হিন্দুস নিউজ

শিকারি থেকে সাধক: সনাতন জাগরণের আলোকবর্তিকা স্বামী চিন্তাহরণ পুরীর তিরোধান দিবস


| প্রিন্ট সংস্করণ

শিকারি থেকে সাধক: সনাতন জাগরণের আলোকবর্তিকা স্বামী চিন্তাহরণ পুরীর তিরোধান দিবস
Hindus News Voice of Hinduism
আপনার পণ্য ও প্রতিষ্ঠানের বিজ্ঞাপন দিন Hindus News এ।
সনাতন ধর্মাবলম্বীদের আধ্যাত্মিক পুনর্জাগরণ এবং সমাজ সংস্কারের অন্যতম পুরোধা ব্যক্তিত্ব, শ্রীমৎ স্বামী চিন্তাহরণ পুরী মহারাজের ৪৩তম তিরোধান দিবস আজ। বাঁশখালী উপজেলার জলদী গ্রামের সেই পরিচিত মুখ ‘চিন্তাহরণ ডাক্তার’ থেকে পরম হংস স্বামী চিন্তাহরণ পুরী হয়ে ওঠার এক রোমাঞ্চকর ও ত্যাগের আখ্যান আজও ভক্তদের হৃদয়ে অম্লান হয়ে আছে। ত্যাগের মহিমায় উদ্ভাসিত এই মহাপুরুষের প্রয়াণ দিবসে সারা দেশের সনাতনী সমাজ তাঁকে গভীর শ্রদ্ধায় স্মরণ করছে।


​জলদী গ্রামের দীঘির পাড়ে জন্ম নেওয়া এই মহাজীবনের প্রথমার্ধ ছিল প্রচণ্ড তেজস্বী ও সাহসী। একসময়কার শৌখিন শিকারি, যিনি বন্দুক হাতে অরণ্যে ঘুরতেন এবং আহারে-বিহারে ছিলেন পুরোপুরি সংসারী, তাঁর জীবনের মোড় ঘুরে যায় আধ্যাত্মিক আকুলতায়। যৌবনে চিকিৎসা পেশার মাধ্যমে তিনি আর্তমানবতার সেবায় নিজেকে বিলিয়ে দিয়েছিলেন। দরিদ্রের মুখে অন্ন তুলে দেওয়া, অসহায় রোগীদের বিনামূল্যে চিকিৎসা প্রদান আর বন্যার্তদের পাশে দাঁড়ানো ছিল তাঁর প্রাত্যহিক ব্রত। তবে অন্তরের গভীরে থাকা বৈরাগ্যের ডাক তাঁকে স্থির থাকতে দেয়নি।

​পরবর্তীতে শ্রীমৎ স্বামী অদ্বৈতনন্দ পুরী মহারাজের চরণে দীক্ষা গ্রহণের মধ্য দিয়ে তাঁর জীবনের এক নতুন অধ্যায় শুরু হয়। পরমেশ্বরের সন্ধানে তিনি লোকালয় ছেড়ে জঙ্গল জলদীর গভীর অরণ্যে এক পর্ণকুটির নির্মাণ করে কঠোর সাধনায় নিমগ্ন হন। বন্যপ্রাণী ও বিষধর সর্পসংকুল সেই পরিবেশে তাঁর রাত্রিযাপন ছিল এক অতীন্দ্রিয় সাহসিকতার পরিচয়। সংসারের মায়া কাটিয়ে তিনি যখন গেরুয়া বসন ধারণ করে পথে নামলেন, তখন তাঁর মূল লক্ষ্য হয়ে দাঁড়াল সনাতন সমাজকে এক সুতোয় গাঁথা।

​মহারাজের জীবনের সবচেয়ে গৌরবোজ্জ্বল অধ্যায় ছিল সমাজ থেকে অস্পৃশ্যতার অভিশাপ দূর করা। যে সমাজ তথাকথিত নিচু বর্ণের মানুষকে দূরে ঠেলে দিত, চিন্তাহরণ পুরী মহারাজ সেই অন্ত্যজ শ্রেণির কাছে ছুটে গিয়ে হরিনাম সংকীর্তনের মাধ্যমে এক অভূতপূর্ব ঐক্যের জোয়ার সৃষ্টি করেন। জাতি-ভেদাভেদ ভুলে উচ্চবর্ণ ও নিম্নবর্ণের মহামিলন মেলা রচনা করাই ছিল তাঁর মূল দর্শন। চট্টগ্রাম ও কক্সবাজারের পথে পথে ঘুরে তিনি দেড় শতাধিক শ্রীকৃষ্ণ ও কালী মন্দির প্রতিষ্ঠা করেছেন, যেখানে বাৎসরিক মহোৎসবের মাধ্যমে সাধারণ মানুষকে আধ্যাত্মিক যোগে সম্পৃক্ত করেছেন।

Hindus News Voice of Hinduism
আপনার পণ্য ও প্রতিষ্ঠানের বিজ্ঞাপন দিন Hindus News এ।

​সর্বদা ‘হরি ওঁ’ ধ্বনিতে আকাশ-বাতাস মুখরিত রাখা এই মহাত্মা বিশ্বাস করতেন, প্রতিটি কাজের শুরুতে এবং শেষে ঈশ্বরের নাম স্মরণ করাই মুক্তির পথ। সকালে ‘দুর্গা দুর্গা’ বলে দিন শুরু করা এবং প্রতিটি নিঃশ্বাসে নাম জপ করার যে শিক্ষা তিনি দিয়ে গেছেন, তা আজও সনাতনী পরিবারগুলোর চলার পাথেয় হয়ে আছে। আজ তাঁর ৪৩তম তিরোধান দিবসে চট্টগ্রামের বিভিন্ন আশ্রমে ও মন্দিরে বিশেষ পূজা, প্রার্থনা সভা এবং ধর্মীয় আলোচনার মাধ্যমে এই মহান সন্ন্যাসীকে শ্রদ্ধা নিবেদন করা হচ্ছে। তাঁর প্রদর্শিত সাম্য ও ত্যাগের পথই হোক আগামীর পাথেয়।

0.0%
0.0%
0.0%
0.0%

মতামত

হিন্দুস নিউজ

শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬


শিকারি থেকে সাধক: সনাতন জাগরণের আলোকবর্তিকা স্বামী চিন্তাহরণ পুরীর তিরোধান দিবস

প্রকাশের তারিখ : ০৭ এপ্রিল ২০২৬

featured Image
সনাতন ধর্মাবলম্বীদের আধ্যাত্মিক পুনর্জাগরণ এবং সমাজ সংস্কারের অন্যতম পুরোধা ব্যক্তিত্ব, শ্রীমৎ স্বামী চিন্তাহরণ পুরী মহারাজের ৪৩তম তিরোধান দিবস আজ। বাঁশখালী উপজেলার জলদী গ্রামের সেই পরিচিত মুখ ‘চিন্তাহরণ ডাক্তার’ থেকে পরম হংস স্বামী চিন্তাহরণ পুরী হয়ে ওঠার এক রোমাঞ্চকর ও ত্যাগের আখ্যান আজও ভক্তদের হৃদয়ে অম্লান হয়ে আছে। ত্যাগের মহিমায় উদ্ভাসিত এই মহাপুরুষের প্রয়াণ দিবসে সারা দেশের সনাতনী সমাজ তাঁকে গভীর শ্রদ্ধায় স্মরণ করছে।


​জলদী গ্রামের দীঘির পাড়ে জন্ম নেওয়া এই মহাজীবনের প্রথমার্ধ ছিল প্রচণ্ড তেজস্বী ও সাহসী। একসময়কার শৌখিন শিকারি, যিনি বন্দুক হাতে অরণ্যে ঘুরতেন এবং আহারে-বিহারে ছিলেন পুরোপুরি সংসারী, তাঁর জীবনের মোড় ঘুরে যায় আধ্যাত্মিক আকুলতায়। যৌবনে চিকিৎসা পেশার মাধ্যমে তিনি আর্তমানবতার সেবায় নিজেকে বিলিয়ে দিয়েছিলেন। দরিদ্রের মুখে অন্ন তুলে দেওয়া, অসহায় রোগীদের বিনামূল্যে চিকিৎসা প্রদান আর বন্যার্তদের পাশে দাঁড়ানো ছিল তাঁর প্রাত্যহিক ব্রত। তবে অন্তরের গভীরে থাকা বৈরাগ্যের ডাক তাঁকে স্থির থাকতে দেয়নি।

​পরবর্তীতে শ্রীমৎ স্বামী অদ্বৈতনন্দ পুরী মহারাজের চরণে দীক্ষা গ্রহণের মধ্য দিয়ে তাঁর জীবনের এক নতুন অধ্যায় শুরু হয়। পরমেশ্বরের সন্ধানে তিনি লোকালয় ছেড়ে জঙ্গল জলদীর গভীর অরণ্যে এক পর্ণকুটির নির্মাণ করে কঠোর সাধনায় নিমগ্ন হন। বন্যপ্রাণী ও বিষধর সর্পসংকুল সেই পরিবেশে তাঁর রাত্রিযাপন ছিল এক অতীন্দ্রিয় সাহসিকতার পরিচয়। সংসারের মায়া কাটিয়ে তিনি যখন গেরুয়া বসন ধারণ করে পথে নামলেন, তখন তাঁর মূল লক্ষ্য হয়ে দাঁড়াল সনাতন সমাজকে এক সুতোয় গাঁথা।

​মহারাজের জীবনের সবচেয়ে গৌরবোজ্জ্বল অধ্যায় ছিল সমাজ থেকে অস্পৃশ্যতার অভিশাপ দূর করা। যে সমাজ তথাকথিত নিচু বর্ণের মানুষকে দূরে ঠেলে দিত, চিন্তাহরণ পুরী মহারাজ সেই অন্ত্যজ শ্রেণির কাছে ছুটে গিয়ে হরিনাম সংকীর্তনের মাধ্যমে এক অভূতপূর্ব ঐক্যের জোয়ার সৃষ্টি করেন। জাতি-ভেদাভেদ ভুলে উচ্চবর্ণ ও নিম্নবর্ণের মহামিলন মেলা রচনা করাই ছিল তাঁর মূল দর্শন। চট্টগ্রাম ও কক্সবাজারের পথে পথে ঘুরে তিনি দেড় শতাধিক শ্রীকৃষ্ণ ও কালী মন্দির প্রতিষ্ঠা করেছেন, যেখানে বাৎসরিক মহোৎসবের মাধ্যমে সাধারণ মানুষকে আধ্যাত্মিক যোগে সম্পৃক্ত করেছেন।

​সর্বদা ‘হরি ওঁ’ ধ্বনিতে আকাশ-বাতাস মুখরিত রাখা এই মহাত্মা বিশ্বাস করতেন, প্রতিটি কাজের শুরুতে এবং শেষে ঈশ্বরের নাম স্মরণ করাই মুক্তির পথ। সকালে ‘দুর্গা দুর্গা’ বলে দিন শুরু করা এবং প্রতিটি নিঃশ্বাসে নাম জপ করার যে শিক্ষা তিনি দিয়ে গেছেন, তা আজও সনাতনী পরিবারগুলোর চলার পাথেয় হয়ে আছে। আজ তাঁর ৪৩তম তিরোধান দিবসে চট্টগ্রামের বিভিন্ন আশ্রমে ও মন্দিরে বিশেষ পূজা, প্রার্থনা সভা এবং ধর্মীয় আলোচনার মাধ্যমে এই মহান সন্ন্যাসীকে শ্রদ্ধা নিবেদন করা হচ্ছে। তাঁর প্রদর্শিত সাম্য ও ত্যাগের পথই হোক আগামীর পাথেয়।


হিন্দুস নিউজ

প্রকাশক & সম্পাদক: শুভ চন্দ্র দে
HINDUS NEWS মিডিয়া লিমিটেডের পক্ষে প্রকাশক কর্তৃক ঢাকা থেকে প্রকাশিত

প্রকাশক & সম্পাদক: শুভ চন্দ্র দে,🔴HINDUS NEWS মিডিয়া লিমিটেডের পক্ষে প্রকাশক কর্তৃক ঢাকা থেকে প্রকাশিত।🔴যোগাযোগ: +88 01890890920🔴 ই-মেইল: news@hindus.news 🔴 বিজ্ঞাপন: ads@hindus.news
শিকারি থেকে সাধক: সনাতন জাগরণের আলোকবর্তিকা স্বামী চিন্তাহরণ পুরীর তিরোধান দিবস
0:00 0:00
1.0x