উৎসবমুখর পরিবেশ ও সার্বিক নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে সারাদেশে আসন্ন শারদীয় দুর্গাপূজা উদযাপনের প্রস্তুতি চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছেছে। আসন্ন দুর্গোৎসবে এবার সারাদেশে ৩৩ হাজারের বেশি মণ্ডপে পূজা অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে, যা বিগত বছরের চেয়ে অন্তত এক হাজার বেশি। বুধবার আইনশৃঙ্খলা সংক্রান্ত ও দুর্গাপূজা প্রস্তুতিমূলক এক উচ্চপর্যায়ের বৈঠক শেষে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ সাংবাদিকদের জানান, সার্বিক নিরাপত্তা ও সামাজিক সম্প্রীতি বজায় থাকায় সনাতন ধর্মাবলম্বীরা এবার আশ্বস্ত বোধ করছেন। পূজামণ্ডপগুলোতে সার্বক্ষণিক পুলিশি নজরদারি এবং বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করার কথা ঘোষণা করে তিনি দাবি করেন, এ পর্যন্ত কোনো মণ্ডপই ঝুঁকিপূর্ণ নয় এবং বিচ্ছিন্ন প্রতিমা ভাঙচুরের খবরগুলোর অধিকাংশই মূলত ভিত্তিহীন বা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের অনাকাঙ্ক্ষিত অপপ্রচার। চাঁদাবাজ ও দুষ্কৃতকারীদের কোনো রাজনৈতিক পরিচয় বিবেচনা না করে কড়া আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন মন্ত্রী।
অন্যদিকে, হিন্দু সম্প্রদায়ের ধর্মীয় উৎসব যাতে সত্যিকার অর্থেই ভয়হীন ও উৎসবমুখর পরিবেশে সম্পন্ন হতে পারে, সে বিষয়ে জোর দাবি জানিয়েছে সনাতনী নেতৃত্ব। বৈঠকে উপস্থিত বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদের সাধারণ সম্পাদক সন্তোষ শর্মা সরকারের ছুটি বৃদ্ধি ও অর্থ বরাদ্দের ইতিবাচক সিদ্ধান্তের প্রশংসা করলেও হিন্দু সম্প্রদায়ের নিরাপত্তা ও মানবাধিকার রক্ষা নিয়ে গভীর উৎকণ্ঠা প্রকাশ করেন। দেশের কয়েকটি অঞ্চলে ঘটে যাওয়া প্রতিমা ভাঙচুরের অপ্রীতিকর ঘটনাগুলোর আনুষ্ঠানিক তথ্য স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর নিকট তুলে ধরে তিনি অনতিবিলম্বে এসব অপকর্মের সঙ্গে জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান। (News copied from- 'হিন্দুস নিউজ') একই সাথে পূজার প্রাক্কালে নিরীহ ও নির্দোষ সনাতনী মানুষদের যেন কোনো প্রকার অহেতুক হয়রানি বা মিথ্যা মামলায় গ্রেপ্তার না করা হয়, সে বিষয়ে প্রশাসনের নিরপেক্ষ ও দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের জোর আকুল আবেদন জানানো হয়। প্রতিটি নাগরিকের মৌলিক মানবাধিকার ও ধর্মীয় স্বাধীনতার সুরক্ষা নিশ্চিত করাই এখন সময়ের সর্বপ্রধান দাবি।
মতামত