সংগঠনের নোয়াখালী জেলা শাখার নির্দেশনায়, অন্যান্য সংগঠনের মতো বাংলাদেশ সনাতন ছাত্র মহাসংঘের বেগমগঞ্জ উপজেলা কমিটিও শ্রী শ্রী ঠাকুর রামচন্দ্র দেবের সমাধিক্ষেত্রে বিভিন্ন সেবামূলক দায়িত্ব গ্রহণ করে। এরপর গত ১৮, ১৯ ও ২০ এপ্রিল টানা তিনদিনব্যাপী ১২৭ জন সদস্যের অংশগ্রহণে প্রসাদ বিতরণ, শৃঙ্খলা রক্ষা এবং মন্দির পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার কার্যক্রম পরিচালিত হয়।
উৎসব চলাকালীন সময়ে দেশ ও বিদেশ থেকে লক্ষ ভক্তের আগমন ঘটে, যার ফলে সামগ্রিক ব্যবস্থাপনা একটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়ায়। তবে স্বেচ্ছাসেবকদের সুসংগঠিত পরিকল্পনা, দায়িত্ববোধ এবং নিরলস পরিশ্রমের মাধ্যমে সেই চ্যালেঞ্জ সফলভাবে মোকাবিলা করা সম্ভব হয়। তারা ভক্তদের সারিবদ্ধভাবে প্রসাদ গ্রহণ নিশ্চিত করা, ভিড় নিয়ন্ত্রণ, নিরাপত্তা বজায় রাখা এবং সার্বিক পরিবেশ পরিষ্কার রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন।
এই মহতী উদ্যোগে সহযোগিতা করে চাটখিল উপজেলা, লক্ষ্মীপুর জেলার রামগঞ্জ উপজেলা, কুমিল্লা জেলার লাঙ্গলকোট উপজেলা এবং নোয়াখালী জেলা কমিটির সদস্যবৃন্দ। সকল ইউনিটের সম্মিলিত অংশগ্রহণে উৎসবস্থলে একটি সুশৃঙ্খল, পরিচ্ছন্ন ও ভক্তবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিত হয়, যা উপস্থিত সবার নজর কেড়েছে।
উৎসবের পুরো সময়জুড়ে স্বেচ্ছাসেবকদের আন্তরিকতা, দায়িত্বশীলতা এবং মানবসেবার মনোভাব স্পষ্টভাবে ফুটে ওঠে। শুধু ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠান নয়, বরং মানবিক মূল্যবোধ, শৃঙ্খলা ও সামাজিক দায়বদ্ধতার এক অনন্য উদাহরণ তৈরি করেছে এই কার্যক্রম।
বাংলাদেশ সনাতন ছাত্র মহাসংঘের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক আনন্দ শর্মা বলেন,
“এই ধরনের ধর্মীয় আয়োজন আমাদের সমাজে ভ্রাতৃত্ববোধ ও মানবিক মূল্যবোধকে আরও শক্তিশালী করে। তরুণদের স্বেচ্ছাসেবামূলক অংশগ্রহণ সত্যিই অনুকরণীয়।”
কেন্দ্রীয় কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক বাপ্পী ভৌমিক বলেন,
“এ ধরনের উৎসব আমাদের ঐক্য, শৃঙ্খলা ও সেবার মানসিকতাকে আরও দৃঢ় করে। ভবিষ্যতে আরও বড় পরিসরে এ ধরনের কার্যক্রম পরিচালনার পরিকল্পনা রয়েছে।”

নোয়াখালী জেলা কমিটির সভাপতি অন্তু ভৌমিক বলেন,
“জেলার প্রতিটি ইউনিটের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় আমরা সফলভাবে এই দায়িত্ব পালন করতে পেরেছি। এটি আমাদের সংগঠনের সক্ষমতার একটি উজ্জ্বল উদাহরণ।”
সাধারণ সম্পাদক নিশান মজুমদার জানান,
“শুধু ধর্মীয় আচার নয়, শৃঙ্খলা ও পরিচ্ছন্নতার বিষয়টিকেও আমরা সমান গুরুত্ব দিয়েছি। সকল সদস্যের আন্তরিকতাই এই সফলতার মূল শক্তি।”
দায়িত্বপ্রাপ্ত বেগমগঞ্জ উপজেলা কমিটির সভাপতি নিরব বর্মন বলেন,
“আমাদের ওপর অর্পিত দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন করতে পেরে আমরা গর্বিত। সকলের সহযোগিতায় কাজগুলো সুন্দরভাবে সম্পন্ন হয়েছে।”
উৎসবে আগত ভক্তদের মাঝেও ছিল সন্তুষ্টির ছাপ।
একজন ভক্ত বলেন,
“এত বড় আয়োজনের মধ্যেও শৃঙ্খলা বজায় রাখা সহজ নয়। স্বেচ্ছাসেবীরা অত্যন্ত দক্ষতার সাথে দায়িত্ব পালন করেছেন।”
আরেকজন ভক্তের ভাষ্য,
“প্রসাদ বিতরণ থেকে শুরু করে পরিবেশ পরিষ্কার রাখা—সব কিছুই ছিল খুব সুন্দরভাবে পরিচালিত। এতে আমরা স্বস্তি অনুভব করেছি।
উৎসবজুড়ে স্বেচ্ছাসেবীদের সক্রিয় ভূমিকা ভক্তদের মাঝে ব্যাপক প্রশংসিত হয় এবং সামগ্রিক ব্যবস্থাপনা সকলের নজর কেড়েছে।
মতামত