দারিদ্র্যের চরম কষাঘাত, ভাঙাচোরা বেড়ার ঘর আর প্রদীপের মিটিমিটি আলো পেরিয়ে এক লড়াকু সনাতনী নারীর সফলতার শিখরে পৌঁছানোর গল্প শেষ পর্যন্ত এক করুণ ট্র্যাজেডিতে পরিণত হলো। অভাবকে তোয়াক্কা না করে এবং জীবনসংগ্রামে বিন্দুমাত্র পিছপা না হয়ে নিজের মেধা ও অদম্য ইচ্ছাশক্তিকে সম্বল করে ঘুরে দাঁড়িয়েছিলেন সদ্যপ্রয়াত নিপা দাস। ছোটবেলা থেকে বিদ্যুৎহীন ঘরে কুপি আর হারিকেনের আলোয় পড়াশোনা করে প্রতিকূলতার প্রতিটি প্রাচীর ভেঙেছেন তিনি। অদম্য এই সনাতনী নারী জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগ থেকে কৃতিত্বের সাথে উচ্চশিক্ষা শেষ করে বাংলাদেশ হাউস বিল্ডিং ফাইন্যান্স কর্পোরেশনে গুরুত্বপূর্ণ পদে কর্মরত ছিলেন। জীবনের প্রতিটি পদক্ষেপে তিনি দেখিয়েছেন কীভাবে প্রতিকূল পরিস্থিতির মুখে দাঁড়িয়ে নিজের অস্তিত্বকে টিকিয়ে রাখতে হয় এবং পরিবারের সবচেয়ে বড় আশ্রয় হয়ে উঠতে হয়।
(News copied from- 'হিন্দুস নিউজ')
নিজের ক্যারিয়ারে যেমন সাফল্য অর্জন করেছিলেন, ঠিক তেমনই পুরো পরিবারের দায়িত্ব নিঃসংকোচে নিজের কাঁধে তুলে নিয়েছিলেন নিপা। নিজের বেতনের সিংহভাগ খরচ করে মা-বাবার জন্য স্বপ্নের মাথা গোঁজার ঠাঁই গড়ে তোলার কাজে হাত দিয়ে এক অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছিলেন তিনি। কিন্তু নিয়তির নিষ্ঠুর পরিহাসে হঠাৎ অসুস্থতার থাবায় অকালেই নিভে গেল এই জীবনপ্রদীপ। গত ৬ আগস্ট অগণিত শুভাকাঙ্ক্ষী ও পরিবারকে গভীর শোকে ভাসিয়ে না-ফেরার দেশে চলে যান তিনি। তাঁর এই আকস্মিক ও হৃদয়বিদারক প্রয়াণে পরিবারটি আজ বাকরুদ্ধ ও এক গভীর অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে। এক সফল ও অদম্য সনাতনী মেয়ের এমন অকালপ্রস্থান কেবল তাঁর পরিবারের জন্যই নয়, বরং প্রতিটি সংগ্রামশীল পরিবারের হৃদয়ে সৃষ্টি করেছে এক গভীর ও বেদনাদায়ক ক্ষত।
মতামত