জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে প্রকাশিত এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, সাম্প্রতিক সময়ে ফেসবুক, ইউটিউব, টিকটক, হোয়াটসঅ্যাপ, মেসেঞ্জারসহ বিভিন্ন অনলাইন প্ল্যাটফর্মে উক্ত বিষয়কে কেন্দ্র করে ধর্মীয় উস্কানিমূলক, অসত্য ও ভুয়া তথ্যসম্বলিত পোস্ট, ছবি এবং ভিডিও ব্যাপকভাবে প্রচার করা হচ্ছে। পুলিশ বলছে, এসব প্রচারণা জেলার দীর্ঘদিনের ধর্মীয় সম্প্রীতি, পারস্পরিক সহনশীলতা ও সামাজিক ঐক্য বিনষ্টের অপচেষ্টা হতে পারে।
বিজ্ঞপ্তিতে আরও উল্লেখ করা হয়, একটি স্বার্থান্বেষী ও কুচক্রী মহল পরিকল্পিতভাবে এসব বিভ্রান্তিকর কনটেন্ট ছড়িয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে উত্তেজনা, অসহিষ্ণুতা, বিদ্বেষ এবং সাম্প্রদায়িক প্রতিহিংসা সৃষ্টি করার চেষ্টা করছে। জেলা পুলিশের দাবি, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI) প্রযুক্তি ব্যবহার করেও বিভ্রান্তিকর কনটেন্ট তৈরি ও প্রচার করা হচ্ছে, যা প্রচলিত আইনের পরিপন্থী।
এ ঘটনায় প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে বলে জানিয়েছে জেলা পুলিশ। একই সঙ্গে সাইবার প্যাট্রোলিং টিমের মাধ্যমে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম সার্বক্ষণিকভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে বলেও বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে।
জেলা পুলিশ জনগণের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে, কোনো ধর্মীয় উস্কানিমূলক, সন্দেহজনক বা বিভ্রান্তিকর পোস্ট, ছবি কিংবা ভিডিও দেখলে তাতে লাইক, মন্তব্য বা শেয়ার না করার জন্য। পাশাপাশি কোনো তথ্য প্রচারের আগে নির্ভরযোগ্য উৎস থেকে তার সত্যতা যাচাই করার এবং এ ধরনের বিতর্কিত কনটেন্ট নজরে এলে দ্রুত নিকটস্থ থানাকে অবহিত করার অনুরোধ জানানো হয়েছে।
বিজ্ঞপ্তিতে গাইবান্ধাকে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির একটি জনপদ হিসেবে উল্লেখ করে বলা হয়, দীর্ঘদিন ধরে জেলার বিভিন্ন ধর্মাবলম্বী মানুষ পারস্পরিক শ্রদ্ধা, সহনশীলতা ও সম্প্রীতির মধ্য দিয়ে একসঙ্গে বসবাস করে আসছেন। সেই ঐতিহ্য অটুট রাখতে শান্তি, সম্প্রীতি ও আইন-শৃঙ্খলা রক্ষায় সকলকে দায়িত্বশীল আচরণ, সচেতনতা এবং পারস্পরিক সহযোগিতার আহ্বান জানিয়েছে গাইবান্ধা জেলা পুলিশ।
মতামত