হিন্দুস নিউজ

বিয়ে এখন ‘অর্থবিত্তের ঝনঝনানি’: অদৃশ্য যৌতুক ও সামাজিক চাপে পিষ্ট মধ্যবিত্ত


| প্রিন্ট সংস্করণ

বিয়ে এখন ‘অর্থবিত্তের ঝনঝনানি’: অদৃশ্য যৌতুক ও সামাজিক চাপে পিষ্ট মধ্যবিত্ত
Hindus News Voice of Hinduism
আপনার পণ্য ও প্রতিষ্ঠানের বিজ্ঞাপন দিন Hindus News এ।
মানবসভ্যতার অন্যতম প্রাচীন ও পবিত্র সংস্কার বিবাহ আজ রূপ নিয়েছে বিত্তবৈভবের প্রদর্শনীতে। বৈদিক রীতি অনুযায়ী বিবাহ একটি দৈবকার্য এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্ম গড়ার পবিত্র সোপান হলেও, বর্তমান সময়ে এটি শুধুই অর্থের ঝনঝনানি আর আভিজাত্যের প্রতীকে পরিণত হয়েছে। ফলে আনন্দের এই দিনটি অনেক ক্ষেত্রে দরিদ্র ও মধ্যবিত্ত পরিবারের জন্য হতাশার কারণ হয়ে দাঁড়াচ্ছে।


সামাজিক প্রেক্ষাপট পর্যালোচনায় দেখা যায়, সময়ের বিবর্তনে সরাসরি ‘যৌতুক’ প্রথা অনেকটা হ্রাস পেলেও এর স্থান দখল করেছে নতুন এক ‘অদৃশ্য যৌতুক’ সংস্কৃতি। সমাজ বিশ্লেষকদের মতে, বর্তমানে যৌতুকের দাবি কমেছে ঠিকই, কিন্তু মেয়ের বাড়ি থেকে ঘর সাজিয়ে দেওয়ার নামে লক্ষ টাকার ফার্নিচার কিংবা কনেকে ভারী স্বর্ণালংকারে মুড়িয়ে দেওয়ার এক অলিখিত প্রতিযোগিতা শুরু হয়েছে।

সচেতন মহলের মতে, পিতামাতা নিজ কন্যাকে উপহার দেবেন—এটি স্বাভাবিক। কিন্তু যখন সেই উপহার না দেওয়া বা কম দেওয়াকে ‘দৃষ্টিকটু’ বা ‘বাঁকা চোখে’ দেখা হয়, তখন তা আর উপহার থাকে না; তা হয়ে ওঠে বাধ্যতামূলক বোঝা। বিষয়টিকে অনেকটা রেস্টুরেন্টে বাধ্যতামূলক টিপস দেওয়ার সংস্কৃতির সঙ্গে তুলনা করা হচ্ছে, যেখানে স্বেচ্ছায় দেওয়ার সুযোগ থাকলেও না দিলে সামাজিকভাবে হেয় হওয়ার ভয় কাজ করে।

বর্তমান বাজারে দ্রব্যমূল্যের লাগামহীন উর্ধ্বগতি এবং স্বর্ণের আকাশচুম্বী দামের এই সময়ে বিয়ের এমন জাঁকজমকপূর্ণ আয়োজন সাধারণ পরিবারের কপালে গভীর চিন্তার ভাঁজ ফেলছে। "বিয়েতে এমন আয়োজন করতেই হবে" বা "এটা দেয়নি কেন"—সমাজের এমন মানসিকতা মধ্যবিত্ত ও নিম্ন মধ্যবিত্ত অভিভাবকদের ঠেলে দিচ্ছে চরম হীনমন্যতায়।

Hindus News Voice of Hinduism
আপনার পণ্য ও প্রতিষ্ঠানের বিজ্ঞাপন দিন Hindus News এ।

এই পরিস্থিতি থেকে উত্তরণের জন্য বিবাহে মাত্রাতিরিক্ত ব্যয় হ্রাসের জোরালো দাবি উঠছে। সচেতন নাগরিকরা মনে করছেন, বিয়ের নামে অর্থের এই অপচয় ও প্রদর্শনী বন্ধ করা জরুরি। মন্দিরভিত্তিক বা ধর্মীয় উপাসনালয় কেন্দ্রিক অনাড়ম্বর বিয়ের আয়োজন করা হলে এই বিপুল অপচয় ও সামাজিক চাপ বহুলাংশে হ্রাস পাবে।

বিবাহকে একটি সহজ ও পবিত্র সংস্কার হিসেবে পুনঃপ্রতিষ্ঠা করতে এবং ‘অদৃশ্য যৌতুকের’ ছায়া থেকে সমাজকে মুক্ত করতে সামাজিক দৃষ্টিভঙ্গির পরিবর্তন এখন সময়ের দাবি।

0.0%
0.0%
0.0%
0.0%

মতামত

হিন্দুস নিউজ

রোববার, ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬


বিয়ে এখন ‘অর্থবিত্তের ঝনঝনানি’: অদৃশ্য যৌতুক ও সামাজিক চাপে পিষ্ট মধ্যবিত্ত

প্রকাশের তারিখ : ১১ জানুয়ারি ২০২৬

featured Image
মানবসভ্যতার অন্যতম প্রাচীন ও পবিত্র সংস্কার বিবাহ আজ রূপ নিয়েছে বিত্তবৈভবের প্রদর্শনীতে। বৈদিক রীতি অনুযায়ী বিবাহ একটি দৈবকার্য এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্ম গড়ার পবিত্র সোপান হলেও, বর্তমান সময়ে এটি শুধুই অর্থের ঝনঝনানি আর আভিজাত্যের প্রতীকে পরিণত হয়েছে। ফলে আনন্দের এই দিনটি অনেক ক্ষেত্রে দরিদ্র ও মধ্যবিত্ত পরিবারের জন্য হতাশার কারণ হয়ে দাঁড়াচ্ছে।


সামাজিক প্রেক্ষাপট পর্যালোচনায় দেখা যায়, সময়ের বিবর্তনে সরাসরি ‘যৌতুক’ প্রথা অনেকটা হ্রাস পেলেও এর স্থান দখল করেছে নতুন এক ‘অদৃশ্য যৌতুক’ সংস্কৃতি। সমাজ বিশ্লেষকদের মতে, বর্তমানে যৌতুকের দাবি কমেছে ঠিকই, কিন্তু মেয়ের বাড়ি থেকে ঘর সাজিয়ে দেওয়ার নামে লক্ষ টাকার ফার্নিচার কিংবা কনেকে ভারী স্বর্ণালংকারে মুড়িয়ে দেওয়ার এক অলিখিত প্রতিযোগিতা শুরু হয়েছে।

সচেতন মহলের মতে, পিতামাতা নিজ কন্যাকে উপহার দেবেন—এটি স্বাভাবিক। কিন্তু যখন সেই উপহার না দেওয়া বা কম দেওয়াকে ‘দৃষ্টিকটু’ বা ‘বাঁকা চোখে’ দেখা হয়, তখন তা আর উপহার থাকে না; তা হয়ে ওঠে বাধ্যতামূলক বোঝা। বিষয়টিকে অনেকটা রেস্টুরেন্টে বাধ্যতামূলক টিপস দেওয়ার সংস্কৃতির সঙ্গে তুলনা করা হচ্ছে, যেখানে স্বেচ্ছায় দেওয়ার সুযোগ থাকলেও না দিলে সামাজিকভাবে হেয় হওয়ার ভয় কাজ করে।

বর্তমান বাজারে দ্রব্যমূল্যের লাগামহীন উর্ধ্বগতি এবং স্বর্ণের আকাশচুম্বী দামের এই সময়ে বিয়ের এমন জাঁকজমকপূর্ণ আয়োজন সাধারণ পরিবারের কপালে গভীর চিন্তার ভাঁজ ফেলছে। "বিয়েতে এমন আয়োজন করতেই হবে" বা "এটা দেয়নি কেন"—সমাজের এমন মানসিকতা মধ্যবিত্ত ও নিম্ন মধ্যবিত্ত অভিভাবকদের ঠেলে দিচ্ছে চরম হীনমন্যতায়।

এই পরিস্থিতি থেকে উত্তরণের জন্য বিবাহে মাত্রাতিরিক্ত ব্যয় হ্রাসের জোরালো দাবি উঠছে। সচেতন নাগরিকরা মনে করছেন, বিয়ের নামে অর্থের এই অপচয় ও প্রদর্শনী বন্ধ করা জরুরি। মন্দিরভিত্তিক বা ধর্মীয় উপাসনালয় কেন্দ্রিক অনাড়ম্বর বিয়ের আয়োজন করা হলে এই বিপুল অপচয় ও সামাজিক চাপ বহুলাংশে হ্রাস পাবে।

বিবাহকে একটি সহজ ও পবিত্র সংস্কার হিসেবে পুনঃপ্রতিষ্ঠা করতে এবং ‘অদৃশ্য যৌতুকের’ ছায়া থেকে সমাজকে মুক্ত করতে সামাজিক দৃষ্টিভঙ্গির পরিবর্তন এখন সময়ের দাবি।


হিন্দুস নিউজ

প্রকাশক & সম্পাদক: শুভ চন্দ্র দে
HINDUS NEWS মিডিয়া লিমিটেডের পক্ষে প্রকাশক কর্তৃক ঢাকা থেকে প্রকাশিত

প্রকাশক & সম্পাদক: শুভ চন্দ্র দে,🔴HINDUS NEWS মিডিয়া লিমিটেডের পক্ষে প্রকাশক কর্তৃক ঢাকা থেকে প্রকাশিত।🔴যোগাযোগ: +88 01890890920🔴 ই-মেইল: news@hindus.news 🔴 বিজ্ঞাপন: ads@hindus.news
বিয়ে এখন ‘অর্থবিত্তের ঝনঝনানি’: অদৃশ্য যৌতুক ও সামাজিক চাপে পিষ্ট মধ্যবিত্ত
0:00 0:00
1.0x