সচেতন মহলের মতে, পিতামাতা নিজ কন্যাকে উপহার দেবেন—এটি স্বাভাবিক। কিন্তু যখন সেই উপহার না দেওয়া বা কম দেওয়াকে ‘দৃষ্টিকটু’ বা ‘বাঁকা চোখে’ দেখা হয়, তখন তা আর উপহার থাকে না; তা হয়ে ওঠে বাধ্যতামূলক বোঝা। বিষয়টিকে অনেকটা রেস্টুরেন্টে বাধ্যতামূলক টিপস দেওয়ার সংস্কৃতির সঙ্গে তুলনা করা হচ্ছে, যেখানে স্বেচ্ছায় দেওয়ার সুযোগ থাকলেও না দিলে সামাজিকভাবে হেয় হওয়ার ভয় কাজ করে।
বর্তমান বাজারে দ্রব্যমূল্যের লাগামহীন উর্ধ্বগতি এবং স্বর্ণের আকাশচুম্বী দামের এই সময়ে বিয়ের এমন জাঁকজমকপূর্ণ আয়োজন সাধারণ পরিবারের কপালে গভীর চিন্তার ভাঁজ ফেলছে। "বিয়েতে এমন আয়োজন করতেই হবে" বা "এটা দেয়নি কেন"—সমাজের এমন মানসিকতা মধ্যবিত্ত ও নিম্ন মধ্যবিত্ত অভিভাবকদের ঠেলে দিচ্ছে চরম হীনমন্যতায়।
এই পরিস্থিতি থেকে উত্তরণের জন্য বিবাহে মাত্রাতিরিক্ত ব্যয় হ্রাসের জোরালো দাবি উঠছে। সচেতন নাগরিকরা মনে করছেন, বিয়ের নামে অর্থের এই অপচয় ও প্রদর্শনী বন্ধ করা জরুরি। মন্দিরভিত্তিক বা ধর্মীয় উপাসনালয় কেন্দ্রিক অনাড়ম্বর বিয়ের আয়োজন করা হলে এই বিপুল অপচয় ও সামাজিক চাপ বহুলাংশে হ্রাস পাবে।
বিবাহকে একটি সহজ ও পবিত্র সংস্কার হিসেবে পুনঃপ্রতিষ্ঠা করতে এবং ‘অদৃশ্য যৌতুকের’ ছায়া থেকে সমাজকে মুক্ত করতে সামাজিক দৃষ্টিভঙ্গির পরিবর্তন এখন সময়ের দাবি।
মতামত