দেশে দীর্ঘদিনের চেপে বসা অপশাসন ও অসত্যের কুয়াশা দূর করে একটি স্বচ্ছ ও সুস্থ গণমাধ্যম পরিবেশ নিশ্চিত করার দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন। তিনি স্পষ্ট করে বলেছেন যে, বর্তমান সরকার দেশে অবাধ তথ্যপ্রবাহ ও গণমাধ্যমের স্বাধীনতা রক্ষায় নিরলস কাজ করে যাচ্ছে। মঙ্গলবার সন্ধ্যায় মুন্সিগঞ্জ জেলা শিল্পকলা একাডেমি মিলনায়তনে মুন্সিগঞ্জ প্রেসক্লাবের নবনির্বাচিত কমিটির অভিষেক ও সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। মন্ত্রী জানান, সংবাদপত্রের সুষ্ঠু বিকাশ ও সমস্যা সমাধানে ইতিপূর্বেই পত্রিকার মালিক সমিতির সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর ফলপ্রসূ বৈঠক সম্পন্ন হয়েছে, যা গণমাধ্যম খাতের উন্নয়নে নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে।
প্রধান অতিথির ভাষণে মন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন বিগত দিনের দুঃশাসনের কঠোর সমালোচনা করে বলেন, স্বৈরাচারী ও ফ্যাসিবাদী শক্তি সবসময়ই স্বাধীন গণমাধ্যমের কণ্ঠরোধ করতে তৎপর থাকে। তারা নিজেদের ক্ষমতা চিরস্থায়ী করতে এবং লুটপাটের রাজত্ব কায়েম করতে গণমাধ্যমকে ঢাল হিসেবে ব্যবহার করতে চায়। তাদের লক্ষ্য থাকে 'গদি সাংবাদিকতা'র মাধ্যমে সত্যকে আড়াল করা এবং জনমতকে বিভ্রান্ত করে নিজেদের অপকর্মের পক্ষে সাফাই গাওয়া। তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, একদিকে যখন একটি গোষ্ঠী অন্যায়ের দোসর হিসেবে কাজ করে, অন্যদিকে তখন সৎ ও নির্ভীক সাংবাদিকরা ন্যায়ের পক্ষে কথা বলতে গিয়ে ক্রমাগত নির্যাতন, নিপিড়ন ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত মামলা-হামলার শিকার হন। এই বৈষম্যমূলক ও নিপীড়নমূলক সংস্কৃতির অবসান ঘটানোই সরকারের অন্যতম লক্ষ্য।
গণমাধ্যমের নৈতিক দায়িত্ব ও শক্তির কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে তথ্যমন্ত্রী আরও উল্লেখ করেন যে, সংবাদপত্রের শক্তি যেমন জনগণের কল্যাণে ব্যবহার করা সম্ভব, তেমনি এর অপব্যবহার জনস্বার্থের চরম ক্ষতি করতে পারে। জনগণের মৌলিক অধিকার হলো সঠিক ও বস্তুনিষ্ঠ তথ্য পাওয়া। অথচ যখন কোনো পক্ষ হীন স্বার্থে বা অবৈধ সরকারের এজেন্ডা বাস্তবায়নে বিকৃত ও চুক্তিভিত্তিক মিথ্যা তথ্য প্রচার করে, তখন সৎ সাংবাদিকতা হুমকির মুখে পড়ে। তিনি সমাজ ও রাষ্ট্রের কল্যাণে সাংবাদিকদের সত্যনিষ্ঠ হওয়ার আহ্বান জানান, যাতে সাধারণ মানুষ বিভ্রান্তি থেকে মুক্তি পায় এবং সত্যের আলো ছড়িয়ে পড়ে।
মুন্সিগঞ্জ প্রেসক্লাবের সভাপতি আতিকুর রহমানের সভাপতিত্বে আয়োজিত এই বর্ণাঢ্য অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মুন্সিগঞ্জ-৩ আসনের সংসদ সদস্য মো. কামরুজ্জামান, ভারপ্রাপ্ত জেলা প্রশাসক মৌসুমী মাহবুব এবং পুলিশ সুপার মেনহাজুল আলম। এছাড়া উপস্থিত ছিলেন জেলা পরিষদের প্রশাসক এ কে এম ইরাদত মানু ও ঢাকা চেম্বার অব কমার্সের সাবেক সভাপতি সাইফুল ইসলাম। অনুষ্ঠানের শুরুতেই স্বাগত বক্তব্য প্রদান করেন প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক গোলজার হোসেন এবং অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন ক্রীড়া সম্পাদক ফয়সাল হোসেন। উপস্থিত বক্তারা গণমাধ্যমের স্বাধীনতা রক্ষা এবং সাংবাদিকদের পেশাগত মানোন্নয়নে মন্ত্রীর ঘোষিত পরিকল্পনার প্রতি সংহতি প্রকাশ করেন।
মতামত