ত্রিপুরার শিক্ষা জগতে এক ঐতিহাসিক সাফল্যের নজির স্থাপন করলো আগরতলার বিবেকনগরস্থিত রামকৃষ্ণ মিশন বিদ্যালয়, বিবেকনগর।
শ্রীরামকৃষ্ণ, মা সারদা এবং স্বামী বিবেকানন্দের আদর্শে পরিচালিত এই প্রাচীন ও ঐতিহ্যবাহী বিদ্যালয়টি এবার আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি পেল UNESCO Associated Schools Network-এর অন্তর্ভুক্তির মাধ্যমে।
এই অন্তর্ভুক্তির ফলে বিদ্যালয়টি এখন ইউনেসকোর বৈশ্বিক শিক্ষা নেটওয়ার্কের অংশ, যেখানে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের নির্বাচিত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান একত্রিত হয়ে শিক্ষা, সংস্কৃতি, শান্তি ও টেকসই উন্নয়নের আদর্শ বাস্তবায়নে কাজ করে। ফলে শুধু ত্রিপুরা নয়, গোটা উত্তর-পূর্ব ভারতের শিক্ষাক্ষেত্রে এই অর্জন একটি গৌরবময় মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
বিদ্যালয়টির এই সাফল্যের খবর প্রকাশ্যে আসতেই বিভিন্ন মহলে আনন্দ ও গর্বের সাড়া পড়ে।
ইয়াষ্ণু দেব বর্মা সামাজিক মাধ্যমে এই ঘটনাকে “গৌরবের আখ্যান” বলে অভিহিত করেন। তিনি বিদ্যালয়ের সচিব স্বামী শুভকরানন্দ মহারাজসহ সকল মহারাজ, শিক্ষক-অশিক্ষক কর্মচারী এবং ছাত্রছাত্রীদের আন্তরিক অভিনন্দন জানান। তাঁর মতে, এই সাফল্য রাজ্যের শিক্ষাব্যবস্থাকে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নতুন মর্যাদা এনে দিয়েছে।
একইসঙ্গে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মানিক সাহাও বিদ্যালয়টির এই কৃতিত্বে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন। তিনি বলেন, এই স্বীকৃতি শুধু একটি প্রতিষ্ঠানের অর্জন নয়, বরং সমগ্র রাজ্যের জন্য অনুপ্রেরণার উৎস। ভবিষ্যতে আরও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান আন্তর্জাতিক মানদণ্ডে পৌঁছাতে উদ্বুদ্ধ হবে বলেও তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
উল্লেখ্য, ইউনেসকোর অ্যাসোসিয়েটেড স্কুলস নেটওয়ার্ক (ASPnet) এমন একটি আন্তর্জাতিক প্ল্যাটফর্ম, যেখানে সদস্য প্রতিষ্ঠানগুলো শিক্ষার মাধ্যমে শান্তি প্রতিষ্ঠা, আন্তঃসাংস্কৃতিক সম্প্রীতি, মানবিক মূল্যবোধ ও বৈশ্বিক নাগরিকত্ব গড়ে তোলার লক্ষ্যে কাজ করে। এই নেটওয়ার্কে অন্তর্ভুক্ত হওয়া মানেই সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার মান ও কার্যক্রম আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃতি পাওয়া।
সব মিলিয়ে, আগরতলার রামকৃষ্ণ মিশন বিদ্যালয়ের এই সাফল্য সমগ্র অঞ্চলের শিক্ষা ও সংস্কৃতির ক্ষেত্রে এক নতুন দিগন্তের সূচনা করলো।
মতামত