সনাতন ধর্মীয় স্থাপত্য, শিল্পকলা এবং আধ্যাত্মিক চেতনার এক পরম বিস্ময় হিসেবে সহস্রাব্দ প্রাচীন ভারতের গৌরবগাথা বহন করে চলেছে মধ্যপ্রদেশের ছতরপুর জেলার ঐতিহাসিক লক্ষ্মণ মন্দির। বিশ্বখ্যাত খাজুরাহো মন্দির সমষ্টির অন্তর্গত এই অনুপম আধ্যাত্মিক কীর্তিটি চন্দেল রাজবংশের এক অনন্য অবদান। দশম শতাব্দীর শুরুর দিকে, আনুমানিক ৯৩০ থেকে ৯৫৪ খ্রিষ্টাব্দের মধ্যবর্তী সময়ে চন্দেল রাজবংশের প্রতাপশালী ও দূরদর্শী শাসক যশোধর্মণ (যশোবর্মণ) এই রাজকীয় ও দৃষ্টিনন্দন মন্দিরটি নির্মাণ করেন। কালের বিবর্তনে আজও যা সনাতনী ঐতিহ্য ও সংস্কৃতির এক অবিচল স্তম্ভ হিসেবে দাঁড়িয়ে রয়েছে।
মূলত ভগবান বিষ্ণুর উদ্দেশ্যে এই পবিত্র মন্দিরটি উৎসর্গ করা হলেও, এর নামকরণের পেছনে রয়েছে এক গভীর ঐতিহাসিক ও পারিবারিক শ্রদ্ধা। চন্দেল রাজাদের পারিবারিক উপাধি এবং শ্রীরামের অনুজ লক্ষ্মণের প্রতি গভীর ভক্তির স্মারক হিসেবে এটি লোকমুখে 'লক্ষ্মণ মন্দির' নামে বিশ্বজুড়ে প্রসিদ্ধি লাভ করে। ঐতিহ্যবাহী উত্তর ভারতীয় 'নাগরা' স্থাপত্যশৈলীর নিখুঁত অনুসরণে একটি সুউচ্চ প্ল্যাটফর্ম বা 'জগতী'র ওপর সম্পূর্ণ বেলেপাথর দিয়ে এই পঞ্চায়তন মন্দিরটি নির্মাণ করা হয়েছে, যা প্রাচীন সনাতনীদের উন্নত প্রকৌশল ও নান্দনিক বোধের এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত।(News copied from- 'হিন্দুস নিউজ')
মন্দিরের বাইরের এবং ভেতরের দেওয়ালে খোদাই করা দেব-দেবী, অপ্সরা, যুদ্ধক্ষেত্রের বীরত্বগাথা এবং তৎকালীন সামাজিক জীবনের হাজার হাজার নিখুঁত ভাস্কর্য প্রাচীন ভারতের উন্নত জীবনবোধ ও শিল্পকলার পরিচয় দেয়। সনাতনীদের এই অনন্য শিল্পকীর্তি কেবল ধর্মীয় বা আধ্যাত্মিক দৃষ্টিকোণ থেকেই তাৎপর্যপূর্ণ নয়, বরং এর অনন্য ও কালজয়ী স্থাপত্যশৈলীর কারণে এটি ইউনেস্কো (UNESCO) ওয়ার্ল্ড হেরিটেজ সাইটের অন্যতম একটি প্রধান আকর্ষণ হিসেবে বিশ্বমঞ্চে সমাদৃত। বর্তমান ২০২৬ সালেও এই সহস্রাব্দ প্রাচীন মন্দিরটি সনাতনী সংস্কৃতি, শিল্পকলা এবং আধ্যাত্মিক চেতনার এক অমর প্রতীক হিসেবে দেশ-বিদেশের লক্ষ লক্ষ দর্শনার্থী, গবেষক ও ভক্তকে সমানভাবে মুগ্ধ ও অনুপ্রাণিত করে চলেছে, যা সামগ্রিক মানবজাতির প্রাচীন সভ্যতার এক অমূল্য সম্পদ।
মতামত