ভারতের ‘অপারেশন সিঁদুর’ চালানোর সময় পাকিস্তানের গুরুত্বপূর্ণ নূর খান বিমান ঘাঁটিতে গুরুতর ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে—এটি প্রথমবার স্বীকার করেছে পাকিস্তান। দেশটির পররাষ্ট্র ও উপপ্রধানমন্ত্রী ইসহাক দার রোববার ইসলামাবাদে এক সংবাদ সম্মেলনে এই তথ্য প্রকাশ করেন।
দারের বরাতে জানা যায়, মাত্র ৩৬ ঘণ্টার মধ্যে ভারত ৮০টি বিস্ফোরকবাহী ড্রোন নিক্ষেপ করে নূর খান বিমান ঘাঁটিকে লক্ষ্যবস্তু বানায়। পাকিস্তানের এয়ার ডিফেন্স সিস্টেম ৭৯টি ড্রোন আটকাতে সক্ষম হলেও একটির ওপর নিয়ন্ত্রণ হারায়।
নূর খান বিমান ঘাঁটি পাকিস্তান বিমান বাহিনীর জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি ঘাঁটি হিসেবে বিবেচিত। দার মন্তব্য করেন, “এই হামলা ভারতের জন্য ভুল ছিল। হামলার পরই পাকিস্তান পাল্টা অভিযান ‘অপারেশন বুনিয়ান উম মারসুস’ চালানোর সিদ্ধান্ত নেয়।”
তিনি আরও জানান, পাকিস্তান ভারতের সঙ্গে যুদ্ধবিরতির কোনো আহ্বান পাঠায়নি। ১০ মে হামলার পর যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও তাকে ফোন করে জানায়, ভারত যুদ্ধবিরতির জন্য প্রস্তুত এবং জানতে চায় পাকিস্তানও রাজি কি না। দার জানান, পাকিস্তান যুদ্ধের পথে যেতে চায়নি।
উল্লেখ্য, ২২ এপ্রিল ভারতের জম্মু-কাশ্মিরের পেহেলগাম এলাকার বৈসরন উপত্যকায় সন্ত্রাসী হামলায় ২৬ পর্যটক নিহত হয়, যাদের অধিকাংশ হিন্দু ধর্মাবলম্বী ছিলেন। হামলার কয়েক ঘণ্টার মধ্যে দায় স্বীকার করে দ্য রেজিস্ট্যান্স ফ্রন্ট (টিআরএফ) নামের একটি জঙ্গিগোষ্ঠী।
ভারতের প্রতিক্রিয়ায় সিন্ধু নদের পানি বণ্টনচুক্তি স্থগিত, পাকিস্তানি নাগরিকদের ভিসা বাতিলসহ বিভিন্ন পদক্ষেপ নেওয়া হয়। জবাবে পাকিস্তানও ভারতের জন্য আকাশসীমা বন্ধ, ভিসা বাতিলসহ পাল্টা পদক্ষেপ নেয়।
অপারেশন সিঁদুরের সময় ভারতের পক্ষ দাবি করেছিল, ৭০ পাকিস্তানি সন্ত্রাসী নিহত হয়েছে। তবে পাকিস্তান দাবি করেছে, নিহত হয়েছে ৩১ জন এবং আহত হয়েছে ৫৭ জন, যারা কেউই সন্ত্রাসী নয়।
এ ঘটনার প্রেক্ষিতে উভয় দেশই নিজেদের নিরাপত্তা ও জাতীয় স্বার্থ রক্ষার জন্য কৌশলগত পদক্ষেপ নিয়েছে, যা আঞ্চলিক স্থিতিশীলতায় দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব ফেলতে পারে বলে বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন।
মতামত