স্বাধীন বাংলাদেশে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের দীর্ঘদিনের ধর্মীয় অধিকার, ঐতিহ্য প্রকাশ এবং আইনি মত প্রকাশের স্বাধীনতার ওপর আবারও মৌলবাদী গোষ্ঠীর চাপ সৃষ্টির অপচেষ্টা দৃশ্যমান হয়ে উঠেছে। গাইবান্ধার পলাশবাড়ীতে 'এশিয়ার সর্ববৃহৎ রামমূর্তি' স্থাপনের ধর্মীয় উদ্যোগ এবং সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী চৈতালী চক্রবর্তী কর্তৃক সনাতনীদের অধিকার ও সুরক্ষা নিশ্চিতকরণের দাবিকে কেন্দ্র করে তীব্র ক্ষোভ ও নিন্দা প্রকাশ করেছে কট্টরপন্থী সংগঠন হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশ। সংগঠনটি চৈতালী চক্রবর্তীকে অনতিবিলম্বে গ্রেপ্তার এবং তার আইনজীবী সনদ বাতিলের দাবি জানিয়ে দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির ওপর নতুন করে এক ধরনের মনস্তাত্ত্বিক চাপ সৃষ্টি করছে।
গত রবিবার গণমাধ্যমে পাঠানো এক যৌথ বিবৃতিতে হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের আমির আল্লামা শাহ মুহিববুল্লাহ বাবুনগরী ও মহাসচিব আল্লামা শায়েখ সাজিদুর রহমান এই দাবি উত্থাপন করেন। বিবৃতিতে সনাতনীদের এই ধর্মীয় আইনি অধিকার ও সুরক্ষার কণ্ঠস্বরকে 'বিচ্ছিন্নতাবাদ ও সার্বভৌমত্ব ক্ষুণ্ণকারী' হিসেবে আখ্যা দেওয়া হয়েছে। তবে দেশের মানবাধিকার কর্মী ও সনাতনী সমাজের একাংশের মতে, গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে যেকোনো নাগরিকেরই নিজের অধিকার ও জানমালের নিরাপত্তার দাবি তোলার সাংবিধানিক অধিকার রয়েছে। (News copied from- 'হিন্দুস নিউজ')
হেফাজত নেতারা তাদের বিবৃতিতে দাবি করেন, ঐতিহাসিক জুলাই বিপ্লবের জাতীয় ঐক্যকে নসাৎ করতে এবং দেশের সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বিনষ্ট করতে একটি মহল ষড়যন্ত্র করছে। সুপ্রিম কোর্টের একজন আইনজীবীর আইনি অবস্থান ও সনাতনীদের সুরক্ষার বক্তব্যকে তারা রাষ্ট্রদ্রোহিতা এবং দেশের অখণ্ডতার বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা হিসেবে চিত্রায়িত করার চেষ্টা চালাচ্ছেন। বিবৃতিতে আরও বলা হয়েছে যে, পলাশবাড়ীতে বিশাল পরিসরে রামমূর্তি নির্মাণের উদ্যোগ স্থানীয়ভাবে সাম্প্রদায়িক উত্তেজনা তৈরি করছে। হেফাজত নেতারা সরকারের কাছে জোর দাবি জানিয়েছেন যেন অনতিবিলম্বে চৈতালী চক্রবর্তীকে গ্রেপ্তার করে বিশেষ ট্রাইব্যুনালে বিচার করা হয় এবং বাংলাদেশ বার কাউন্সিল কর্তৃক তার আইনজীবী সনদ স্থায়ীভাবে বাতিল করা হয়। দেশের জাতীয় নিরাপত্তা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষার্থে সরকারের গোয়েন্দা সংস্থাসমূহকে এই ঘটনার পেছনের কুশীলবদের খুঁজে বের করার আহ্বান জানানোর পাশাপাশি প্রশাসনকে কঠোর আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার তাগিদ দিয়েছে সংগঠনটি।
মতামত