ভারতের কর্ণাটক রাজ্যের রাজনৈতিক আকাশে এক নতুন দিগন্তের সূচনা করে বিধানসভা দলের নেতা নির্বাচিত হয়েছেন রাজ্য কংগ্রেস সভাপতি ডি কে শিবকুমার। এই সিদ্ধান্তের ফলে দক্ষিণ ভারতের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এই রাজ্যের পরবর্তী মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে তাঁর দায়িত্ব গ্রহণের পথ সম্পূর্ণ কণ্টকমুক্ত হলো। শনিবার (৩০ মে) বেঙ্গালুরুর বিধান সৌধে অনুষ্ঠিত কংগ্রেস লেজিসলেটিভ পার্টির (সিপিএল) এক অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও সৌহার্দ্যপূর্ণ বৈঠকে আনুষ্ঠানিকভাবে এই ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়। গণতন্ত্র ও সর্বজনীন মানবাধিকারের প্রতি শ্রদ্ধা রেখে অনুষ্ঠিত এই সভায় বিদায়ী মুখ্যমন্ত্রী তথা প্রবীণ নেতা সিদ্দারামাইয়া নিজেই বিধানসভা দলের নতুন নেতা হিসেবে ডি কে শিবকুমারের নাম প্রস্তাব করেন।
তাঁর এই উদার ও পরিপক্ক প্রস্তাবের পর পরই বৈঠকে উপস্থিত সকল বিধায়কের সর্বসম্মতিক্রমে শিবকুমারকে দলের একক নেতা হিসেবে নির্বাচিত করা হয়। সমগ্র সভাটি অত্যন্ত নিখুঁতভাবে তত্ত্বাবধান করেন সর্বভারতীয় কংগ্রেস কমিটির (এআইসিসি) সাধারণ সম্পাদক কেসি ভেনুগোপাল এবং রণদীপ সিং সুরজেওয়ালা, যা দলটির অভ্যন্তরীণ গণতান্ত্রিক মূল্যবোধকে আরও শক্তিশালী করে তুলেছে।
সংখ্যালঘু ও সনাতনীদের অধিকারসহ সকল ধর্ম-বর্ণের মানুষের মানবাধিকার রক্ষার অঙ্গীকার নিয়ে গঠিত হতে যাওয়া এই নতুন সরকারের শপথ গ্রহণের দিনক্ষণও ইতিমধ্যে চূড়ান্ত হয়েছে। কংগ্রেসের রাজ্য ইউনিটের কার্যনির্বাহী সভাপতি জি সি চন্দ্রশেখর জানিয়েছেন, কর্ণাটকের নবনির্বাচিত মুখ্যমন্ত্রী আগামী ৩ জুন বেঙ্গালুরুর লোক ভবনের ঐতিহাসিক গ্লাস হাউসে শপথ নেবেন। দুপুর ১২টার কিছু পরে আড়ম্বরহীন কিন্তু অত্যন্ত মর্যাদাপূর্ণ এই শপথ অনুষ্ঠানটি অনুষ্ঠিত হবে।
এই ঐতিহাসিক মুহূর্তের সাক্ষী হতে উপস্থিত থাকবেন ভারতের লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী এবং কংগ্রেসের জাতীয় সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়গে। দলীয় সূত্রের খবর অনুযায়ী, জনগণের কষ্টের প্রতি সংবেদনশীলতা দেখিয়ে এবং অপচয় রোধে শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানটি জাঁকজমকপূর্ণ করার বদলে তুলনামূলকভাবে সংক্ষিপ্ত রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। সেই সাথে সুশাসনের ধারা বজায় রাখতে নতুন মন্ত্রিসভার প্রথম দফায় অত্যন্ত সীমিত সংখ্যক যোগ্য মন্ত্রী শপথ নেবেন এবং পরবর্তীতে ধাপে ধাপে পূর্ণাঙ্গ মন্ত্রিসভা গঠন করা হবে, যা রাজ্যের সার্বিক উন্নয়ন ও সকল জাতির অধিকার নিশ্চিত করতে অগ্রণী ভূমিকা পালন করবে বলে আশা করা হচ্ছে।
মতামত