পূর্ব দিল্লির অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এই জনপদে আগুনের খবর পেয়েই ঘটনাস্থলে পৌঁছায় ফায়ার সার্ভিস ও স্থানীয় পুলিশের উদ্ধারকারী দল।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, আগুনের তীব্রতা এতটাই বেশি ছিল যে মুহূর্তেই তৃতীয় ও চতুর্থ তলা ধোঁয়ায় আচ্ছন্ন হয়ে পড়ে। ফায়ার সার্ভিসের কর্মীদের প্রায় দুই ঘণ্টার নিরলস প্রচেষ্টায় সকাল ৬টার দিকে আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে। উদ্ধার অভিযান চলাকালে ভবনটি থেকে এক ডজনেরও বেশি মানুষকে জীবিত অবস্থায় বের করে আনা সম্ভব হলেও শেষ রক্ষা হয়নি ৯ জনের। দগ্ধ ও আহতদের দ্রুত গুরু ত্যাগ বাহাদুর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে, যাদের মধ্যে কয়েকজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক।
দিল্লি পুলিশের ক্রাইম টিমের কর্মকর্তারা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন এবং নিহতদের মরদেহ উদ্ধার করে পরবর্তী প্রক্রিয়ার জন্য পাঠানো হয়েছে। স্থানীয় পুলিশ কর্মকর্তা রাজেন্দ্র প্রসাদ মীনা এক বিবৃতিতে জানিয়েছেন, অগ্নিকাণ্ডের খবর পাওয়ার পরপরই জরুরি ভিত্তিতে উদ্ধারকাজ শুরু করা হয়। ভবনটির ভেতরে আটকে পড়া ব্যক্তিদের উদ্ধারে স্থানীয় বাসিন্দারাও সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দেন। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা গেছে, আগুনের লেলিহান শিখায় ভবনটির অধিকাংশ অংশ ভস্মীভূত হয়ে গেছে।
অগ্নিকাণ্ডের প্রকৃত কারণ সম্পর্কে এখনো নিশ্চিত হওয়া না গেলেও স্থানীয়দের মধ্যে ব্যাপক আতঙ্ক বিরাজ করছে। বার্তাসংস্থা এএনআই-এর কাছে এক প্রতিবেশী দাবি করেছেন, শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ যন্ত্র বা এসি বিস্ফোরণের ফলেই এই প্রলয়ঙ্করী আগুনের সৃষ্টি হতে পারে। তবে ফায়ার সার্ভিস ও ফরেনসিক দল পুরো বিষয়টি তদন্ত করে দেখছে। দিল্লির জনবহুল এই এলাকায় অগ্নিনিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। শোকসন্তপ্ত পরিবারগুলোর প্রতি সমবেদনা জানিয়ে দিল্লির প্রশাসনিক মহলে শোকের আবহ বিরাজ করছে।
মতামত