তিনি এবং তার সহধার্মিণী মনু ভার্মা এদেশের মানুষের কাছ থেকে পাওয়া গভীর সৌহার্দ্য, অসাধারণ আতিথেয়তা এবং হৃদয়ের টান সাথে নিয়ে বেলজিয়াম ও ইউরোপীয় ইউনিয়নে ভারতের পরবর্তী রাষ্ট্রদূত হিসেবে যোগদানের উদ্দেশ্যে রওনা হচ্ছেন। এই দীর্ঘ সময়ে গড়ে ওঠা নিবিড় বন্ধুত্ব কূটনীতির প্রাতিষ্ঠানিক গণ্ডি পেরিয়ে এক চিরস্থায়ী বন্ধনে রূপ নিয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
প্রণয় ভার্মা তার গভীর উপলব্ধিতে প্রকাশ করেছেন যে, ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যকার সম্পর্কটি অত্যন্ত বিশেষ ও অনন্য। দুই দেশ কেবল অভিন্ন ভূগোল, ইতিহাস, ভাষা ও ঐতিহ্যের মাধ্যমেই সংযুক্ত নয়, বরং এমন এক সাংস্কৃতিক ঘনিষ্ঠতা ও পারস্পরিক সহমর্মিতা রয়েছে যা বিশ্বের অন্য যেকোনো দুটি সমাজের মধ্যে বিরল। তিনি বিশেষভাবে স্মরণ করিয়ে দেন যে, ১৯৭১ সালের ঐতিহাসিক মুক্তিযুদ্ধে দুই দেশের বীর সন্তানদের সম্মিলিত আত্মত্যাগের মাধ্যমে এক অবিচ্ছেদ্য আবেগের বন্ধন রচিত হয়েছিল। একটি সমৃদ্ধ বাংলাদেশ যেমন ভারতের অগ্রগতি ও অসাম্প্রদায়িক সুরক্ষার জন্য কাম্য, ঠিক তেমনি একটি অর্থনৈতিক ও মানবাধিকারে সুদৃঢ় ভারতও বাংলাদেশের সর্বাঙ্গীন কল্যাণের জন্য অপরিহার্য। এই পারস্পরিক নির্ভরশীলতা ও অসাম্প্রদায়িক সৌহার্দ্যের যুক্তিই আগামী দিনে দুই দেশের সম্পর্কের যাত্রাপথকে নির্দেশ করবে।
বিগত ৫৫ বছরের পথপরিক্রমায় দুই দেশই বর্তমানে আরও সক্ষম, আত্মবিশ্বাসী, সুসংযুক্ত ও উচ্চাকাঙ্ক্ষী সমাজে পরিণত হয়েছে বলে বিদায়ী হাইকমিশনার অভিমত প্রকাশ করেন। বর্তমান বৈশ্বিক প্রেক্ষাপটে শান্তি, আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা এবং মানবাধিকার সুরক্ষায় দুই দেশের সুদৃঢ় অংশীদারিত্ব অত্যন্ত জরুরি। বিশেষ করে জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবেলা এবং অর্থনৈতিক সমন্বয়ে এই অঞ্চলের দুটি বৃহত্তম অর্থনীতি হিসেবে ভারত ও বাংলাদেশকে যৌথভাবে অগ্রণী ভূমিকা পালন করতে হবে। পরিবর্তিত বৈশ্বিক ও অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক বাস্তবতার কথা মাথায় রেখে তিনি ভবিষ্যৎকেন্দ্রিক একটি নতুন কর্মসূচি গ্রহণের তাগিদ দেন, যা পারস্পরিক সুদৃঢ় সাংস্কৃতিক সংযোগ, পারস্পরিক স্বার্থ, কল্যাণ এবং একে অপরের প্রতি গভীর শ্রদ্ধাবোধের ভিত্তির ওপর প্রতিষ্ঠিত হবে।
দ্রুত বিকাশমান দুই দেশের ভৌগোলিক নৈকট্যকে কোনো দায় বা বোঝা না ভেবে একে একটি অমূল্য সম্পদ ও নতুন সুযোগে রূপান্তরিত করার জন্য তিনি উভয় পক্ষকে নিরন্তর প্রয়াস চালিয়ে যাওয়ার আহ্বান জানান। অসাম্প্রদায়িক চেতনা, সংখ্যালঘু সনাতনী সম্প্রদায়ের মানবাধিকার রক্ষা ও আঞ্চলিক স্থিতিশীলতার সব শুভানুধ্যায়ী এই অভিন্ন স্বপ্ন বাস্তবায়নে একত্রিত হবেন বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন। বিদায়বেলায় এদেশের মানুষের প্রতি গভীর স্নেহার্দ্রতা ও আবেগীয় টানের কথা উল্লেখ করে প্রণয় ভার্মা অত্যন্ত ইতিবাচক কণ্ঠে বিদায়বার্তা শেষ করেন এই বলে যে, কোনো এক সময়, কোনো এক স্থানে দুই দেশের শুভশক্তির পথ আবারও এক বিন্দুতে মিলিত হবে।
মতামত