হিন্দুস নিউজ

প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের লীলাভুমি শাপলার স্বর্গরাজ্য উজিরপুরের নয়নাভিরাম সাতলা বিল



প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের লীলাভুমি শাপলার স্বর্গরাজ্য উজিরপুরের নয়নাভিরাম সাতলা বিল
Hindus News Voice of Hinduism
আপনার পণ্য ও প্রতিষ্ঠানের বিজ্ঞাপন দিন Hindus News এ।

বরিশাল জেলার উজিরপুর উপজেলার সাতলা গ্রামটি এখন দেশের মানুষের কাছে ‘শাপলার স্বর্গরাজ্য গ্রাম’ নামে বেশি পরিচিত। এখানে রয়েছে বিস্তীর্ণ জলাভূমি, যাকে স্থানীয়রা শাপলার বিল বলে ডাকে। প্রায় ১০ হাজার একরের এই বিলজুড়ে ফুটে থাকে হাজার হাজার শাপলা ফুল; লাল, সাদা আর বেগুনি রঙের। সূর্য ওঠার আগের মুহূর্তে পুরো বিল যেন একটি লাল কার্পেটের মতো দেখায়, এই দৃশ্য যে কাউকে মুগ্ধ করবে।

সাতলা নামের মধ্যেই আছে এক অন্যরকম আদিমতা। প্রকৃতির যত সৌন্দর্য তার সবটুকুই আদিমতার মধ্যে। আধুনিকতার আড়ালে আজ অনেক বুনো সৌন্দর্য যেন বিলীন। তবে উজিরপুরের সাতলার শাপলা বিলটি এখনো ব্যতিক্রম। বলছি বরিশাল জেলার উজিপুরের নয়াকান্দি গ্রামের সাতলা বিলের কথা।

নীল আকাশে সাদা মেঘের ভেলা, নিচে বিলের কালচে পানির ওপর সবুজের ফাঁকে থরে থরে ফুটে আছে লাল শাপলা। সবকিছু মিলিয়ে প্রকৃতিকে ভিন্ন এক রূপে সাজিয়ে তোলা হয়েছে যেন রং-তুলির আঁচরে।

Hindus News Voice of Hinduism
আপনার পণ্য ও প্রতিষ্ঠানের বিজ্ঞাপন দিন Hindus News এ।

তাই যেন সৌন্দর্যমণ্ডিত বরিশালের আগৈলঝাড়া উপজেলার বাগধা ও উজিরপুর উপজেলার সাতলার এ লাল শাপলার বিলে পর্যটকদের ভিড় প্রতিনিয়ত বাড়ছে।

এমন সময়টাতে সপ্তাহের সাত দিনেই ভোর থেকে পর্যটকদের পদচারণায় মুখরিত হয়ে উঠছে বিস্তীর্ণ লাল শাপলার বিল এলাকা।

প্রায় ১০ হাজার একরেরও বেশি বিস্তীর্ণ এলাকা নিয়ে গড়ে ওঠা সাতলার শাপলা বিল। যে বিলের পানিতে ঘুরে বেড়িয়ে মুগ্ধ হচ্ছেন পর্যটকরা। তবে এখানে যে শুধু লাল শাপলা বা প্রকৃতির সবুজ রংয়ের সমারোহই ঘটেছে এমনটাও নয়, এখানে লাল শাপলার মাঝেই দেখা মিলছে সাদা শাপলা, সাদা বক, দেশীয় বিভিন্ন প্রজাতির পাখি।

শাপলার স্নিগ্ধতায় যুগে যুগে মোহিত হয়েছেন প্রকৃতিপ্রেমী মানুষেরা। কবিতা, গল্প, উপন্যাসে আছে যার প্রকাশ। আর এখন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও তার প্রকাশ দেখা যায়।

স্থানীয়রা বলছেন, বর্ষার ছয় মাস নিচু জমিতে কখনও হাটু আবার কখনও কোমর পানি থাকে। আর এতেই প্রকৃতির এই দান লাল শাপলা ফোঁটে। জুলাইয়ের শেষ দিক থেকে শুরু করে নভেম্বরের প্রথম সপ্তাহ পর্যন্ত বিলে শাপলা বেশি থাকে। দুর্গাপূজার আগ পর্যন্ত অনেকে এ শাপলা তরকারি হিসেবে খাওয়ার জন্য বিক্রি করেও জীবিকা নির্বাহ করে। তবে সেপ্টেম্বরের শেষ থেকে নভেম্বরের শুরু পর্যন্ত প্রায় দুই মাস শাপলা বিলে পর্যটকদের আনাগোনা বেশি হয়।


তবে সূর্যদয়ের সঙ্গে সঙ্গে কিছু সময়ের জন্য নিজেকে মেলে ধরে লাল শাপলাগুলো আবার সূর্য মাথার ওপর উঠতেই ধীরে ধীরে নিজেকে আবার গুটিয়ে নেয়। আর তাইতো শাপলা বিলের সৌন্দর্য উপভোগ করতে হলে যেতে হবে সূর্য প্রখর হওয়ার আগে। প্রকৃতির নিয়মকানুন যারা জানেন বা বোঝার চেষ্টা করেন, তারাই শাপলার সৌন্দর্যে মুগ্ধ হতে ভোরেই হাজির হয়ে যান বিলে। ছোট ছোট নৌকায় করে বিলজুড়ে ঘুরে বেড়ানোই এখানে আনন্দ যোগায়।

স্থানীয় বাসিন্দা সমীরন বলেন, বরিশাল নগর থেকে সড়কপথে এ শাপলার বিলের দূরত্ব দুদিক থেকে দুরকম। বরিশাল নথুল্লাবাদ থেকে বাসে শিকারপুর অটো ভাড়া করে সাতলা যেতে পারবেন কিংবা বরিশাল নথুল্লাবাদ বাসস্ট্যান্ড থেকে সাতলা ও বাগদা গ্রামে যাওয়ার সরাসরি বাস সার্ভিসে ২ ঘন্টায় পৌঁছে যেতে পারবেন আপনার গন্তব্যে।

লাল শাপলার বিল এলাকায় এখনো তেমন কোনো আবাসন সুবিধা গড়ে ওঠেনি। তবে বিল এলাকায় বসবাসকারী পরিবারগুলো পর্যটকদের সুবিধার জন্য তাদের ঘর ভাড়া দিয়ে থাকেন। এ ছাড়া বরিশাল শহরে থাকার জন্য আছে থ্রি স্টার সমমানসহ অর্ধশত আবাসিক হোটেল। এ ছাড়া সরকারি ও বেসরকারি দফতরের রেস্ট হাউস পাওয়া যায়। ৫০০ টাকা থেকে শুরু করে ২০ হাজার টাকার মধ্যে ওই সব আবাসিক হোটেল ও রেস্ট হাউসের রুম ভাড়া পাওয়া যায়।

0.0%
0.0%
0.0%
0.0%

মতামত

হিন্দুস নিউজ

রোববার, ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬


প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের লীলাভুমি শাপলার স্বর্গরাজ্য উজিরপুরের নয়নাভিরাম সাতলা বিল

প্রকাশের তারিখ : ০৫ জানুয়ারি ২০২৬

featured Image

বরিশাল জেলার উজিরপুর উপজেলার সাতলা গ্রামটি এখন দেশের মানুষের কাছে ‘শাপলার স্বর্গরাজ্য গ্রাম’ নামে বেশি পরিচিত। এখানে রয়েছে বিস্তীর্ণ জলাভূমি, যাকে স্থানীয়রা শাপলার বিল বলে ডাকে। প্রায় ১০ হাজার একরের এই বিলজুড়ে ফুটে থাকে হাজার হাজার শাপলা ফুল; লাল, সাদা আর বেগুনি রঙের। সূর্য ওঠার আগের মুহূর্তে পুরো বিল যেন একটি লাল কার্পেটের মতো দেখায়, এই দৃশ্য যে কাউকে মুগ্ধ করবে।

সাতলা নামের মধ্যেই আছে এক অন্যরকম আদিমতা। প্রকৃতির যত সৌন্দর্য তার সবটুকুই আদিমতার মধ্যে। আধুনিকতার আড়ালে আজ অনেক বুনো সৌন্দর্য যেন বিলীন। তবে উজিরপুরের সাতলার শাপলা বিলটি এখনো ব্যতিক্রম। বলছি বরিশাল জেলার উজিপুরের নয়াকান্দি গ্রামের সাতলা বিলের কথা।

নীল আকাশে সাদা মেঘের ভেলা, নিচে বিলের কালচে পানির ওপর সবুজের ফাঁকে থরে থরে ফুটে আছে লাল শাপলা। সবকিছু মিলিয়ে প্রকৃতিকে ভিন্ন এক রূপে সাজিয়ে তোলা হয়েছে যেন রং-তুলির আঁচরে।

তাই যেন সৌন্দর্যমণ্ডিত বরিশালের আগৈলঝাড়া উপজেলার বাগধা ও উজিরপুর উপজেলার সাতলার এ লাল শাপলার বিলে পর্যটকদের ভিড় প্রতিনিয়ত বাড়ছে।

এমন সময়টাতে সপ্তাহের সাত দিনেই ভোর থেকে পর্যটকদের পদচারণায় মুখরিত হয়ে উঠছে বিস্তীর্ণ লাল শাপলার বিল এলাকা।

প্রায় ১০ হাজার একরেরও বেশি বিস্তীর্ণ এলাকা নিয়ে গড়ে ওঠা সাতলার শাপলা বিল। যে বিলের পানিতে ঘুরে বেড়িয়ে মুগ্ধ হচ্ছেন পর্যটকরা। তবে এখানে যে শুধু লাল শাপলা বা প্রকৃতির সবুজ রংয়ের সমারোহই ঘটেছে এমনটাও নয়, এখানে লাল শাপলার মাঝেই দেখা মিলছে সাদা শাপলা, সাদা বক, দেশীয় বিভিন্ন প্রজাতির পাখি।

শাপলার স্নিগ্ধতায় যুগে যুগে মোহিত হয়েছেন প্রকৃতিপ্রেমী মানুষেরা। কবিতা, গল্প, উপন্যাসে আছে যার প্রকাশ। আর এখন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও তার প্রকাশ দেখা যায়।

স্থানীয়রা বলছেন, বর্ষার ছয় মাস নিচু জমিতে কখনও হাটু আবার কখনও কোমর পানি থাকে। আর এতেই প্রকৃতির এই দান লাল শাপলা ফোঁটে। জুলাইয়ের শেষ দিক থেকে শুরু করে নভেম্বরের প্রথম সপ্তাহ পর্যন্ত বিলে শাপলা বেশি থাকে। দুর্গাপূজার আগ পর্যন্ত অনেকে এ শাপলা তরকারি হিসেবে খাওয়ার জন্য বিক্রি করেও জীবিকা নির্বাহ করে। তবে সেপ্টেম্বরের শেষ থেকে নভেম্বরের শুরু পর্যন্ত প্রায় দুই মাস শাপলা বিলে পর্যটকদের আনাগোনা বেশি হয়।


তবে সূর্যদয়ের সঙ্গে সঙ্গে কিছু সময়ের জন্য নিজেকে মেলে ধরে লাল শাপলাগুলো আবার সূর্য মাথার ওপর উঠতেই ধীরে ধীরে নিজেকে আবার গুটিয়ে নেয়। আর তাইতো শাপলা বিলের সৌন্দর্য উপভোগ করতে হলে যেতে হবে সূর্য প্রখর হওয়ার আগে। প্রকৃতির নিয়মকানুন যারা জানেন বা বোঝার চেষ্টা করেন, তারাই শাপলার সৌন্দর্যে মুগ্ধ হতে ভোরেই হাজির হয়ে যান বিলে। ছোট ছোট নৌকায় করে বিলজুড়ে ঘুরে বেড়ানোই এখানে আনন্দ যোগায়।

স্থানীয় বাসিন্দা সমীরন বলেন, বরিশাল নগর থেকে সড়কপথে এ শাপলার বিলের দূরত্ব দুদিক থেকে দুরকম। বরিশাল নথুল্লাবাদ থেকে বাসে শিকারপুর অটো ভাড়া করে সাতলা যেতে পারবেন কিংবা বরিশাল নথুল্লাবাদ বাসস্ট্যান্ড থেকে সাতলা ও বাগদা গ্রামে যাওয়ার সরাসরি বাস সার্ভিসে ২ ঘন্টায় পৌঁছে যেতে পারবেন আপনার গন্তব্যে।

লাল শাপলার বিল এলাকায় এখনো তেমন কোনো আবাসন সুবিধা গড়ে ওঠেনি। তবে বিল এলাকায় বসবাসকারী পরিবারগুলো পর্যটকদের সুবিধার জন্য তাদের ঘর ভাড়া দিয়ে থাকেন। এ ছাড়া বরিশাল শহরে থাকার জন্য আছে থ্রি স্টার সমমানসহ অর্ধশত আবাসিক হোটেল। এ ছাড়া সরকারি ও বেসরকারি দফতরের রেস্ট হাউস পাওয়া যায়। ৫০০ টাকা থেকে শুরু করে ২০ হাজার টাকার মধ্যে ওই সব আবাসিক হোটেল ও রেস্ট হাউসের রুম ভাড়া পাওয়া যায়।


হিন্দুস নিউজ

প্রকাশক & সম্পাদক: শুভ চন্দ্র দে
HINDUS NEWS মিডিয়া লিমিটেডের পক্ষে প্রকাশক কর্তৃক ঢাকা থেকে প্রকাশিত

প্রকাশক & সম্পাদক: শুভ চন্দ্র দে,🔴HINDUS NEWS মিডিয়া লিমিটেডের পক্ষে প্রকাশক কর্তৃক ঢাকা থেকে প্রকাশিত।🔴যোগাযোগ: +88 01890890920🔴 ই-মেইল: news@hindus.news 🔴 বিজ্ঞাপন: ads@hindus.news
প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের লীলাভুমি শাপলার স্বর্গরাজ্য উজিরপুরের নয়নাভিরাম সাতলা বিল
0:00 0:00
1.0x