তবে এই ঘটনাকে কোনো বিচ্ছিন্ন বিষয় বলে মানতে নারাজ কংগ্রেস নেতৃত্ব। পশ্চিমবঙ্গ প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি শুভঙ্কর সরকার ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেছেন যে, এটি একটি গভীর এবং বৃহত্তর ষড়যন্ত্রের অংশ। তিনি প্রশ্ন তোলেন, দুষ্কৃতকারীরা কেন হঠাৎ মহাত্মা গান্ধীকে টার্গেট করল, তা খতিয়ে দেখা দরকার। তিনি দৃঢ়তার সাথে উল্লেখ করেন যে, জাতির জনকের আদর্শ ও নীতি বিশ্বব্যাপী সমাদৃত এবং মূর্তির মুখ ঢেকে তাঁর পথপ্রদর্শনকারী দর্শনকে কখনো মুছে ফেলা যাবে না, বরং যারা এই অপকর্ম করেছে তারা আসলে নিজেদের মুখই ঢেকেছে। বর্তমানে পুলিশ পুরো ঘটনাটির তদন্ত শুরু করেছে এবং সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করে জড়িতদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চালাচ্ছে।
মহাত্মা গান্ধীর ভাস্কর্যে কালো কাপড়: কাটোয়ায় তীব্র উত্তেজনা
পশ্চিমবঙ্গের পূর্ব বর্ধমান জেলার কাটোয়া শহরে মহাত্মা গান্ধীর ভাস্কর্যের মুখ ও হাতে কালো কাপড় বেঁধে দেওয়ার ঘটনাকে কেন্দ্র করে তীব্র উত্তেজনা ও রাজনৈতিক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। বুধবার সকালে কাটোয়ার স্টেশন বাজার এলাকায় ১৯৯৬ সালে তৎকালীন কংগ্রেস পরিচালিত পৌরসভার স্থাপন করা এই ভাস্কর্যটি কালো কাপড়ে ঢাকা অবস্থায় দেখতে পান স্থানীয় বাসিন্দারা। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে কালো কাপড় সরিয়ে ফেলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করে। তবে এই ঘটনাটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশ পাওয়া মাত্রই সর্বস্তরের মানুষের মধ্যে ব্যাপক ক্ষোভ ও প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি করেছে এবং অনেকেই এর তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন।
সনাতন সংস্কৃতির অহিংসা ও পরমতসহিষ্ণুতার প্রতীক মহাত্মা গান্ধীর প্রতি এমন অবমাননাকর আচরণকে কোনোভাবেই সাধারণ ঘটনা হিসেবে দেখছেন না রাজনৈতিক মহল। কাটোয়ার সাবেক বিধায়ক রবীন্দ্রনাথ চট্টোপাধ্যায় এই ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে একে একটি দেশবিরোধী কাজ হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন এবং দোষীদের দ্রুত শনাক্ত করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন। একই সুরে সুর মিলিয়ে পূর্ব বর্ধমান জেলা বিজেপির সহসভাপতি অনিল দত্ত ঘটনাটিকে অত্যন্ত জঘন্য বলে উল্লেখ করেন এবং জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য প্রশাসনের প্রতি আহ্বান জানান। (News copied from- 'হিন্দুস নিউজ') অন্যদিকে, স্থানীয় মহকুমা শাসক রীনা ঘোষ সিসিটিভি ফুটেজের বরাত দিয়ে জানিয়েছেন যে, রাতের অন্ধকারে এক গৃহহীন ব্যক্তি ভাস্কর্যটির মুখ ও হাত কালো কাপড়ে বেঁধে দিয়েছিল।
0.0%
0.0%
0.0%
0.0%
মতামত