ঘরোয়া ক্রিকেটে চলতি মরসুমে আগুনে ফর্মে রয়েছেন কার্তিক। বিজয় হাজারে ট্রফিতে রাজস্থানের হয়ে সর্বোচ্চ রান সংগ্রাহক তিনি। ধারাবাহিক পারফরম্যান্সের ফলেই আইপিএল নিলামে ফ্র্যাঞ্চাইজিগুলির নজরে পড়েন এই তরুণ। নিলামের মঞ্চে শুরুটা ছিল শান্ত—মাত্র ৩০ লক্ষ টাকা। কিন্তু কয়েক মিনিটের মধ্যেই দরাদরি চরমে ওঠে। একের পর এক বিডে তাঁর দাম পৌঁছে যায় ১৪.২০ কোটিতে। শেষ পর্যন্ত সিএসকে-ই বাজিমাত করে।
সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে কার্তিক জানান, আইপিএল নিলামে পাওয়া অর্থ তাঁর জীবন পুরোপুরি বদলে দিয়েছে। তিনি বলেন,
“এই টাকা আমার পরিবারের জন্য আশীর্বাদ। প্রথমেই বাবার ২৬ লক্ষ টাকার ঋণ শোধ করব। ছোটবেলায় এমন দিন গেছে, যখন ঠিকমতো খাবার জুটত না। সেই দিনগুলোর কথা ভুলতে চাই না।”
ক্রিকেট বিশেষজ্ঞদের মতে, কার্তিক শর্মার গল্প শুধু একজন ক্রিকেটারের উত্থানের কাহিনি নয়, বরং অধ্যবসায়, আত্মবিশ্বাস আর কঠোর পরিশ্রমের অনন্য উদাহরণ। সিএসকের মতো সফল ও অভিজ্ঞ ফ্র্যাঞ্চাইজির হাত ধরে তাঁর প্রতিভা আরও শাণিত হবে বলেই মনে করছেন ক্রিকেটমহল।
অভাবকে হার মানিয়ে স্বপ্নের শিখরে পৌঁছনো—কার্তিক শর্মার এই যাত্রা আজ হাজারো তরুণের অনুপ্রেরণা। হলুদ জার্সিতে তাঁর ব্যাটে কী ঝড় ওঠে, সেদিকেই এখন তাকিয়ে ক্রিকেটপ্রেমীরা।
“আমি খুব ভয় পাচ্ছিলাম। ভাবছিলাম, কেউ যদি আমাকে কেনার যোগ্য মনে না করে! কিন্তু যখন দেখলাম একের পর এক বিড উঠছে, তখন নিজেকে আর সামলাতে পারিনি। নিলাম চলাকালীন কেঁদে ফেলি। নিলাম শেষের পরেও কান্না থামেনি। এই অনুভূতিটা ভাষায় প্রকাশ করা সত্যিই কঠিন।”
— কার্তিক শর্মা
মতামত