সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সম্প্রতি রংপুরে কীর্তন বন্ধ করে দেওয়ার দাবিতে হামলার একটি ভিডিও নতুন ঘটনা হিসেবে ব্যাপকভাবে প্রচার করা হচ্ছে। তবে অনুসন্ধানে জানা গেছে, প্রচারিত ভিডিওটি সাম্প্রতিক কোনো ঘটনার নয়; এটি ২০২৪ সালের একটি পুরোনো ঘটনার ভিডিও।
জানা যায়, ঘটনাটি ২০২৪ সালের অক্টোবর মাসে রংপুরের একটি এলাকায় সংঘটিত হয়েছিল। সে সময় জুমার নামাজের সময় কীর্তনের শব্দ সম্প্রচার করা হয়েছে—এমন অভিযোগ তুলে কিছু মুসল্লি ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন। এ নিয়ে উভয় পক্ষের মধ্যে কথাকাটাকাটি ও উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছিল।
তবে স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, পরিস্থিতি কোনো বড় ধরনের সংঘর্ষে রূপ নেয়নি। ঘটনার পরপরই স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ, জনপ্রতিনিধি এবং সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর উদ্যোগে আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়। আলোচনার মাধ্যমে বিষয়টির শান্তিপূর্ণ সমাধান করা হয় এবং তখনই পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়ে আসে।
এ বিষয়ে HindusNews ২০২৪ সালের ২৫ অক্টোবর একটি সংবাদ প্রকাশ করেছিল। কিন্তু সম্প্রতি সেই পুরোনো সংবাদ ও ভিডিও নতুন ঘটনার দাবি করে বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পুনরায় ছড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে। ফলে বিষয়টি নিয়ে জনমনে বিভ্রান্তি তৈরি হয়েছে।
পর্যবেক্ষকরা বলছেন, পুরোনো ঘটনাকে নতুন হিসেবে উপস্থাপন করা হলে তা জনসাধারণকে বিভ্রান্ত করার পাশাপাশি সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি ও সামাজিক স্থিতিশীলতার ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষ করে সংবেদনশীল বিষয়গুলো যাচাই-বাছাই ছাড়া প্রচার করলে ভুল বোঝাবুঝি এবং অপ্রয়োজনীয় উত্তেজনা সৃষ্টি হওয়ার আশঙ্কা থাকে।
এদিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভিডিওটি পুনরায় ছড়িয়ে পড়ার পর অনেক নেটিজেন বিভিন্ন ধরনের প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করছেন। কেউ কেউ ঘটনাটিকে সাম্প্রতিক বলে মনে করে মন্তব্য করলেও, পরবর্তীতে ভিডিওটির প্রকৃত সময়কাল সামনে আসার পর বিভ্রান্তির বিষয়টি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।
সচেতন মহল সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারকারীদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে, কোনো সংবাদ, ভিডিও বা তথ্য শেয়ার করার আগে তার সত্যতা ও সময়কাল যাচাই করা উচিত। বিশেষ করে ধর্মীয় ও সাম্প্রদায়িক সংবেদনশীল বিষয়গুলোতে দায়িত্বশীল আচরণ সামাজিক সম্প্রীতি রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
মতামত