ইতিহাস গবেষক ও সংসংরক্ষণবাদীদের মতে, প্রাচীন এই মঠটি কেবল একটি ইট-পাথরের কাঠামো নয়, এটি বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকার বহুজাতিক ঐতিহ্য, সনাতনী ইতিহাস ও মানবাধিকার সংরক্ষণের এক জীবন্ত অঙ্গ। দেশের হাজার বছরের ঐতিহ্য ও ধর্মীয় স্মৃতিচিহ্ন রক্ষায় কার্যকর প্রশাসনিক উদ্যোগ গ্রহণ করা না হলে চিরতরে হারিয়ে যাবে ঐতিহাসিক এই স্মৃতিস্তম্ভটি। তাই পুরান ঢাকার ইতিহাসের এই গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়টিকে অনতিবিলম্বে সরকারিভাবে প্রত্নতাত্ত্বিক ঐতিহ্য হিসেবে ঘোষণা ও পূর্ণাঙ্গ সংস্কারের জন্য জোর দাবি জানিয়েছেন বিশিষ্টজনেরা।
ধ্বংসের মুখে পুরান ঢাকার ৪০০ বছরের প্রাচীন ঐতিহাসিক ৩৬ ফুট উচ্চতার মঠ
পুরান ঢাকার ঐতিহাসিক বকশীবাজার এলাকায় ঢাকা মেডিকেল কলেজের ড. ফজলে রাব্বি হল প্রাঙ্গণে আজও নীরব সাক্ষী হয়ে দাঁড়িয়ে আছে প্রায় তিনশ থেকে চারশ বছরের প্রাচীন এক ঐতিহাসিক শতবর্ষী মঠ। অনন্য স্থাপত্যশৈলীতে নির্মিত আনুমানিক ৩৬ ফুট উচ্চতার এই অবকাঠামোটি মূলত একটি 'আট-চালা' মঠ, যা একটি চার-চালা কাঠামোর ওপর অপর একটি চার-চালা ছাদ স্থাপন করে গড়ে তোলা হয়েছে। যদিও সাধারণ দর্শনার্থীরা প্রায়শই এটিকে প্রাচীন মন্দির হিসেবে ভুল করে থাকেন, তবে প্রকৃত সনাতন ধর্মীয় অনুশাসন ও ঐতিহ্য অনুযায়ী এটি কোনো দেবালয় নয়, বরং প্রয়াত কোনো বিশিষ্ট ব্যক্তির স্মৃতি সংরক্ষণে নির্মিত পরম শ্রদ্ধেয় স্মৃতিস্তম্ভ। মঠটির নান্দনিক কারুকাজ ও নির্মাণরীতির সাথে মুঘল স্থাপত্যশৈলীর অসামান্য সাদৃশ্য পরিলক্ষিত হয়, যা ঢাকা শহরের প্রাচীন সমৃদ্ধ সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য ও সনাতনী ইতিহাসের এক বিরল প্রতিফলন।
মুঘল যুগের ঐতিহ্য বহনকারী এই স্থাপত্যকে কেন্দ্র করে বকশীবাজার এলাকার প্রবীণ অধিবাসীদের মুখে মুখে আজও নানান লোকগাঁথা ও ভৌতিক কাহিনী প্রচলিত রয়েছে। স্থানীয় প্রবীণদের মতে, গভীর নিঝুম রাতে এই মঠ প্রাঙ্গণে সাদা শাড়ি পরিহিত এক রহস্যময়ী নারীমূর্তির বিচরণ লক্ষ্য করা যায়, যা আজও জনমনে এক অলৌকিক কৌতূহল ও রহস্যের সৃষ্টি করে রেখেছে। তবে লোককাহিনীর আড়ালে ঢাকা পড়ে যাচ্ছে এক নির্মম সত্য। শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে কালের সাক্ষী হয়ে টিকে থাকা এই অনন্য সনাতনী ঐতিহ্যটি আজ চরম অবহেলা ও তদারকির অভাবে ধ্বংসের শেষ প্রান্তে পৌঁছেছে। বর্তমানে মঠটির চারপাশ ও মূল অবকাঠামো সুবিশাল অশ্বত্থ গাছ ও ঘন লতা-গুল্মের শিকড়ে আচ্ছন্ন হয়ে প্রায় বিলীন হতে বসেছে। (News copied from- 'hindus news')
0.0%
0.0%
0.0%
0.0%
মতামত