সন্তানদের সুমানুষ করতে আজীবন নিজের সর্বস্ব উজাড় করে দেওয়া একজন মা আজ নিজ রক্তের মানুষের কাছেই বোঝা হয়ে উঠেছেন। এই মর্মান্তিক ঘটনাটি কেবল একটি পরিবারের নীতিহীনতাই প্রকাশ করে না, বরং আমাদের সামাজিক মূল্যবোধ ও মানবিকতার গভীর অবক্ষয়কে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দেয়। বর্তমানে চরম স্বাস্থ্যঝুঁকিতে থাকা এই সনাতনী মায়ের আশু উন্নত চিকিৎসার জন্য সমাজের হৃদয়বান ব্যক্তি, মানবাধিকার কর্মী ও স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনগুলোকে দ্রুত এগিয়ে আসার উদাত্ত আহ্বান জানানো হচ্ছে।
"মারা গেলেও আসব না"—সরকারি চাকরিজীবী ছেলের অমানবিকতায় হাসপাতালের বেডে কাতরাচ্ছেন মা
চট্টগ্রামের বাঁশখালী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে দগ্ধ শরীর ও আশঙ্কাজনক অবস্থা নিয়ে গত চার দিন ধরে চিকিৎসাধীন রয়েছেন ষাটোর্ধ্ব লক্ষ্মী বালা। অগ্নিদগ্ধ হওয়ার পর তাঁর শারীরিক অবস্থার দ্রুত অবনতি ঘটায় কর্তব্যরত চিকিৎসকরা তাঁকে উন্নত চিকিৎসার জন্য স্থানান্তরের (রেফার) পরামর্শ দিয়েছেন। তবে চিকিৎসার জন্য অন্য হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার মতো কোনো আপনজন বা স্বজন আজ তাঁর পাশে নেই।
চার সন্তানের জননী লক্ষ্মী বালার এক মেয়ে ও তিন ছেলে রয়েছে। প্রাপ্ত তথ্যে জানা যায়, তাঁর এক ছেলে সরকারি চাকুরিজীবী হওয়া সত্ত্বেও এই সংকটময় মুহূর্তে কোনো সন্তানকেই মায়ের পাশে দেখতে পাওয়া যাচ্ছে না। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ স্বজনদের সাথে মুঠোফোনে বারবার যোগাযোগ করার চেষ্টা করলেও সন্তানরা ফোন রিসিভ করছেন না। এমনকি স্বজনদের মারফতে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, সন্তানরা অমানবিকতার চরম সীমা লঙ্ঘন করে জানিয়েছে—মা মারা গেলেও তারা লাশ নিতে আসবে না। (News copied from- 'হিন্দুস নিউজ') স্বজনদের এই নির্মম অবহেলার মাঝে হাসপাতালের বেডে চিকিৎসাধীন অসহায় এই বৃদ্ধা মায়ের দেখাশোনা করছেন পাশের বেডের অন্য রোগীদের স্বজনেরা। রক্তের কোনো সম্পর্ক না থাকা সত্ত্বেও কেবল মানবিকতার তাগিদে তারাই আজ লক্ষ্মী বালার একমাত্র ভরসা হয়ে দাঁড়িয়েছেন।
0.0%
0.0%
0.0%
0.0%
মতামত