গাইবান্ধার পলাশবাড়ীতে শ্রীরামচন্দ্রের ভাস্কর্য নির্মাণকে কেন্দ্র করে সৃষ্ট বিতর্ক এবং শ্রীরামচন্দ্রের ছবি অবমাননার অভিযোগে গভীর উদ্বেগ, ক্ষোভ ও প্রতিবাদ জানিয়েছে ‘সনাতন শিক্ষার্থী সংসদ, বাংলাদেশ’। সংগঠনটি ঘটনাকে ধর্মীয় স্বাধীনতা ও সাংবিধানিক অধিকারের পরিপন্থী বলে উল্লেখ করে সংশ্লিষ্ট বিষয়ে দ্রুত ও কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছে।
মঙ্গলবার (১৭ জুন) সংগঠনের কেন্দ্রীয় সভাপতি রাখাল দেবনাথ রনি এবং সাধারণ সম্পাদক পরিমল চন্দ্র রায় রানা স্বাক্ষরিত এক বিবৃতিতে এ প্রতিবাদ জানানো হয়। বিবৃতিতে বলা হয়, সনাতন ধর্মাবলম্বীদের অন্যতম আরাধ্য দেবতা শ্রীরামচন্দ্রকে ঘিরে গাইবান্ধার পলাশবাড়ীতে যে পরিস্থিতি তৈরি করা হয়েছে এবং তাঁর ছবি অবমাননার যে অভিযোগ উঠেছে, তা দেশের সংবিধানপ্রদত্ত ধর্মীয় স্বাধীনতা ও সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির চেতনার সঙ্গে সাংঘর্ষিক।


বিবৃতিতে গাইবান্ধার ঐতিহাসিক ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের কথাও তুলে ধরা হয়। নেতৃবৃন্দ উল্লেখ করেন, লোককথা ও প্রচলিত ঐতিহাসিক বর্ণনা অনুযায়ী, মহাভারতের রাজা বিরাটের গোশালার গাভী পালনের স্থান বা গরু বেঁধে রাখার ক্ষেত্র থেকেই ‘গাইবান্ধা’ নামের উৎপত্তি বলে বিশ্বাস করা হয়। এছাড়া জেলার বিভিন্ন স্থানের নামকরণ ও ইতিহাসেও হিন্দু ঐতিহ্যের উল্লেখযোগ্য প্রভাব রয়েছে। রংপুরের তাজহাটের জমিদার গোবিন্দলাল রায় ও তাঁর পুত্র সুন্দর রায়ের নাম অনুসারে যথাক্রমে গোবিন্দগঞ্জ ও সুন্দরগঞ্জ উপজেলার নামকরণ হয়েছে বলে বিবৃতিতে দাবি করা হয়। একইসঙ্গে পলাশবাড়ী উপজেলার দুর্গাপুর অঞ্চলে হিন্দু জমিদার আমলের অসংখ্য দিঘি আজও অতীত ঐতিহ্যের স্মারক হিসেবে বিদ্যমান রয়েছে বলেও উল্লেখ করা হয়।
সনাতন শিক্ষার্থী সংসদের নেতারা বলেন, সনাতন ধর্মাবলম্বীরা এ ভূখণ্ডের ইতিহাস, সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যের অবিচ্ছেদ্য অংশ। তাঁদের ধর্মীয় অনুভূতি ও বিশ্বাসের প্রতি সম্মান প্রদর্শন করা রাষ্ট্র ও সমাজের সকল স্তরের মানুষের দায়িত্ব। তারা আশা প্রকাশ করেন, সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বজায় রাখতে এবং সকল ধর্মের মানুষের সমঅধিকার নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করবে।
বিবৃতিতে ধর্মীয় সহনশীলতা, পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ এবং সাংবিধানিক অধিকারের প্রতি সম্মান প্রদর্শনের আহ্বান জানিয়ে বলা হয়, কোনো ধরনের উসকানি, বিদ্বেষ বা ধর্মীয় অবমাননা দেশের শান্তি ও সম্প্রীতির জন্য ক্ষতিকর। তাই এ ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধে যথাযথ তদন্ত ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানানো হয়েছে।
মতামত