নেত্রকোনা শহরে বিশ্বকাপ ফুটবলে আর্জেন্টিনার জয়ের আনন্দমিছিলের ভিডিও ধারণ করতে গিয়ে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে ভবনের ছাদ থেকে পড়ে দীপ্ত চৌধুরী (২৩) নামে এক হিন্দু যুবকের মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। তিনি নেত্রকোনা সরকারি কলেজের বাংলা বিভাগের সম্মান তৃতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী ছিলেন। তাঁর অকাল মৃত্যুতে পরিবার, সহপাঠী এবং স্থানীয়দের মধ্যে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
নিহত দীপ্ত চৌধুরী নেত্রকোনা শহরের মালিনী রোড এলাকার বাসিন্দা বাদল চৌধুরী ও শিউলী রায় দম্পতির একমাত্র ছেলে। পরিবারের একমাত্র সন্তানের এমন আকস্মিক মৃত্যুতে স্বজনদের আহাজারিতে এলাকায় হৃদয়বিদারক পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গতকাল রাতে বিশ্বকাপ ফুটবলের ম্যাচে ইংল্যান্ডকে ২-১ গোলে হারিয়ে আর্জেন্টিনা জয়লাভ করলে নেত্রকোনা শহরে সমর্থকদের উদ্যোগে আনন্দমিছিল বের হয়। সেই আনন্দমিছিলের ছবি ও ভিডিও ধারণের উদ্দেশ্যে শহরের ছোটবাজার এলাকার শহীদ মিনার মোড় সংলগ্ন একটি ভবনের দ্বিতীয় তলার ছাদে ওঠেন দীপ্ত চৌধুরী। এ সময় অসাবধানতাবশত তিনি পাশ দিয়ে চলে যাওয়া বৈদ্যুতিক তারের সংস্পর্শে এসে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হন। বিদ্যুতের আঘাতে ভারসাম্য হারিয়ে ভবনের ছাদ থেকে নিচে পড়ে গুরুতর আহত হন তিনি।
ঘটনার পর স্থানীয়রা দ্রুত তাঁকে উদ্ধার করে নেত্রকোনা ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেলা সদর হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন।
দীপ্ত চৌধুরীর মৃত্যুতে এলাকায় গভীর শোকের পরিবেশ বিরাজ করছে। একজন মেধাবী শিক্ষার্থী এবং পরিবারের একমাত্র সন্তানকে হারিয়ে তাঁর স্বজনরা শোকে মুহ্যমান। সহপাঠী ও পরিচিতজনরাও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শোক প্রকাশ করছেন এবং তাঁর পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানাচ্ছেন।
একটি ফুটবল ম্যাচের জয় উদযাপনের মুহূর্ত যে এমন হৃদয়বিদারক পরিণতি ডেকে আনতে পারে, দীপ্ত চৌধুরীর মৃত্যু সেই নির্মম বাস্তবতাই আবারও সামনে এনে দিয়েছে। জনসমাগম বা উৎসবের সময় ভবনের ছাদে ওঠা কিংবা বৈদ্যুতিক লাইনের কাছাকাছি অবস্থান করার ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বনের প্রয়োজনীয়তার বিষয়টিও এই দুর্ঘটনার মাধ্যমে নতুন করে আলোচনায় এসেছে।
মতামত