পেশাগত দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে সদ্য বিদায়ী ২০২৫ সালে বিশ্বজুড়ে অন্তত ১২৮ জন সাংবাদিক ও সংবাদকর্মী নিহত হয়েছেন। বেলজিয়ামের ব্রাসেলস থেকে প্রকাশিত ইন্টারন্যাশনাল ফেডারেশন অব জার্নালিস্টস (আইএফজে)–এর বার্ষিক প্রতিবেদনে এই উদ্বেগজনক তথ্য উঠে এসেছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, নিহত সাংবাদিকদের মধ্যে অর্ধেকেরও বেশি প্রাণ হারিয়েছেন মধ্যপ্রাচ্যে, যা গত কয়েক দশকের মধ্যে সাংবাদিকদের জন্য অন্যতম বিপজ্জনক অঞ্চল হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে। আইএফজে জানিয়েছে, আগের বছরের তুলনায় ২০২৫ সালে সাংবাদিক হত্যার সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে।
আইএফজের জেনারেল সেক্রেটারি অ্যান্থনি বেলাঙ্গার বার্তা সংস্থা এএফপিকে দেওয়া এক প্রতিক্রিয়ায় বলেন,
“এই সংখ্যা কেবল পরিসংখ্যান নয়, এটি বিশ্বজুড়ে সাংবাদিক সমাজের জন্য একটি ভয়াবহ রেড অ্যালার্ট। সত্য তুলে ধরার মূল্য আজ আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে বেশি প্রাণঘাতী হয়ে উঠেছে।”

“এমন পরিস্থিতি আমরা আগে কখনো প্রত্যক্ষ করিনি।”
ফিলিস্তিন ছাড়াও ইয়েমেন, ইউক্রেন, সুদান, পেরু ও ভারতেও সাংবাদিক হত্যার ঘটনা ঘটেছে। এসব হত্যাকাণ্ডের অধিকাংশ ক্ষেত্রেই দোষীদের বিচারের আওতায় না আনার প্রবণতায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে আইএফজে। সংস্থাটির মতে, বিচারহীনতার সংস্কৃতিই সাংবাদিকদের ওপর হামলা আরও বাড়িয়ে দিচ্ছে।
হত্যার পাশাপাশি সাংবাদিকদের কারাবন্দি করার ঘটনাও ভয়াবহ হারে বেড়েছে। আইএফজের তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে বিশ্বজুড়ে ৫৩৩ জন সাংবাদিক কারাগারে বন্দী, যা গত পাঁচ বছরের তুলনায় দ্বিগুণেরও বেশি। দমন–পীড়নের ক্ষেত্রে চীন শীর্ষে অবস্থান করছে। চীন ও হংকংয়ের কারাগারে অন্তত ১৪৩ জন সাংবাদিক বন্দী রয়েছেন বলে জানিয়েছে সংস্থাটি। জাতীয় নিরাপত্তা আইনের অপব্যবহারের অভিযোগে চীন ও হংকং প্রশাসনের তীব্র সমালোচনা করেছে বিভিন্ন মানবাধিকার সংগঠন ও পশ্চিমা দেশগুলো।
আইএফজে আরও জানিয়েছে, বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থার হিসাব–পদ্ধতির পার্থক্যের কারণে নিহত সাংবাদিকের সংখ্যায় কিছু তারতম্য দেখা যায়। আইএফজের তালিকায় দুর্ঘটনায় নিহত ৯ জন সাংবাদিকের তথ্যও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
এদিকে রিপোর্টার্স উইদাউট বর্ডারস (আরএসএফ) জানিয়েছে, ২০২৫ সালে পেশাগত দায়িত্ব পালনকালে বিশ্বে ৬৭ জন সাংবাদিক নিহত হয়েছেন। অন্যদিকে ইউনেসকোর হিসাব অনুযায়ী এই সংখ্যা ৯৩।
বিশ্লেষকদের মতে, যুদ্ধ, সংঘাত, রাষ্ট্রীয় দমন–পীড়ন ও চরমপন্থার উত্থানের ফলে সাংবাদিকতা বিশ্বজুড়ে ক্রমেই একটি জীবনঝুঁকিপূর্ণ পেশায় পরিণত হচ্ছে। সংবাদকর্মীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কার্যকর ও সমন্বিত পদক্ষেপ এখন সময়ের দাবি।
মতামত