পরবর্তীতে শ্রীমৎ স্বামী অদ্বৈতনন্দ পুরী মহারাজের চরণে দীক্ষা গ্রহণের মধ্য দিয়ে তাঁর জীবনের এক নতুন অধ্যায় শুরু হয়। পরমেশ্বরের সন্ধানে তিনি লোকালয় ছেড়ে জঙ্গল জলদীর গভীর অরণ্যে এক পর্ণকুটির নির্মাণ করে কঠোর সাধনায় নিমগ্ন হন। বন্যপ্রাণী ও বিষধর সর্পসংকুল সেই পরিবেশে তাঁর রাত্রিযাপন ছিল এক অতীন্দ্রিয় সাহসিকতার পরিচয়। সংসারের মায়া কাটিয়ে তিনি যখন গেরুয়া বসন ধারণ করে পথে নামলেন, তখন তাঁর মূল লক্ষ্য হয়ে দাঁড়াল সনাতন সমাজকে এক সুতোয় গাঁথা।
মহারাজের জীবনের সবচেয়ে গৌরবোজ্জ্বল অধ্যায় ছিল সমাজ থেকে অস্পৃশ্যতার অভিশাপ দূর করা। যে সমাজ তথাকথিত নিচু বর্ণের মানুষকে দূরে ঠেলে দিত, চিন্তাহরণ পুরী মহারাজ সেই অন্ত্যজ শ্রেণির কাছে ছুটে গিয়ে হরিনাম সংকীর্তনের মাধ্যমে এক অভূতপূর্ব ঐক্যের জোয়ার সৃষ্টি করেন। জাতি-ভেদাভেদ ভুলে উচ্চবর্ণ ও নিম্নবর্ণের মহামিলন মেলা রচনা করাই ছিল তাঁর মূল দর্শন। চট্টগ্রাম ও কক্সবাজারের পথে পথে ঘুরে তিনি দেড় শতাধিক শ্রীকৃষ্ণ ও কালী মন্দির প্রতিষ্ঠা করেছেন, যেখানে বাৎসরিক মহোৎসবের মাধ্যমে সাধারণ মানুষকে আধ্যাত্মিক যোগে সম্পৃক্ত করেছেন।
সর্বদা ‘হরি ওঁ’ ধ্বনিতে আকাশ-বাতাস মুখরিত রাখা এই মহাত্মা বিশ্বাস করতেন, প্রতিটি কাজের শুরুতে এবং শেষে ঈশ্বরের নাম স্মরণ করাই মুক্তির পথ। সকালে ‘দুর্গা দুর্গা’ বলে দিন শুরু করা এবং প্রতিটি নিঃশ্বাসে নাম জপ করার যে শিক্ষা তিনি দিয়ে গেছেন, তা আজও সনাতনী পরিবারগুলোর চলার পাথেয় হয়ে আছে। আজ তাঁর ৪৩তম তিরোধান দিবসে চট্টগ্রামের বিভিন্ন আশ্রমে ও মন্দিরে বিশেষ পূজা, প্রার্থনা সভা এবং ধর্মীয় আলোচনার মাধ্যমে এই মহান সন্ন্যাসীকে শ্রদ্ধা নিবেদন করা হচ্ছে। তাঁর প্রদর্শিত সাম্য ও ত্যাগের পথই হোক আগামীর পাথেয়।
মতামত