বিশ্লেষকরা বলছেন, এই জয় কেবল একটি আসন জয় নয়, বরং এটি অন্যায়ের বিরুদ্ধে সত্যের জয়। ১৯৬৭ সালে অজয় মুখোপাধ্যায় তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী প্রফুল্ল চন্দ্র সেনকে আরামবাগে পরাজিত করেছিলেন। ২০২৬-এর এই মহাযুদ্ধে শুভেন্দু অধিকারী একইভাবে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে তাঁর নিজের দুর্গ ভবানীপুরে ১৫,৫০৫ ভোটের ব্যবধানে পরাজিত করে ইতিহাসের চাকা ঘুরিয়ে দিয়েছেন। মজার বিষয় হলো, অজয় বাবুর মতো শুভেন্দুও নিজের আদি গড় মেদিনীপুর এবং মুখ্যমন্ত্রীর কেন্দ্র—উভয় আসনেই বিজয়ী হয়ে বিধানসভায় প্রবেশ করছেন, যা তাঁর অপ্রতিহত জনপ্রিয়তারই প্রমাণ দেয়।
অজয় মুখোপাধ্যায় এবং শুভেন্দু অধিকারীর উত্থানের মধ্যে এক অদ্ভুত দৈব মিল লক্ষ্য করা যাচ্ছে। দুজনেই ক্ষমতায় আসার আগে গুরুত্বপূর্ণ সেচ দপ্তরের দায়িত্বে ছিলেন এবং উভয়েই দুর্নীতির বিরুদ্ধে আপোষহীন সংগ্রাম করে মূল দল ত্যাগ করেছিলেন। ১৯৬৭ সালে বাংলার মানুষ যেভাবে খাদ্যসংকট ও অপশাসনের বিরুদ্ধে গর্জে উঠেছিল, ২০২৬-এ তেমনি হিন্দু বাঙালির অস্তিত্ব রক্ষা এবং দুর্নীতির পাহাড় ধসিয়ে দিতে শুভেন্দুর নেতৃত্বে আস্থা রেখেছে রাজ্যবাসী। শুক্রবার বিজেপির পরিষদীয় দলের বৈঠকে তাঁকে সর্বসম্মতিতে নেতা নির্বাচিত করার পর আজ তিনি সেই ঐতিহাসিক শপথ নিতে চলেছেন।
১৯৬৭ সালের সেই জোট সরকার অন্তর্দ্বন্দ্বের কারণে স্থায়িত্ব পায়নি, কিন্তু ২০২৬-এর প্রেক্ষাপট সম্পূর্ণ ভিন্ন। ২০৭টি আসনে বিপুল বিজয় নিয়ে বিজেপি আজ একক সংখ্যাগরিষ্ঠতায় সরকার গঠন করছে, যার ফলে রাজ্যে এক শক্তিশালী ও স্থিতিশীল হিন্দুত্ববাদী শাসনের পথ প্রশস্ত হলো। কোনো বাধা বা অভ্যন্তরীণ কোন্দল এখন আর বাংলার উন্নয়নের পথে অন্তরায় হতে পারবে না।
নিজের নতুন দায়িত্ব গ্রহণের প্রাক্কালে দৃঢ়কণ্ঠে শুভেন্দু অধিকারী জানিয়েছেন যে, তাঁর সরকার হবে ‘আমাদের’ সরকার। ‘কথা কম, কাজ বেশি’—এই নীতিতেই পরিচালিত হবে নতুন মন্ত্রিসভা। দীর্ঘদিনের ভয়ের পরিবেশ কাটিয়ে রাজ্যে একটি নিরাপদ ও ভরসার পরিবেশ তৈরি করাই তাঁর প্রধান লক্ষ্য। সনাতন সংস্কৃতির পুনরুত্থান এবং বাংলার হৃত গৌরব পুনরুদ্ধারে এই নতুন সরকার বদ্ধপরিকর বলে রাজনৈতিক মহল মনে করছে। আজকের এই মাহেন্দ্রক্ষণ কেবল ক্ষমতার পরিবর্তন নয়, বরং বাংলার আত্মপরিচয় রক্ষার এক নতুন সংগ্রামের সূচনা।
মতামত