আফগানিস্তানের রাজধানী কাবুলে একটি চীনা রেস্টুরেন্টে সংঘটিত ভয়াবহ বিস্ফোরণের দায় স্বীকার করেছে জঙ্গি সংগঠন ইসলামিক স্টেট (আইএস)। সংগঠনটি এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, এটি ছিল একটি আত্মঘাতী হামলা, যার মূল লক্ষ্য ছিল চীনা নাগরিকরা।
কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার বরাতে জানা যায়, বিস্ফোরক ভেস্ট পরিহিত এক হামলাকারী কাবুলের শাহর-ই-নাও এলাকার একটি জনপ্রিয় চীনা রেস্টুরেন্টে প্রবেশ করে এবং ভেতরে ঢুকেই বিস্ফোরণ ঘটায়। শাহর-ই-নাও এলাকাটি কাবুলের অন্যতম নিরাপদ অঞ্চল হিসেবে পরিচিত।
আইএসের দাবি অনুযায়ী, চীনে উইঘুর মুসলমানদের ওপর কথিত নিপীড়নের প্রতিশোধ হিসেবেই এই হামলা চালানো হয়েছে। জঙ্গি সংগঠনটি আরও জানায়, তারা ইচ্ছাকৃতভাবেই চীনা নাগরিকদের লক্ষ্যবস্তু করেছে।
এই হামলায় অন্তত একজন চীনা নাগরিকসহ মোট সাতজন নিহত হয়েছেন। এছাড়া শিশুসহ আরও ১৩ জন গুরুতর আহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে স্থানীয় স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষ। আহতদের কাবুলের বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
ঘটনার পরপরই আফগান নিরাপত্তা বাহিনী এলাকা ঘিরে ফেলে এবং তদন্ত শুরু করে। তালেবান প্রশাসন হামলার নিন্দা জানিয়ে দায়ীদের দ্রুত গ্রেপ্তারের আশ্বাস দিয়েছে। তবে কাবুলে বারবার এমন হামলা দেশটির নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করেছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, আফগানিস্তানে চীনের অর্থনৈতিক ও কূটনৈতিক উপস্থিতি বৃদ্ধির প্রেক্ষাপটে আইএস-এর এই হামলা তাৎপর্যপূর্ণ। এর ফলে দেশটিতে বিদেশি নাগরিকদের নিরাপত্তা নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলে উদ্বেগ আরও বেড়েছে।
মতামত