বাংলাদেশে সংখ্যালঘু হিন্দু সম্প্রদায়ের ওপর চলমান নির্যাতন ও হামলার ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের কাছে চিঠি পাঠিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিক ও ইনফ্লুয়েন্সার শায়ন এ কৃষ্ণ। চিঠিতে তিনি বাংলাদেশে হিন্দুদের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে যুক্তরাষ্ট্রের সরাসরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন। একইসাথে দিপু দাস হত্যার বিচারের দাবিও জোরালোভাবে উত্থাপন করা হয়েছে।
গত ১৯ ডিসেম্বর, ২০২৫ তারিখ উল্লেখ করে লেখা এই চিঠিতে শায়ন কৃষ্ণ নিজেকে আমেরিকার ‘সবচেয়ে বড় হিন্দু ইনফ্লুয়েন্সার’ এবং বিশ্বজুড়ে হিন্দুদের কণ্ঠস্বর হিসেবে দাবি করেন।
চিঠিতে যা বলা হয়েছে
হোয়াইট হাউজের ঠিকানায় পাঠানো এই চিঠিতে শায়ন কৃষ্ণ উল্লেখ করেন, "বাংলাদেশে হিন্দুদের পরিস্থিতি অত্যন্ত গুরুতর হয়ে উঠছে। শুধুমাত্র ধর্মের কারণে তাদেরকে লক্ষ্যবস্তু করা হচ্ছে, হামলা চালানো হচ্ছে এবং ভয়ের মধ্যে দিন কাটাতে বাধ্য করা হচ্ছে। এটি সুস্পষ্ট ধর্মীয় নিপীড়ন, যা আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় কোনোভাবেই উপেক্ষা করতে পারে না।"
তিনি আরও বলেন, "আফ্রিকান দেশগুলোতে নির্যাতিত খ্রিস্টানদের পক্ষে দাঁড়ানোর জন্য আমি আপনাকে ধন্যবাদ জানাই। আপনার সেই নেতৃত্ব বিশ্বকে বার্তা দিয়েছিল যে ধর্মীয় নিপীড়ন রুখে দাঁড়ানো জরুরি। ঠিক একই মানসিকতা নিয়ে বাংলাদেশের হিন্দুদের পাশে দাঁড়ানোর জন্য আমি আপনাকে অনুরোধ করছি।"
দিপু দাস হত্যার বিচার দাবি
চিঠির মূল বিষয়বস্তুর পাশাপাশি শায়ন কৃষ্ণ বাংলাদেশে দিপু দাস নামক এক ব্যক্তির নির্মম হত্যার বিচার চেয়ে সরব হয়েছেন। তিনি এবং তার অনুসারীরা দাবি জানিয়েছেন, অবিলম্বে যেন এই হত্যাকাণ্ডের সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচার নিশ্চিত করা হয়।
ট্রাম্পের কাছে আর্জি
চিঠির শেষাংশে শায়ন কৃষ্ণ ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রতি আহ্বান জানান, যেন তিনি আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে এই বিষয়টি তুলে ধরেন। তিনি বাংলাদেশ সরকারকে হিন্দুদের ওপর হামলা বন্ধ করতে এবং তাদের মৌলিক অধিকার ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে চাপ প্রয়োগের অনুরোধ জানান।
চিঠিতে শায়ন উল্লেখ করেন, "গভীর শ্রদ্ধা ও সম্মানের সাথে এই চিঠি লেখা হয়েছে, এই আশায় যে—আজ যারা সহিংসতার শিকার হচ্ছেন, সেই হিন্দুদের জন্য আপনি কঠোর অবস্থান নেবেন।"

মতামত