চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে চন্দনা রানী শীল (২২) নামে এক তরুণীর হাত-পা বাঁধা মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। শুক্রবার (৯ অক্টোবর) সকালে উপজেলার বারৈয়াঢালা ইউনিয়নের টেরিয়াইল উচ্চবিদ্যালয়ের পেছনের একটি জমি থেকে তাঁর মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় নিহতের স্বামীসহ তিনজনকে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করেছে পুলিশ।
নিহতের পরিবারের সদস্যরা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া মরদেহের ছবি দেখে চন্দনাকে শনাক্ত করেন। পরে থানায় মেয়ের মরদেহ দেখতে গিয়ে কান্নায় ভেঙে পড়েন তাঁর বাবা তেজেন্দ্র দাশ ও মা আলো বালা দাশ। মেয়েকে হারিয়ে শোকাহত বাবা-মায়ের আহাজারিতে সেখানে এক হৃদয়বিদারক পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়।
চন্দনা সীতাকুণ্ড উপজেলার সৈয়দপুর ইউনিয়নের দক্ষিণ-পশ্চিম সৈয়দপুর এলাকার বাসিন্দা। প্রায় এক বছর আগে শিমুল শীলের সঙ্গে তাঁর বিয়ে হয়। বিয়ের পর থেকে যৌতুকের দাবিতে চন্দনাকে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন করা হতো বলে অভিযোগ করেছে তাঁর পরিবার।
পরিবারের দাবি, ঘটনার আগের দিন নির্যাতনের শিকার হয়ে চন্দনা বাবার বাড়িতে ফিরে এসেছিলেন। পরে তাঁর স্বামী তাঁকে আবার ডেকে নিয়ে যান। এরপরই তাঁর মরদেহ উদ্ধারের খবর আসে। তবে চন্দনার মৃত্যুর সঙ্গে পারিবারিক বিরোধের কোনো যোগসূত্র রয়েছে কি না, তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
পুলিশের প্রাথমিক ধারণা, চন্দনাকে শ্বাসরোধে হত্যা করা হয়ে থাকতে পারে। মরদেহের গলায় ওড়না জড়ানো ছিল এবং তাঁর হাত-পা বাঁধা অবস্থায় পাওয়া যায়। ঘটনার প্রকৃত কারণ নির্ধারণে তদন্ত চলছে।
পুলিশ জানিয়েছে, এ ঘটনায় চন্দনার স্বামী শিমুল শীলসহ তিনজনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করা হয়েছে। ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। তদন্ত ও ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর মৃত্যুর কারণ সম্পর্কে আরও বিস্তারিত জানা যাবে।
মতামত