নতুন নির্দেশনায় যা বলা হয়েছে
জুয়েলারি অ্যাসোসিয়েশনের নির্দেশনায় বলা হয়েছে, নারী বা পুরুষ নির্বিশেষে কাউকেই মুখ ঢাকা অবস্থায় দোকানে প্রবেশ করতে দেওয়া হবে না। হিজাব, নিকাব ও বোরকার পাশাপাশি মাস্ক, হেলমেট, মাফলার বা ওড়না দিয়ে মুখ আংশিক বা সম্পূর্ণ ঢাকা থাকাও এই নিষেধাজ্ঞার আওতায় পড়বে। ইতিমধ্যেই পাটনা, মুজাফফরপুর ও দারভাঙ্গাসহ বিভিন্ন জেলায় সোনার দোকানগুলোর সামনে ‘প্রবেশ নিষেধ’ সম্বলিত পোস্টার টাঙানো হয়েছে। পোস্টারে স্পষ্টভাবে লেখা রয়েছে, "যদি কোনো গ্রাহক মুখ ঢেকে রাখেন, তবে কোনো ধরনের কেনাবেচা করা হবে না।"
ব্যবসায়ীদের যুক্তি ও নিরাপত্তা
জুয়েলারি মালিকদের দাবি, সাম্প্রতিক সময়ে বিহারে স্বর্ণের দোকানগুলোতে চুরি ও ডাকাতির ঘটনা আশঙ্কাজনক হারে বেড়েছে। অপরাধীরা প্রায়ই মুখ ঢেকে বা বোরকা পরে দোকানে প্রবেশ করে, ফলে সিসিটিভিতে তাদের শনাক্ত করা কঠিন হয়ে পড়ে। এক ব্যবসায়ী ইন্ডিয়া টুডেকে জানান, “এই সিদ্ধান্তটি শুধুমাত্র দোকান, কর্মচারী এবং গ্রাহকদের নিরাপত্তার স্বার্থে নেওয়া হয়েছে। গ্রাহকরা মুখ খোলার পরই কেবল ভেতরে প্রবেশের অনুমতি পাবেন।”
জনপ্রতিনিধিদের প্রতিক্রিয়া
সমস্তিপুরের সংসদ সদস্য শাম্ভবী চৌধুরী এই বিতর্কের বিষয়ে মন্তব্য করে বলেন, “এই সিদ্ধান্তকে ধর্মীয় বা জাতিগত দৃষ্টিকোণ থেকে দেখা উচিত নয়। এটি সম্পূর্ণ নিরাপত্তার বিষয়। এই নিষেধাজ্ঞা শুধু বোরকা বা হিজাবের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; হেলমেট এবং যেকোনো ধরনের মুখ ঢাকা এর অন্তর্ভুক্ত।” তিনি জনসাধারণকে বিষয়টিকে কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা হিসেবে দেখার আহ্বান জানান।
চলমান পরিস্থিতি
ইন্ডিয়া টুডের প্রতিবেদন অনুযায়ী, মুজাফফরপুরের ঐতিহ্যবাহী সরাফা বাজার ও দারভাঙ্গার বিভিন্ন মার্কেটে ইতিমধ্যেই কড়াকড়ি শুরু হয়েছে। নিরাপত্তার খাতিরে নেওয়া এই সিদ্ধান্ত শেষ পর্যন্ত রাজ্যে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির ওপর কেমন প্রভাব ফেলে, তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন সমাজবিজ্ঞানীরা।
মতামত