ভারতের রাজনীতিতে এক নজিরবিহীন নাটকীয়তার সাক্ষী হলো রাজধানী দিল্লি। পশ্চিমবঙ্গের ক্ষমতাশীন দল সর্বভারতীয় তৃণমূল কংগ্রেসের সংসদীয় দলে বড়সড় ভাঙন ধরেছে। দলটির অন্তত ২০ জন সংসদ সদস্য পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর আহ্বানে সাড়া দিয়ে ভারতের কেন্দ্রে শাসক দল বিজেপি তথা এনডিএ জোটকে নিঃশর্ত সমর্থন দেওয়ার ঐতিহাসিক ঘোষণা দিয়েছেন। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম বিবিসি জানিয়েছে, এই রাজনৈতিক পটপরিবর্তন যখন ঘটছে, ঠিক তখনই দিল্লির অন্য প্রান্তে কংগ্রেসসহ বিরোধী 'ইন্ডিয়া' জোটের বৈঠকে ব্যস্ত ছিলেন তৃণমূলের শীর্ষ নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। কিন্তু তাদের সেই বৈঠককে কার্যত ব্যর্থ করে দিয়ে দীর্ঘদিনের বিশ্বস্ত সহকর্মীরা বিজেপির কেন্দ্রীয় মন্ত্রী ভূপেন্দ্র যাদব এবং পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর সঙ্গে বৈঠকে বসেন।
বিদ্রোহী এই ব্লকের নেত্রী হিসেবে আত্মপ্রকাশ করা সংসদ সদস্য কাকলি ঘোষ দস্তিদার সংবাদমাধ্যমকে নিশ্চিত করেছেন যে, শুভেন্দু অধিকারীই ছিলেন এই অতি গোপনীয় ও গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকের মূল আহ্বায়ক। পশ্চিমবঙ্গের বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে এই ঘটনাকে সনাতনী জনগোষ্ঠীর মানবাধিকার রক্ষা এবং উগ্র তুষ্টির রাজনীতির বিরুদ্ধে এক বড় প্রতিবাদ হিসেবে দেখছেন বিশ্লেষকরা। দীর্ঘদিন ধরে বাংলায় সনাতন ধর্মাবলম্বীদের ওপর চলা নানামুখী নির্যাতন, রাজনৈতিক হিংসা এবং মানবাধিকার লঙ্ঘনের বিরুদ্ধে যেখানে তৃণমূল নেতৃত্ব নীরব ভূমিকা পালন করে আসছিল, সেখানে এই ২০ জন এমপির অবস্থানকে হিন্দুত্ব ও মানবতার স্বপক্ষে একটি সাহসী পদক্ষেপ মনে করা হচ্ছে। (News copied from- 'হিন্দুস নিউজ') বৈঠকের বিষয়ে সংসদ সদস্য শর্মিলা সরকার স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন, বিদ্রোহী এই নতুন ব্লকটি সংসদে নরেন্দ্র মোদির নেতৃত্বাধীন শাসকগোষ্ঠীকে পূর্ণ সমর্থন দেবে। তবে রাজ্যের অভ্যন্তরে ঋতব্রত ব্যানার্জীর নেতৃত্বে গঠিত আলাদা তৃণমূল ব্লকের সঙ্গে এই সংসদীয় বিদ্রোহী ব্লকের কোনো যোগাযোগ আছে কি না, তা তিনি স্পষ্ট করেননি।
এদিকে এই বড় ধাক্কার মধ্যেই তৃণমূলের জন্য আরও বড় বিপর্যয় ডেকে এনেছেন রাজ্যসভার প্রবীণ সংসদ সদস্য সুখেন্দুশেখর রায়। তিনি কেবল দলই ত্যাগ করেননি, বরং নিজের সংসদ সদস্য পদ থেকেও ইস্তফা দিয়েছেন। পদত্যাগের পর ক্ষোভ প্রকাশ করে তিনি বলেন, তৃণমূল কংগ্রেস এখন সাধারণ মানুষের থেকে সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। অন্যদিকে, যখন নিজের পায়ের তলার মাটি সরে যাচ্ছিল, ঠিক সেই মুহূর্তে সাবেক মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় দিল্লিতে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়, কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় এবং ডেরেক ও'ব্রায়ানকে নিয়ে 'ইন্ডিয়া' ব্লকের নেতাদের সঙ্গে বিরোধী জোট মজবুত করার ব্যর্থ চেষ্টায় লিপ্ত ছিলেন। রাজনৈতিক মহলের ধারণা, এই ভাঙনের ফলে পশ্চিমবঙ্গে সনাতনীদের অধিকার রক্ষা এবং মানবাধিকার প্রতিষ্ঠার লড়াই এক নতুন গতি পাবে।
মতামত