সরকারের এই বলিষ্ঠ পদক্ষেপকে সাধুবাদ জানিয়েছেন রাজ্যের অগণিত হিন্দু ধর্মাবলম্বী মানুষ ও পশুপ্রেমী সংগঠনগুলো। তাঁদের মতে, সনাতন সংস্কৃতিতে গোমাতার যে বিশেষ মর্যাদা রয়েছে, এই আইনের মাধ্যমে সেই ধর্মীয় ভাবাবেগকে সম্মান জানানো হলো। মানবাধিকার ও প্রাণিকুলের অধিকার নিয়ে কাজ করা কর্মীরাও এই সিদ্ধান্তকে কুর্নিশ জানাচ্ছেন। যদিও সমাজের একটি অংশ এই সিদ্ধান্তের সমালোচনা করছেন, তবে প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে, বৃহত্তর জনস্বার্থ ও পশু সুরক্ষা নিশ্চিত করতেই এই কঠোর অবস্থান। আইন ভঙ্গকারীদের কোনওভাবেই রেয়াত করা হবে না বলে প্রশাসনের শীর্ষ মহল থেকে স্পষ্ট বার্তা দেওয়া হয়েছে।
শুভেন্দুর মাস্টারস্ট্রোক: পশ্চিমবঙ্গে গোহত্যা রোধে কড়া আইন, অমান্য করলেই জেল!
পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক পট পরিবর্তনের পর থেকেই মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর নেতৃত্বাধীন নতুন সরকার একের পর এক জনকল্যাণমুখী ও সাহসী সিদ্ধান্ত গ্রহণ করছে। অবৈধ টোলপ্লাজা উচ্ছেদ থেকে শুরু করে সরকারি চাকরিতে বয়সের ঊর্ধ্বসীমা বৃদ্ধি কিংবা দুর্নীতির বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি—প্রশাসনের প্রতিটি পদক্ষেপে এক নতুন দিশার প্রতিফলন দেখা যাচ্ছে। তবে এবার সনাতনী ভাবাবেগ ও প্রাণিকুলের সুরক্ষায় এক ঐতিহাসিক এবং বৈপ্লবিক পদক্ষেপ গ্রহণ করল নবান্ন। রাজ্যে গোহত্যা বন্ধে কড়া আইনি বিধান কার্যকর করার লক্ষে বিশেষ নির্দেশিকা জারি করেছে সরকার। দীর্ঘ প্রতীক্ষিত এই সিদ্ধান্তটি রাজ্যের আইন-শৃঙ্খলার উন্নয়ন এবং প্রাণিকুলের প্রতি মানবিক আচরণের ক্ষেত্রে একটি মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
নবান্নের পক্ষ থেকে জারি করা ওই নির্দেশিকায় স্পষ্ট উল্লেখ করা হয়েছে যে, এখন থেকে যথাযথ কর্তৃপক্ষের বৈধ শংসাপত্র ও আইনি অনুমতি ব্যতিরেকে কোনওভাবেই গোহত্যা করা যাবে না। পশুর সুস্থতা ও অন্যান্য প্রয়োজনীয়তা যাচাইয়ের পর নির্দিষ্ট শংসাপত্র গ্রহণ এখন বাধ্যতামূলক। এই নিয়ম লঙ্ঘন করলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির বিরুদ্ধে কড়া আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের হুঁশিয়ারি দিয়েছে প্রশাসন, যার মধ্যে মোটা অংকের জরিমানা ও কারাদণ্ডের বিধান রাখা হয়েছে। রাজ্য সরকার সাফ জানিয়ে দিয়েছে যে, ধর্মীয় উৎসব হোক বা ব্যক্তিগত অনুষ্ঠান—কোনও অজুহাতেই আইনের ঊর্ধ্বে গিয়ে বা প্রকাশ্যে গোহত্যা করা চলবে না। জনমানসে নেতিবাচক প্রভাব রোধ এবং সামাজিক সম্প্রীতি রক্ষায় এই সিদ্ধান্ত অত্যন্ত কার্যকরী হবে বলে মনে করা হচ্ছে।
0.0%
0.0%
0.0%
0.0%
মতামত