গণমাধ্যমের প্রধান দায়িত্ব হলো জনসমক্ষে সত্য ও বস্তুনিষ্ঠ তথ্য তুলে ধরা। কিন্তু আধুনিক সাংবাদিকতার প্রতিযোগিতায় লিপ্ত হয়ে অনেক মূলধারার গণমাধ্যমই এখন যাচাই-বাছাই ছাড়াই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের সস্তা কনটেন্টকে আসল ঘটনা হিসেবে প্রচার করছে। সম্প্রতি দেশের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় শিল্পগোষ্ঠী বসুন্ধরা গ্রুপের মালিকানাধীন মূলধারার টেলিভিশন চ্যানেল "NEWS24" ঠিক এমন একটি অপসাংবাদিকতার আশ্রয় নিয়েছে। গত ৩ জুন চ্যানেলটি তাদের অফিশিয়াল ফেসবুক পেজে এক তরুণ-তরুণীর আবেগঘন ভিডিও শেয়ার করে দাবি করে, মৃত্যুর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে ভালোবাসার এক অনন্য নজির তৈরি হয়েছে হাসপাতালের চার দেয়ালে।
জীবনের শেষ প্রান্তে দাঁড়িয়ে থাকা ক্যান্সার আক্রান্ত প্রেমিকার শেষ ইচ্ছা পূরণ করতে সমস্ত নিয়মের বেড়াজাল ভেঙে এক যুবক হাসপাতালে বিয়ের পিঁড়িতে বসেছেন। প্রতিবেদনটি নিমেষেই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে এবং হাজার হাজার দর্শককে আবেগতাড়িত করে তোলে।
তবে "HINDUS NEWS"-এর অনুসন্ধানে এবং ‘দ্য ডিসেন্ট’-এর ফ্যাক্ট-চেক বা সত্যতা যাচাইয়ে এই প্রতিবেদনের ভেতরের আসল সত্যটি উন্মোচিত হয়েছে, যা অত্যন্ত হতাশাজনক। প্রচারিত হৃদয়স্পর্শী ভিডিওটি আদতে বাস্তব কোনো ঘটনার প্রতিচ্ছবি নয়, বরং এটি ভারতের একজন জনপ্রিয় কনটেন্ট ক্রিয়েটর ও অভিনেত্রী অনামিকা সিংয়ের অভিনীত একটি সাজানো নাটক। ভিডিওটির উৎস সন্ধান করতে গিয়ে দেখা যায়, গত ৩১ মে অনামিকা সিং নামের একটি ফেসবুক অ্যাকাউন্টে হুবহু এই ভিডিওটি প্রথম পোস্ট করা হয়েছিল, যেখানে সাধারণ কিছু হ্যাশট্যাগ ব্যবহার করা হয়। একই ভিডিও এই অভিনেত্রীর অফিশিয়াল ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্টেও পাওয়া যায়, যার ক্যাপশনে হিন্দিতে লেখা ছিল— "আমি তোমার প্রতিটি সিদ্ধান্তে পাশে আছি, শেষ নিঃশ্বাস পর্যন্ত থাকব।" অনামিকা সিংয়ের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের প্রোফাইলগুলো পর্যবেক্ষণ করে দেখা গেছে যে তিনি একজন পেশাদার অভিনেত্রী এবং তার অ্যাকাউন্টে হাসপাতালে বিয়ের দৃশ্যসহ এই ধরণের আরও বহু নাটकीय ও অভিনীত ভিডিও রয়েছে।
ফলে এটি স্পষ্ট যে, নিউজ২৪ কোনো ধরণের সত্যতা যাচাই না করেই একজন ভারতীয় অভিনেত্রীর রিলস বা নাটকের দৃশ্যকে সত্য ঘটনা বলে চালিয়ে দিয়েছে। এই ধরণের ভুয়া ও বিভ্রান্তিকর খবর প্রচার কেবল গণমাধ্যমের ভাবমূর্তিকেই ক্ষুণ্ন করে না, বরং সাধারণ মানুষের সরল বিশ্বাস ও আবেগের সাথে এক ধরণের নির্মম প্রতারণা।
মতামত