্ধারিত পোশাক সরবরাহ করা হয়। শুধু তাত্ত্বিক শিক্ষাই নয়, বরং শিক্ষার্থীদের সামগ্রিক আধ্যাত্মিক বিকাশের লক্ষ্যে এখানে নিয়মিত ধর্মীয় সাংস্কৃতিক সহ-শিক্ষামূলক কার্যক্রমও পরিচালিত হয়ে থাকে।
প্রতিষ্ঠানের বর্তমান অধ্যক্ষ বাসু কান্তি দাশ দীর্ঘ যাত্রার স্মৃতিচারণ করে জানান, প্রতিষ্ঠার ২৬ বছর পেরিয়ে এসেও আজ এই বিদ্যাপীঠ সনাতনীদের আস্থার প্রতীক হয়ে দাঁড়িয়ে আছে। তিনি সকল সনাতনী অভিভাবকদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, শিশুদের নৈতিক চরিত্র গঠন ও ধর্মীয় চেতনার বিকাশে গীতা শিক্ষার কোনো বিকল্প নেই। তাই প্রতিটি ঘরে ঘরে গীতার আলো পৌঁছে দিতে আমাদের এই ক্ষুদ্র প্রচেষ্টা নিরন্তর অব্যাহত থাকবে।
পুরো পার্বত্য অঞ্চল জুড়ে এই প্রতিষ্ঠানের অর্জিত সুনাম আজ সর্বজনবিদিত। নিবেদিতপ্রাণ পরিচালনা কমিটি এবং শিক্ষকদের ঐকান্তিক প্রচেষ্টায় এই বিদ্যাপীঠটি ধর্মীয় শিক্ষার এক অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে। সংশ্লিষ্টরা আশাবাদ ব্যক্ত করেন যে, আগামী দিনে লামা কেন্দ্রীয় গীতা শিক্ষা নিকেতন কেবল উপজেলা পর্যায়ে সীমাবদ্ধ না থেকে পার্বত্য চট্টগ্রামের অতি প্রত্যন্ত ও দুর্গম এলাকাগুলোতেও সনাতনী ধর্মের মহান বাণী ও গীতার পরম আলো ছড়িয়ে দিতে সক্ষম হবে। সনাতনী সমাজকে ঐক্যবদ্ধ ও ধর্মনিষ্ঠ করে গড়ে তোলার এই মহান ব্রত নিয়ে এগিয়ে চলাই এখন এই প্রাচীন প্রতিষ্ঠানের মূল লক্ষ্য।
মতামত