আন্তর্জাতিক ভূরাজনীতি এবং দক্ষিণ এশিয়ার সীমান্ত সুরক্ষায় এক যুগান্তকারী পদক্ষেপ গ্রহণ করতে চলেছে ভারতের মোদী সরকার। বিশেষ করে ভারত-বাংলাদেশ এবং ভারত-پاکستان সীমান্তের স্পর্শকাতর এলাকাগুলোতে অনুপ্রবেশ, চোরাচালান এবং মানব পাচার পুরোপুরি বন্ধ করতে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ ‘স্মার্ট বর্ডার’ (Smart Border) প্রজেক্টের সূচনা করেছেন। কেন্দ্রের ‘জিরো টলারেন্স’ নীতির অংশ হিসেবে বাস্তবায়িত হতে চলা এই মেগা প্রজেক্টটি মূলত ‘কমপ্রিহেনসিভ ইন্টিগ্রেটেড বর্ডার ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম’ বা CIBMS-এর ওপর ভিত্তি করে গড়ে উঠেছে।
প্রায় ৬০০০ কিলোমিটার দীর্ঘ সংবেদনশীল সীমান্ত এলাকায় এই আধুনিক ডিজিটাল সুরক্ষা বলয় তৈরি করা হবে। নদীপথ, পাহাড়ি খাদ, ঘন জঙ্গল কিংবা বিস্তীর্ণ জলাভূমির মতো যেসব দুর্গম এলাকায় প্রথাগত লোহার কাঁটাতারের বেড়া দেওয়া কিংবা সীমান্তরক্ষী বাহিনীর (BSF) পক্ষে চব্বিশ ঘণ্টা শারীরিক নজরদারি চালানো অসম্ভব, সেইসব স্থানকে সম্পূর্ণ দুর্ভেদ্য করতে এই প্রযুক্তি বড় ভূমিকা রাখবে। এই উদ্যোগের ফলে দুই দেশের সীমান্তবর্তী সাধারণ মানুষ ও সংখ্যালঘু সনাতনীদের নিরাপত্তা যেমন সুনিশ্চিত হবে, তেমনই সীমান্ত পেরিয়ে হওয়া অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের চিরতরে অবসান ঘটবে বলে আশা করা হচ্ছে।
এই অত্যাধুনিক নজরদারি ব্যবস্থার মূল চালিকাশক্তি হিসেবে কাজ করবে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI) এবং থার্মাল ইমেজিং প্রযুক্তি। সীমান্তে বসানো উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন সিসিটিভি এবং ইলেকট্রন অপটিক্যাল ক্যামেরা ঘুটঘুটে অন্ধকার, ঘন কুয়াশা বা দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ায় নিখুঁত ছবি পাঠাতে সক্ষম। অনেক সময় বন্য পশুর আনাগোনার কারণে ভুল অ্যালার্ম বেজে ওঠার সমস্যা দূর করতে এতে যুক্ত করা হয়েছে এআই চিপ, যা মানুষ এবং পশুর গতিবিধির পার্থক্য মুহূর্তের মধ্যে নিখুঁতভাবে বিশ্লেষণ করতে পারবে। যেকোনো সন্দেহজনক অনুপ্রবেশের চেষ্টা নজরে আসবামাত্রই এই সিস্টেম স্বয়ংক্রিয়ভাবে নিকটবর্তী বিএসএফ ক্যাম্পে সতর্কবার্তা পাঠিয়ে দেবে। মাটির নজরদারির পাশাপাশি আকাশপথ সুরক্ষিত রাখতে থাকছে ব্যাটলফিল্ড ও গ্রাউন্ড সারভাইল্যান্স র্যাডার এবং ড্রোন ডিটেকশন সিস্টেম, যা কয়েক কিলোমিটার দূর থেকেই শত্রুর অবস্থান চিহ্নিত করতে পারবে। কোনো অবৈধ ড্রোন সীমানার কাছাকাছি এলেই র্যাডার তা শনাক্ত করে জ্যামার প্রযুক্তির সাহায্যে অকেজো করে দেবে।
পশ্চিমবঙ্গ, অসম ও ত্রিপুরার মতো সীমান্ত রাজ্যগুলোতে অবৈধ অনুপ্রবেশ এবং আন্তর্জাতিক চোরাচালান রুখতে এই প্রযুক্তি অত্যন্ত কার্যকরী হবে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। বিশেষ করে পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর নেতৃত্বাধীন নতুন সরকার সীমান্ত সুরক্ষায় অভূতপূর্ব গতি এনেছে। দীর্ঘদিনের জমিজটের অবসান ঘটিয়ে বিএসএফের হাতে জমি তুলে দিয়েছে রাজ্য সরকার। ‘HINDUS NEWS’-এর পক্ষ থেকে এই উদ্যোগকে স্বাগত জানানো হচ্ছে, কারণ সীমান্ত সুরক্ষিত হলে দুই দেশের সীমান্ত সংলগ্ন অঞ্চলের শান্তিপ্রিয় সনাতনী ও সাধারণ নাগরিকদের মানবাধিকার রক্ষা পাবে এবং অনুপ্রবেশকারীদের কারণে সৃষ্ট সামাজিক ও রাজনৈতিক অস্থিরতা থেকে মুক্তি মিলবে। মোদী সরকার ও পশ্চিমবঙ্গ সরকারের এই সমন্বিত দূরদর্শী সিদ্ধান্ত দক্ষিণ এশিয়ার সার্বিক নিরাপত্তা ও মানবাধিকার সুরক্ষায় এক নতুন দিগন্তের উন্মোচন করল।
মতামত